২০২৬ ব্যালন ডি’অর জয়ের অন্যতম ফেভারিট হিসেবে বিবেচিত ছিলেন লিওনেল মেসি। তবে বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে আর্জেন্টিনার হারের পর বদলে যায় সমীকরণ। শেষ পর্যন্ত ব্যালন ডি’অরের চূড়ান্ত তালিকায় পঞ্চম স্থান অর্জন করেছেন আটবারের এই পুরস্কারজয়ী তারকা। প্রত্যাশিত অবস্থানে না থাকলেও ভোটারদের একটি অংশের পছন্দের শীর্ষে ছিলেন মেসি। আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলসহ ছয় দেশের সাংবাদিক তাঁদের প্রথম পছন্দ হিসেবে মেসিকে ভোট দিয়েছেন। ফলে শীর্ষ পাঁচে জায়গা পেলেও ব্যালন ডি’অরের ভোটে এখনো বিশ্বজুড়ে নিজের জনপ্রিয়তার প্রমাণ দিয়েছেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা।
ব্যালন ডি’অর নির্বাচন করেন ১০০ জন আন্তর্জাতিক সাংবাদিকের সমন্বয়ে গঠিত একটি জুরি বোর্ড। নিয়ম অনুযায়ী– প্রথম স্থানের জন্য ১৫ পয়েন্ট, দ্বিতীয় স্থানের জন্য ১২ পয়েন্ট এবং তৃতীয় স্থানের জন্য ১০ পয়েন্ট দেওয়া হয়। এরপর শীর্ষ ১০-এর বাকি স্থানগুলোর জন্য যথাক্রমে ৮, ৭, ৫, ৪, ৩, ২ ও ১ পয়েন্ট প্রদান করা হয়।
গতকাল (শুক্রবার) ফরাসি গণমাধ্যম লে’কিপ ২০২৬ ব্যালন ডি’অরে প্রতিদ্বন্দ্বী খেলোয়াড়দের প্রাপ্ত পয়েন্টের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করে। যেখানে সর্বোচ্চ ১০৫৫ পয়েন্ট পেয়েছেন ব্যালনজয়ী ইংলিশ তারকা হ্যারি কেইন। রানার্সআপ বা দ্বিতীয় হয়ে এবার দৌড় শেষ করা কিলিয়ান এমবাপে ১০২৭ পয়েন্ট পেয়েছেন। যা ৭০ বছরের ইতিহাসে চতুর্থ সর্বনিম্ন ব্যবধান বলে উল্লেখ করেছে সংবাদমাধ্যমটি।
ব্যালনের তালিকায় পাঁচে থাকা মেসি পেয়েছেন ৬১২ পয়েন্ট। সেখানে আর্জেন্টিনা ও ইন্টার মায়ামির এই ফরোয়ার্ডকে কারা ভোট দিয়েছেন সেই আগ্রহ থাকা স্বাভাবিক। মেসিকে প্রথম পছন্দ হিসেবে ভোট দিয়েছেন আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, পানামা, সংযুক্ত আরব আমিরাত, চীন ও বেলারুশের সাংবাদিকরা। তাদের ভোটে ১৫ পয়েন্ট করে (মোট ৯০ পয়েন্ট) পেয়েছেন রোজারিওর এই ফুটবলার।
ব্রাজিলের সাংবাদিক হয়েও মেসিকে ভোট দেওয়া নিয়ে আর্জেন্টাইন গণমাধ্যম ওলেকে কারণ জানিয়েছেন অ্যামাজন ও গ্লোবোর সাবেক সংবাদকর্মী ও টিভি ধারাভাষ্যকার ক্লেবার মাচাদো। তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রতিদ্বন্দ্বিতার বিষয়টি একপাশে সরিয়ে রাখতে হবে। রদ্রি এরই মধ্যে একটি ব্যালন ডি’অর জিতেছে এবং বিশ্বকাপেও দারুণ খেলেছে। তবে আমার মতে, বিশ্বকাপের সেরা দুই খেলোয়াড় ছিলেন মেসি ও এমবাপে। ফরাসি ফুটবলার বিশ্বকাপে অসাধারণ উচ্চমানের পারফরম্যান্স দেখিয়েছে।’
মেসিকে শীর্ষ পছন্দ হিসেবে বাছাইয়ের ব্যাখ্যায় তিনি আরও বলেন, ‘গত ১৫ বছর ধরে নিঃসন্দেহে মেসিই বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়। ক্যারিয়ারের এই পর্যায়ে ৩৯ বছর বয়সেও সে আবার নিজের প্রতিভা ও ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণের সামর্থ্য দেখিয়েছে। তার দক্ষতার কারণে মাঠে সবচেয়ে বিচক্ষণ খেলোয়াড় বলে মনে হয়েছে তাকে। ব্যাপারটি ছিল অসাধারণ। আর্জেন্টিনা যখন কঠিন পরিস্থিতিতে পড়েছে, যখন তারা ম্যাচে পিছিয়ে ছিল, তখন মেসি ডান প্রান্তে চলে যেত। প্রতিপক্ষের পেনাল্টি বক্সের দিকে এগিয়ে মাত্র দুটি আক্রমণেই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দিত। তার কারণেই আর্জেন্টিনা আবারও ফাইনালে উঠেছিল। এ কারণেই আমি মেসিকে ভোট দিয়েছি।
পড়ুন:দ্বিতীয় ইনিংসে ৬ উইকেটে ৭৯ রান, বাংলাদেশের লিড ১০৬ রানের
ইমি/


