৬০ জন অবিবাহিতের জন্য পায়রার চা-চক্র

পাত্র-পাত্রী পছন্দের প্রচলিত ধারায় সাধারণত গুরুত্ব পায় বয়স, সামাজিক অবস্থান কিংবা পূর্বের বৈবাহিক ইতিহাস। তবে এবার এসব সামাজিক ছক ও ট্যাবু ভেঙে ভিন্নধর্মী ম্যাচমেকিং উদ্যোগ নিয়ে এসেছে ‘পায়রা’ প্ল্যাটফর্ম। প্রার্থীর ব্যক্তিত্ব ও জীবনবোধকে প্রাধান্য দিয়ে বিবাহপ্রত্যাশী ৬০ জন তরুণ-তরুণীকে নিয়ে এক সৌজন্য চা-চক্রের আয়োজন করেছে তারা।

বিজ্ঞাপন

শুক্রবার রাজধানীর গুলশানের লেকশোর হোটেলে ‘চা থেকে চিরদিন’ শীর্ষক এই মেলবন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। আয়োজনে ৩০ জন পুরুষ ও ৩০ জন নারী অংশ নেন। আয়োজকেরা জানান, পায়রা কোনো কৃত্রিম ‘স্পিড-ডেটিং’ কিংবা বাজারের সাধারণ ম্যাট্রিমোনিয়াল সাইট নয়; বরং সামনাসামনি বসে মতামত বিনিময়ের মাধ্যমে সম্পর্কের সূচনা করার একটি শালীন প্ল্যাটফর্ম।

ইভেন্টে অংশ নেওয়া বেসরকারি ব্যাংক কর্মকর্তা সাবরিনা ইসলাম বলেন, “আমার পরিবারের সবাই বিদেশে থাকেন। দেশে আমার জন্য পাত্র খোঁজার কেউ নেই। এমন পরিস্থিতিতে এই আয়োজন আমার জন্য দারুণ এক সুযোগ তৈরি করেছে।”

আরেক অংশগ্রহণকারী, উদ্যোক্তা আলী হাসান প্রিন্স বলেন, “অনলাইনে পরিচয়ের অনেক জায়গা থাকলেও সেখানে প্রতারণার ঝুঁকি থাকে। জীবনের এমন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের জন্য মুখোমুখি আলোচনা অনেক বেশি নিরাপদ ও সম্মানজনক।”

অনুষ্ঠানে পায়রার প্রধান নির্বাহী মোশারাত আহমেদ মেহেক বলেন, ” পায়রাতে কাউকে তাড়াহুড়ো করে বিয়ের সিদ্ধান্ত নিতে হবে না। আমরা মানুষকে সঠিক সঙ্গী খুঁজে পেতে, আত্মবিশ্বাস বাড়াতে এবং একসাথে সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়তে সহযোগিতা করি।”

পায়রার সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, প্রার্থীরা জীবনসঙ্গী নির্বাচনের ক্ষেত্রে বাহ্যিক পরিচয়ের চেয়ে ব্যক্তিত্ব ও পারস্পরিক সমঝোতাকেই সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছেন। এছাড়া প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রেও সচেতন উত্তরদাতারা। মাত্র ১৫.৭ শতাংশ উত্তরদাতা পুরোপুরি এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) নির্ভর ম্যাচমেকিংয়ে ভরসা রাখার কথা বলেছেন। অন্যদিকে ৮১ শতাংশ উত্তরদাতা অভিজ্ঞ ম্যাচমেকার ও প্রযুক্তির সমন্বিত সেবার পক্ষে মত দিয়েছেন।

পায়রা জানায়, তারা এআই-কে কেবল অনুসন্ধানের পরিধি বাড়ানোর মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও পর্যালোচনায় অভিজ্ঞ কনসালট্যান্ট দল যুক্ত থাকেন। যাচাইকৃত প্রোফাইল, গোপনীয়তা, নিরাপত্তা এবং ধাপে ধাপে পরিবারকে যুক্ত করার সুযোগ রাখা হয়েছে এতে।

পায়রার প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা (চিফ অব অপারেশনস) মো. নাজমুল ইসলাম বলেন, “বাংলাদেশের সামাজিক পরিস্থিতি ও মুসলিম পারিবারিক পরিবেশের কথা মাথায় রেখে প্রযুক্তি ও অনুভূতির সমন্বয় ঘটিয়ে আমরা কাজ করছি, যাতে মানুষ আমাদের প্ল্যাটফর্মে সেরা ব্যক্তিটিকে খুঁজে পায় এবং দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারে।”

উল্লেখ্য, গত জুলাই মাসে ২০ জন প্রার্থীকে নিয়ে প্রথম এমন আড্ডার আয়োজন করেছিল পায়রা। সেখানে চার জোড়া প্রার্থী পারস্পরিক সম্মতি জানান এবং এক জোড়া মাত্র তিন সপ্তাহের মধ্যে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। এবার প্রার্থীর সংখ্যা বেড়ে ৬০ জনে পৌঁছানোয় এ ধরনের প্ল্যাটফর্মের প্রতি মানুষের আগ্রহ বাড়ছে বলে জানান আয়োজকেরা। আসছে ডিসেম্বরেই গ্রাহক সেবার মান উন্নত করতে নিজেদের মোবাইল এপ নিয়ে আসবেন তারা।

পড়ুন : এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশ, পাসের হার ৫২.১২ শতাংশ

সা/

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন