ওসির বিরুদ্ধে এসপির কাছে নালিশ দিলেন রুমিন ফারহানা

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মনজুর কাদের ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে পুলিশ সুপারের কাছে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। শনিবার (২৪ অক্টোবর) বিকেলে রুমিন ফারহানার ব্যক্তিগত সহকারী জাকির হোসেন শুভ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

লিখিত অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার মু. জালাল উদ্দিন ফাহিম।

এরআগে, ওসির সাথে রুমিন ফারহানার বাদানুবাদের ঘটনায় শুক্রবার রাতে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছে পুলিশ। আজ শনিবার দুপুরে জিডির বিষয়টি গণমাধ্যমে সামনে আসে। এরপরই বিকেলে রুমিন ফারহানার পক্ষে তার ব্যক্তিগত সহকারী জাকির হোসেন শুভ ওসির বিরুদ্ধে পুলিশ সুপার বরাবর লিখিত অভিযোগ দেওয়ার বিষয়টি জানান।

রুমিন ফারহানার ব্যক্তিগত সহকারী জাকির হোসেন শুভ জানান, ওসির বিরুদ্ধে দুর্নীতি, মাটি কাটার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে অর্থ নেওয়া এবং ইটভাটা থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া তিনি নিরপরাধ মানুষকে মামলা দিয়ে হয়রানি করছেন। বিশেষ করে যারা আগামী ইউপি নির্বাচনে অংশ নেবেন, তাদের তিনি টার্গেট করেছেন।

রুমিন ফারহানার বরাত দিয়ে তিনি বলেন, রুমিন ফারহানা বলেছেন সরাইল থানার ঘটনাকে কেন্দ্র করে কোনো মামলা হলে তাঁকে এক নম্বর আসামি করতে হবে।

জাকির হোসেন শুভ আরও জানান, গত ২৩ অক্টোবর ওসি মনজুর কাদের ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপারের কাছে ‘অভিযোগপত্র’ দাখিল করা হয়েছে। প্রশাসনের প্রতি সম্মান রেখে তাঁরা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কি ধরনের বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়, তা দেখার জন্য অপেক্ষা করছেন। যথাযথ ব্যবস্থা না নেওয়া হলে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) তোফায়েল আহমেদ জানান, ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা প্রতিনিধির মাধ্যমে একটি লিখিত অভিযোগ পাঠিয়েছেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিষয়টি আমরা তদন্ত করবো।

উল্লেখ্য, গত ২২ অক্টোবর বৃহস্পতিবার রাতে সরাইল থানা ভবনে ওসির কক্ষে গিয়ে তাঁর সঙ্গে বাদানুবাদে জড়ান ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। ওসির বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ এবং শারদীয় দুর্গাপূজার সময় মণ্ডপ পরিদর্শনে গিয়ে ব্যক্তিগত নিরাপত্তা না পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে তিনি থানায় যান।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, রাত ৮টার দিকে থানায় গিয়ে রাত ৯টা পর্যন্ত ওসির কক্ষে অবস্থান করেন রুমিন ফারহানা। এ সময় তাঁর সঙ্গে আসা এক ব্যক্তি ওসির বিরুদ্ধে ৩০ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ করেন। তবে ওসি ওই অভিযোগ অস্বীকার করেন। একই সঙ্গে ওই ব্যক্তিকে রুমিন ফারহানা শিখিয়ে থানায় এনেছেন বলেও মন্তব্য করেন। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়।

একপর্যায়ে রুমিন ফারহানা ওসিকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘আপনি তো বিরাট আওয়ামী লীগ ছিলেন। আপনার হিস্ট্রি তো আমি জানি স্যার।’ জবাবে ওসি বলতে থাকেন, ‘আপনি তো আওয়ামী লীগের লোকজনকে সব সময় আশ্রয়-প্রশ্রয় দেন এবং তাঁদের ধরতে গেলে নিষেধ করেন।’ এ বিষয়ে তাঁর কাছে তালিকা রয়েছে বলেও দাবি করেন ওসি। সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান রাজ্জিকে ধরতে নিষেধ করার অভিযোগও তোলেন ওসি জবাবে রুমিন বলেন, ‘রাজ্জি আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কৃত।’

ওসি মনজুর কাদের ভূঁইয়া দাবি করেন, রুমিন ফারহানা শত শত লোক নিয়ে থানায় গিয়ে অস্থিরতা তৈরি করেন। মব সৃষ্টির চেষ্টা করেছেন। কয়েকজনকে শিখিয়ে-পড়িয়ে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলানো হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : মাদক ও কিশোর গ্যাং দমনে জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর আহ্বান আইজিপির

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন