হোয়াটসঅ্যাপ ও টেলিগ্রাম ব্যবহারকারীদের জন্য নতুন নিয়ম চালুর উদ্যোগ নিয়েছে ভারত সরকার। সাইবার জালিয়াতি প্রতিরোধ এবং ভারতীয় মোবাইল নম্বরের অপব্যবহার বন্ধ করতে সিম-বাইন্ডিং ব্যবস্থা কার্যকরের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, মেসেজিং অ্যাপে নিবন্ধিত মোবাইল নম্বরের সিম কার্ড ফোনে সক্রিয় রাখা বাধ্যতামূলক হতে পারে। আগামী ১ জানুয়ারি থেকে নিয়মটি কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ভারতের টেলিকমিউনিকেশন বিভাগ (ডিওটি) মেসেজিং প্ল্যাটফর্মগুলোকে নতুন নিয়ম বাস্তবায়নের জন্য ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় দিয়েছে। দ্য ইকোনমিক টাইমসের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
নতুন নিয়ম কার্যকর হলে যেসব ব্যবহারকারী নিবন্ধিত সিম কার্ড ফোনে সক্রিয় না রেখেই হোয়াটসঅ্যাপ বা টেলিগ্রাম ব্যবহার করেন, তাঁদের সমস্যায় পড়তে হতে পারে। তবে এর অর্থ এই নয় যে ১ জানুয়ারি থেকে সব ব্যবহারকারীর অ্যাকাউন্ট বন্ধ হয়ে যাবে।
সিম-বাইন্ডিং হলো মোবাইল নম্বরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মেসেজিং অ্যাকাউন্টের সংযোগ নিশ্চিত করার একটি পদ্ধতি। এর মাধ্যমে কোনো অ্যাকাউন্ট যে মোবাইল নম্বর দিয়ে নিবন্ধিত, সেই নম্বরের সিম কার্ড বা ই-সিম সংশ্লিষ্ট ফোনে সক্রিয় রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করার ব্যবস্থা করা হয়।
বর্তমানে হোয়াটসঅ্যাপের মতো মেসেজিং অ্যাপে মোবাইল নম্বর দিয়ে একবার নিবন্ধন সম্পন্ন করার পর অনেক ক্ষেত্রে সিম কার্ড ফোনে না থাকলেও অ্যাপ ব্যবহার করা যায়। অর্থাৎ, নিবন্ধনের জন্য ব্যবহৃত সিম অন্য ফোনে সরিয়ে নেওয়া হলেও আগের ফোনে ইন্টারনেট সংযোগের মাধ্যমে অ্যাপ চালানো সম্ভব হতে পারে।
প্রস্তাবিত নতুন নিয়মে এ ধরনের ব্যবহারের ওপর বিধিনিষেধ আসতে পারে। ভারতীয় মোবাইল নম্বর দিয়ে নিবন্ধিত অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সিম ফোনে সক্রিয় রাখার প্রয়োজন হতে পারে।
নতুন নিয়ম কার্যকর হলে মূলত তাঁদের ওপর প্রভাব পড়তে পারে, যাঁরা নিবন্ধিত সিম কার্ড ফোনে না রেখেই মেসেজিং অ্যাপ ব্যবহার করেন। কেউ যদি একটি ফোনে হোয়াটসঅ্যাপ চালানোর জন্য নিবন্ধিত নম্বরের সিম অন্য ফোনে ব্যবহার করেন, তাহলে অ্যাকাউন্ট যাচাই বা অ্যাপ ব্যবহারে জটিলতা তৈরি হতে পারে।
এ ছাড়া নিবন্ধিত সিম নিষ্ক্রিয় থাকলে কিংবা সংশ্লিষ্ট নম্বরের সঙ্গে অ্যাকাউন্টের সংযোগ নিশ্চিত করা না গেলে পুনরায় যাচাইয়ের প্রয়োজন হতে পারে। পরিস্থিতি অনুযায়ী অ্যাকাউন্ট ব্যবহারে সাময়িক বিধিনিষেধও আসতে পারে।
তবে ঠিক কোন পরিস্থিতিতে ব্যবহারকারীদের পুনরায় যাচাই করতে হবে, কিংবা সিম ফোনে সক্রিয় না থাকলে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা বাস্তবায়ন পদ্ধতির ওপর নির্ভর করবে।
ভারত সরকারের এ উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে সংঘটিত সাইবার অপরাধ ও জালিয়াতি কমানো। অপরাধীরা অনেক সময় অন্যের পরিচয়ে নিবন্ধিত নম্বর, নিষ্ক্রিয় সিম কিংবা বিভিন্নভাবে সংগৃহীত মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে প্রতারণামূলক কার্যক্রম চালায়।
সিমের সঙ্গে মেসেজিং অ্যাকাউন্টের সংযোগ নিশ্চিত করা গেলে এ ধরনের অপব্যবহার শনাক্ত করা সহজ হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। পাশাপাশি কোনো মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে অ্যাকাউন্ট পরিচালনার ক্ষেত্রে জবাবদিহি বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।
তবে নতুন ব্যবস্থার কার্যকারিতা নির্ভর করবে প্রযুক্তিগত বাস্তবায়ন, পরিচয় যাচাইয়ের পদ্ধতি এবং মেসেজিং প্ল্যাটফর্মগুলোর নিয়ম মানার ওপর।
নতুন নিয়ম নিয়ে ব্যবহারকারীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হলেও বিষয়টি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি পার্থক্য রয়েছে। ১ জানুয়ারি থেকে হোয়াটসঅ্যাপ ও টেলিগ্রামের সব অ্যাকাউন্ট বন্ধ হয়ে যাবে—এমন কোনো তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
বরং যেসব ব্যবহারকারী নিবন্ধিত সিম ফোনে সক্রিয় না রেখেই অ্যাপ ব্যবহার করেন, তাঁদের ক্ষেত্রে নতুন নিয়মের প্রভাব পড়তে পারে। যাঁরা সংশ্লিষ্ট নম্বরের সিম নিজস্ব ফোনে সক্রিয় রাখেন, তাঁদের জন্য নিয়মটি কীভাবে প্রযোজ্য হবে, তা বাস্তবায়ন নির্দেশনার ওপর নির্ভর করবে।
এ ছাড়া একাধিক ডিভাইসে অ্যাকাউন্ট ব্যবহার, সিম পরিবর্তন এবং ই-সিম ব্যবহারের মতো বিষয়েও বিস্তারিত নির্দেশনা গুরুত্বপূর্ণ হবে।
সাইবার জালিয়াতি নিয়ন্ত্রণে ভারতের সিম-বাইন্ডিং উদ্যোগ মেসেজিং অ্যাপ ব্যবহারের পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনতে পারে। তবে নিয়মটি কার্যকর হওয়ার আগে এর বিস্তারিত বাস্তবায়ন পদ্ধতি স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন। তাই ব্যবহারকারীদের জন্য এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো চূড়ান্ত নির্দেশনা সম্পর্কে অবগত থাকা এবং নিবন্ধিত মোবাইল নম্বরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
পড়ুন:তায়েফ ও পূর্বাঞ্চলে ফের হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, ধ্বংসের দাবি সৌদি জোটের
ইমি/


