কেরানীগঞ্জে যুব মহিলা লীগ নেত্রী হত্যার রহস্য উন্মোচন, গ্রেপ্তার ৩

চুরি করতে গিয়ে চিনে ফেলায় এবং ধরা পড়ার ভয়েই দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের যুব মহিলা লীগ নেত্রী ডালিয়া আক্তার সুমাকে (৫০) গলা কেটে হত্যা করা হয়েছিল। আলোচিত এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচনের পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে জড়িত ৩ আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বিজ্ঞাপন

রবিবার (২৫ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে চাঞ্চল্যকর এই তথ্যাদি জানান ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তরিকুল ইসলাম।

তিনি জানান, গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার চান্দেরচর এলাকার মো. আশিক (২৩), একই উপজেলার চরগুলাগুলিয়া এলাকার মো. আলমগীর হোসেন (৩৬) এবং মধ্যপাড়া এলাকার মো. অনিক (১৯)।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাতে পুলিশ জানায়, আসামিরা পূর্বপরিচিত ছিলেন। যুব মহিলা লীগ নেত্রী ডালিয়া প্রতিদিন সকালে গৃহকর্মীর প্রবেশের সুবিধার্থে বাসার প্রধান দরজা খোলা রাখতেন— এই বিষয়টি তাদের জানা ছিল। ঘটনার দিন সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে চুরি করার উদ্দেশ্যে পাশের ভবনের ছাদ ডিঙিয়ে তারা ডালিয়ার ফ্ল্যাটে প্রবেশ করেন। তবে চুরির সময় ডালিয়া তাদের চিনে ফেললে ধরা পড়ার আশঙ্কায় তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এরপর নিজেদের পরিচয় গোপন ও আলামত নষ্টের উদ্দেশ্যে তারা ভিন্ন ভিন্ন পথে পালিয়ে যায়।

এর আগে, গত শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকাল ৬টার মধ্যে কোনো একসময়ে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের রসুলপুর বাজার এলাকার সুইডেন প্লাজার তৃতীয় তলায় নিজ ফ্ল্যাটে এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। পরে স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ডালিয়া আক্তারের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে।

সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তরিকুল ইসলাম ঘটনার তদন্ত ও অভিযানের বিবরণ দিয়ে বলেন, “ফ্ল্যাটে চুরি করতে গিয়ে চিনে ফেলা এবং ধরা পড়ার আশঙ্কা থেকেই যুব মহিলা লীগ নেত্রী ডালিয়াকে গলা কেটে হত্যা করে চোরেরা। পরবর্তীতে পরিচয় গোপন ও আলামত এড়াতে তারা ভিন্ন ভিন্ন পথে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় অভিযান চালিয়ে ৩ আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।”

তদন্ত প্রক্রিয়ার বিষয়ে তিনি আরও বলেন, ঘটনার পর সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ, গোয়েন্দা নজরদারি ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আসামিদের শনাক্ত করা হয়। পরবর্তীতে ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার শামীমা পারভীনের নির্দেশনায় প্রথমে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার বালুরচর এলাকা থেকে অনিককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের আব্দুল্লাহপুর বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে অপর দুই সহযোগী আশিক ও আলমগীর হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পড়ুন : সীতাকুণ্ডে লরিচাপায় সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ৫ যাত্রী নিহত

সা/

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন