মাদ্রার বাজারে রাতের আঁধারে চোরের হানা, ৩ দোকানে লুট

মাদারীপুর সদর উপজেলার ঝাউদি ইউনিয়নের মাদ্রা বাজারে এক রাতেই তিনটি মুদি দোকানে চুরির ঘটনা ঘটেছে। দোকানের সাটারের তালা কেটে ভেতরে ঢুকে নগদ টাকা, সিগারেট, তেল, বিস্কুটসহ বিভিন্ন মালামাল নিয়ে গেছে চোরচক্র। ক্ষতিগ্রস্ত দোকানমালিকদের দাবি, চুরি হওয়া মালামাল ও নগদ টাকার মূল্য প্রায় দুই লাখ টাকার তারও বেশি।
শুক্রবার (৩১ অক্টোবর) ভোররাতে এ ঘটনা ঘটে। একসঙ্গে তিনটি দোকানে চুরির ঘটনায় বাজারের ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত দোকানমালিকেরা চোরদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

মাদ্রা বাজারের ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রাতের বেলায় বাজারের দোকানগুলোতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। বিশেষ করে গভীর রাতে দোকানপাট বন্ধ থাকার সুযোগে চুরির ঘটনা ঘটলে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের পুঁজি হারানোর ঝুঁকি বাড়ে। তাঁদের মতে, বাজারে নিয়মিত পুলিশি টহল, রাতের পাহারা এবং সিসিটিভি ক্যামেরার ব্যবস্থা করা গেলে অপরাধ প্রতিরোধে সহায়তা হতে পারে।

ক্ষতিগ্রস্ত মুদি দোকানি সোহরাব হাওলাদার জানান, রাত ১টা থেকে ভোর ৪টার মধ্যে কোনো একসময় চোরেরা তাঁর দোকানসহ পাশের আরও দুটি দোকানের তালা কেটে সাটার খুলে ভেতরে প্রবেশ করে। এ সময় তাঁর দোকান থেকে সিগারেট, তেল, বিস্কুটসহ বিভিন্ন পণ্য এবং নগদ ১৭ হাজার টাকা নিয়ে যায়।
আক্ষেপ প্রকাশ করে সোহরাব হাওলাদার বলেন, “অনেক ঋণ করে দোকানটি দিয়েছি। এই দোকানের আয় দিয়েই ঋণের টাকা পরিশোধ ও সংসার চালানোর কথা ছিল। এখন মালামাল ও নগদ টাকা হারিয়ে কীভাবে ঋণ শোধ করব, কীভাবে সংসার চালাব—তা বুঝতে পারছি না। আমি প্রশাসনের কাছে বিচার চাই। দ্রুত চোরদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের দাবি জানাই।”
আরেক ব্যবসায়ী রকিব হাওলাদার বলেন, আমি এই দোকানটা দিয়েছি কিস্তিতে টাকা এনে এখন কিভাবে কিস্তির টাকা পরিশোধ করব কিভাবে এই সংসার চালাবো। কিছুই বুঝতে পারতেছি না আর যদি আমাদের এই ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করে দেয় কি ক্ষুদ্রঋণের ব্যবস্থা করে দেয় তাহলে আমরা বাঁচতে পারব আমারে দোকানে প্রায় ১৫০০০ টাকার মতো ক্যাশ ছিল তাও নিয়ে গেছে। যা মালামাল ছিল তাও নিয়ে গেছে।

অন্য এক ক্ষতিগ্রস্ত দোকানমালিক বকর সরদার জানান, তাঁর দোকানে প্রায় দুই লাখ টাকার পণ্য ছিল বলে তাঁর দাবি। চুরির ঘটনায় দোকানের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ মালামাল খোয়া গেছে। দোকানের আয়ের ওপর নির্ভর করেই তাঁর সংসার পরিচালনা এবং ছেলেমেয়েদের পড়াশোনার খরচ চলত।
তিনি বলেন, “দোকানের পণ্য হারিয়ে আমি একেবারে দিশেহারা হয়ে পড়েছি। এই আয় দিয়েই সংসার চালাতাম, ছেলেমেয়েদের লেখাপড়ার খরচ দিতাম। এখন কীভাবে ঘুরে দাঁড়াব, বুঝতে পারছি না। পুলিশ প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ব্যবসায়ীদের এমন ক্ষতির মুখে পড়তে হবে বারবার।”

এ বিষয়ে মাদারীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, “খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে। চুরির সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

পড়ুন:টাঙ্গাইলে নদী থেকে আওয়ামী লীগ নেতার লাশ উদ্ধার

ইমি/

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন