সৌদিতে ফের ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, ধ্বংসের দাবি সামরিক জোটের

ইয়েমেনের ইরান সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের ছোড়া একটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত ও ধ্বংস করার দাবি করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) ভোরে পশ্চিম সৌদি আরবকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্রটি নিক্ষেপ করা হয়েছিল বলে জানিয়েছে জোটটি। সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যের এই অঞ্চলে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।

বিজ্ঞাপন

বার্তাসংস্থা আনাদোলুর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি এক বিবৃতিতে ক্ষেপণাস্ত্রটি ধ্বংসের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে ক্ষেপণাস্ত্রটি কোথা থেকে নিক্ষেপ করা হয়েছিল কিংবা এটি ধ্বংসের ঘটনায় কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

অন্যদিকে, সৌদি আরবের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও লক্ষ্যবস্তুতে ছয়টি হামলা চালানোর দাবি করেছে হুতিরা। তাদের দাবি অনুযায়ী, হামলার লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে তেল স্থাপনা ও বিমানবন্দরও ছিল। তবে এসব হামলায় কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

এর আগে বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট জানায়, রাজধানী রিয়াদ অভিমুখে হুতিদের ছোড়া দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত ও ধ্বংস করা হয়েছে। জোটের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, সৌদি আরবের নিরাপত্তা ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো রক্ষায় প্রয়োজনীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

এদিকে, সৌদি আরবের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলার দাবি করলেও দেশটির বিরুদ্ধে চালানো সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দায় অস্বীকার করেছে হুতিরা। পবিত্র মক্কা ও মদিনায় ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ আছড়ে পড়ার খবর নিয়েও এ অঞ্চলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে এসব ঘটনার বিস্তারিত পরিস্থিতি নিয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্যে ভিন্নতা রয়েছে।

গত কয়েক দিনে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট ও হুতিদের মধ্যে সামরিক তৎপরতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে হামলা ও সামরিক অভিযান চালানোর খবর প্রকাশ করছে। এতে সৌদি আরবের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং ইয়েমেন সংঘাতের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের মার্চ থেকে ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে জড়িত রয়েছে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট। দেশটির আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সমর্থন দিয়ে আসছে তারা। অন্যদিকে, ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে ইয়েমেনের রাজধানী সানা দখল করে নেয় হুতি বিদ্রোহীরা। এরপর থেকে দেশটিতে সংঘাত অব্যাহত রয়েছে।

ইরান সমর্থিত হুতিদের সঙ্গে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের এই দীর্ঘদিনের বিরোধ আঞ্চলিক নিরাপত্তার ওপরও প্রভাব ফেলেছে। বিশেষ করে তেল স্থাপনা, বিমানবন্দর ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ নতুন করে নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি করছে।

পড়ুন:কেরানীগঞ্জে হান্ডা কোম্পানির অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনে জমি হস্তান্তর

ইমি/

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন