মঞ্চ ও টেলিভিশন নাটকের জনপ্রিয় অভিনয়শিল্পী সুজাত শিমুল এবং থিয়েটার ও আবৃত্তির সঙ্গে যুক্ত জান্নাতুন নেছা দম্পতি মাত্র ৯৯৯ টাকা দেনমোহরের মতো ব্যতিক্রমী এক অঙ্কের মাধ্যমে তাঁদের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেছেন। শনিবার (২৪ অক্টোবর) সন্ধ্যায় ঢাকার মিরপুরের একটি রেস্তোরাঁয় দুই পরিবারের ঘনিষ্ঠজনদের উপস্থিতিতে এই শুভ পরিণয় সম্পন্ন হয়। এই বিয়েতে বরেণ্য অভিনেতা ও নাট্যব্যক্তিত্ব মামুনুর রশীদ এবং লেখক-সাংবাদিক আনিসুল হকসহ বিশিষ্টজনেরাও উপস্থিত ছিলেন। তবে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতার চেয়ে এই অভিনব দেনমোহরের অংকটি ঘিরেই এখন চারদিকে বেশি কৌতূহল তৈরি হয়েছে।
বিয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর থেকেই তারা এমন একটি ব্যতিক্রমী অঙ্ক খুঁজছিলেন যা দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে সম্পর্কিত এবং বিশেষ কোনো অর্থের প্রতীক হবে—এমনটাই জানিয়েছেন অভিনেতা সুজাত শিমুল। জরুরি সেবার নম্বর থেকে শুরু করে জীবনের পূর্ণতা ও অপূর্ণতার দর্শন—সবকিছু মিলিয়েই তাঁরা ৯৯৯ সংখ্যাটি নির্বাচন করেছেন।
এই সংখ্যাটি বেছে নেওয়ার পেছনের দর্শন ব্যাখ্যা করে সুজাত শিমুলের ভাষায়, “বিয়ে জীবনের প্রয়োজনীয় একটি অংশ, যার মধ্য দিয়ে শুরু হয় নতুন অধ্যায় এবং আসে একধরনের পূর্ণতা।” পাশাপাশি, সংখ্যাটির গাণিতিক অবস্থানের মধ্যে জীবনের গভীর এক অর্থ খুঁজে পেয়েছেন এই অভিনেতা। তাঁর মতে, ৯৯৯-এর পরের সংখ্যাটি ১০০০ হওয়ায় এটি পূর্ণতার ঠিক আগের অবস্থান বা অপূর্ণতার প্রতীক হিসেবে কাজ করে, কারণ মানুষের জীবনে সবকিছু কখনো পুরোপুরি পূর্ণ হয় না, কিছু না কিছু ঘাটতি থেকেই যায়। এছাড়া ব্যক্তিগত যোগসূত্র হিসেবে শিমুলের শ্বশুর পুলিশে কর্মরত থাকার বিষয়টিও এই সংখ্যাটি বেছে নেওয়ার অন্যতম একটি কারণ ছিল।
দেনমোহর সংক্রান্ত প্রচলিত সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি বদলানোর পক্ষেও কথা বলেছেন অভিনেতা। তাঁর মতে, বিয়েতে লাখ লাখ টাকার দেনমোহরের হিসাব অনেক সময় সম্পর্কের মধ্যে বিনিময় ও আস্থা-অনাস্থার প্রশ্ন সামনে নিয়ে আসে। তাই ৯৯৯ টাকা দেনমোহর নির্ধারণের মাধ্যমে তারা প্রথাগত ধারণার বাইরে গিয়ে একটি ভিন্ন বার্তা দিতে চেয়েছেন, যেখানে নারী হিসেবেও একটি সাহসী অবস্থান তুলে ধরার ভাবনা কাজ করেছে।
পড়ুন : ‘শিউলি সন্ধ্যায়’ জন্মদিন পালন করলেন পরীমনি
সা/


