ঢাকার ধামরাইয়ে রাতের আঁধারে ডেকে নিয়ে আবুল হোসেন (৪৫) নামে এক ব্যক্তিকে মারধরের পাঁচ দিন পর তাঁর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় নিহতের ভাগনে নাজমুল ইসলাম বাদী হয়ে ১০ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৭-৮ জনকে আসামি করে ধামরাই থানায় মামলা করেছেন। এ ঘটনায় কাশেম (৪৮) ও রুবেল নামে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মামলায় নাম উল্লেখ করা অন্য আসামিরা হলেন মো. মান্নান (৪৫), আব্দুর রশিদ (৪০), রানা (৪০), শাহীন (৩৫), শামীম (২৬), মো. হাসেন (৫০), ওয়াশিম (৪২) ও আল আমিন (৩২)। মামলার নম্বর ৩৫।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ভাড়ারিয়া ইউনিয়নের কাকরান এলাকায় সরকারি জমি বিক্রি ও রাস্তার পাশের গাছপালা কাটার ঘটনায় মান্নান ও আব্দুর রশিদসহ কয়েকজনকে বাঁধা দেন আবুল হোসেনসহ স্থানীয় কয়েকজন। এর জেরে গত ২২ অক্টোবর রাতে মান্নানসহ অন্যরা আবুল হোসেনকে ডেকে নিয়ে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে মারধর করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ সময় আবুল হোসেন গুরুতর আহত হন। তাঁর চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্য ও আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। আবুল হোসেনের কপালসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল বলে জানা গেছে।
পরে তাঁকে ইসলামপুর সরকারি হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে চিকিৎসা দেন। এরপর তিনি বাড়িতে ফিরে চিকিৎসা নিতে থাকেন। পুনরায় হাসপাতালে যাওয়ার কথা থাকলেও মঙ্গলবার রাতে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
নিহতের ভাগনে ও মামলার বাদী নাজমুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, এলাকার সরকারি সম্পত্তি ও রাস্তার পাশের গাছ বিক্রিতে বাঁধা দেওয়ায় তাঁর মামাকে রাতের আঁধারে ডেকে নিয়ে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করে জখম করা হয়। পরে তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। মঙ্গলবার রাতে শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হলে আবার হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
ধামরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তদন্ত শহীদুল ইসলাম বলেন, আবুল হোসেনকে মারধরের ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় কাশেম ও রুবেল নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পড়ুন : প্রধানমন্ত্রী দেশে ফেরার পর আইজিপির বিষয়ে সিদ্ধান্ত: তথ্য উপদেষ্টা
সা/


