একদিকে মায়ের নিথর দেহ, অন্যদিকে মাকে হারানোর কিছুই বুঝে ওঠার আগেই আড়াই বছরের শিশুর অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ। যে মায়ের আঁচল ধরে বেড়ে ওঠার কথা, সেই মাকেই চিরদিনের জন্য হারাল ছোট্ট লুজাই। কুড়িগ্রামের উলিপুরে যৌতুকের বাকি ৪৫ হাজার টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে গৃহবধূ নিলুফা ইয়াসমিন ওরফে নাসরিন জাহানকে (২১) পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তাঁর স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে। ঘটনার পর থেকে স্বামী আলমগীর হোসেন ও তাঁর মা পলাতক রয়েছেন বলে জানা গেছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকালে উলিপুর উপজেলার বুড়াবুড়ি ইউনিয়নের ফকির মোহাম্মদ নামার চর এলাকায় স্বামীর বাড়ির শয়নকক্ষের বিছানা থেকে নিলুফার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।নিলুফার শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে জানান নিলুফার বাবা।
নিহত নিলুফা ওই ইউনিয়নের দোলন গ্রামের নুর ইসলামের মেয়ে। প্রায় তিন বছর আগে নামার চর এলাকার আলমগীর হোসেনের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। তাঁদের সংসারে রয়েছে আড়াই বছরের একটি ছেলে—লুজাই।
নিহতের বাবা নুর ইসলামের অভিযোগ, বিয়ের সময় জামাতাকে ২৫ হাজার টাকা যৌতুক দেওয়া হয়েছিল। আরও ৪৫ হাজার টাকা দেওয়ার কথা ছিল। চলতি মৌসুমে ধান বিক্রি করে সেই টাকা পরিশোধ করার কথা থাকলেও এর আগেই টাকা চেয়ে নিলুফাকে প্রায়ই নির্যাতন করা হতো।
বুধবার রাতেও বাকি যৌতুকের টাকা নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা হয় বলে অভিযোগ করেন নুর ইসলাম। তাঁর অভিযোগ, ওই বিরোধের জেরেই নিলুফাকে মারধর করে হত্যা করা হয়েছে। পরে মরদেহ শয়নকক্ষের বিছানায় রেখে স্বামী ও শাশুড়ি পালিয়ে যান।
নিলুফার মৃত্যুকে ঘিরে আলোচনা-সমালোচনা চলছে।অদৃশ্য শক্তির কারনে প্রকৃত ঘটনা যেন ভিন্নখাতে না যায় এমন প্রতাশা স্বজনসহ এলাকাবাসীর।
উলিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শওকত আলী সরকার জানান, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।তবে তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন ছিল বলে জানান তিনি।
পড়ুন:চট্টগ্রামে ৭৫ বছরের বৃদ্ধাকে হত্যা: ঘাতক ভাড়াটিয়া রিফাত ২৪ ঘণ্টায় খাঁচায়!
ইমি/


