খুলনায় ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চে জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত একের পর এক কর্মসূচি দেওয়া হবে। প্রয়োজনে খুলনা থেকে ঢাকায় যাওয়ার ডাক দেওয়া হলে গ্রাম-বাংলার মানুষকে নিয়ে ঢাকায় যাওয়ারও আহ্বান জানান তিনি।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) বিকেলে খুলনার ঐতিহাসিক শিববাড়ি মোড়ে সাত দফা দাবিতে আয়োজিত ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চের পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, কৃষক সার পায় না, পাবে কেমনে? নতুন করে উনারা ডিলার নিয়োগ দিচ্ছেন ২০-২৫, ৩০ লাখ, ৫০ লাখ, এক কোটি টাকা ঘুষ নিয়ে। এটা নিয়ে হইচই হচ্ছে আবার নিজেদের মধ্যে খাবলা- খাবলি হচ্ছে। জীবনে চলে যাচ্ছে, কিন্তু কৃষক তো সার পায় না। আমরা এই দাবি নিয়ে মাঠে নেমেছি। আমরা নেমেছি আমাদের প্রাণপ্রিয় হাদীসহ সাড়ে ১৫ বছর বিশেষ করে জুলাইতে, যাদের খুন করা হয়েছে। সেই খুনিদের বিচারের দাবিতে।
রাস্তায় নামার কারণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, আজকে সরকারি দলের চাঁদাবাজদের জ্বালায় অতিষ্ঠ জাতিকে চাঁদার যন্ত্রণা থেকে মুক্তি দেওয়ার জন্য। রাস্তায় নেমেছি জনগণের টাকা লুটপাট করে বিদেশে পাচার শুরু হয়েছে, এই লুটপাট ঠেকিয়ে দেওয়ার জন্যে। গণভোটের গণ রায় বাস্তবায়ন করতে হবে। পরিষ্কার বার্তা এরাই বাস্তবায়ন হবে ইনশাল্লাহ। বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন কর্মসূচি একটার পর একটা, শক্ত থেকে মহা শক্তের দিকে যাবে।
তিনি বলেন, এবার লং মার্চে ঢাকা থেকে এসেছি খুলনায়, যদি এক দফার প্রয়োজন হয় তাহলে যখন খুলনা থেকে ঢাকায় যাওয়ার ডাক দেওয়া হবে তখন গ্রাম বাংলার প্রত্যেকটি ঘর থেকে আপনারা কি ঢাকায় গিয়ে হাজির হওয়ার জন্য প্রস্তুত? দাবিগুলো আমাদের দলীয় বা জোটের দাবি নয়, প্রত্যেকটি দাবি এদেশের মানুষের দাবি, বাঁচা মরার দাবি। আমরা জনতার সাথে আছি।
১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চ বাস্তবায়ন কমিটির খুলনার আহবায়ক ও খুলনা মহানগর জামায়াতে ইসলামীর আমির মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমানের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি এ্যাড. শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল এমপি’র পরিচালনায় বক্তৃতা করেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক, ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি, অধ্যক্ষ মো. ইজ্জত উল্লাহ এমপি, জাগপার মুখপাত্র রাশেদ খান প্রধান, এবি পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহাদাতুল্লাহ টুটুল, এনসিপির আবদুল হান্নান মাসুউদ এমপি ঢাকা মহানগর জামায়াতে ইসলামীর আমির সেলিম উদ্দিন, জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সুরা সদস্য ও সাতক্ষীরা ৩ আসনের সংসদ সদস্য হাফেজ মুহাদ্দিস রবিউল বাসার, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্য ও খুলনা-৬ আসনের এমপি মাওলানা আবুল কালাম আজাদ, জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপির যুগ্ম আহবায়ক আরিফুল ইসলাম আদিব, নেজামি পার্টির মহাসচিব মুসা বিন ইযাহার চৌধরী, এমডিপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. বেলাল হোসেন নেয়াজী, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের যুগ্ম আহবায়ক মাওলানা হুসাইন আকন্দ, ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম, চবি ভিপি ইব্রাহিম রনি, ঢাবি জিএস এস এম ফরহাদ, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্য ও সাতক্ষীরা সদর আসনের এমপি মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক, সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির উপাধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম বকুল, খুলনা জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা কবিরুল ইসলাম, জাতীয় নাগরিক কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সদস্য সচিব ফরিদুল হক, জেলা খেলাফত মজলিসের সহ-সভাপতি মুফতী আব্দুল কাইয়ুম জোয়াদ্দার, এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা মো. ওয়াহিদুজ্জামান, এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা গাজী শরিফুল ইসলাম ওহিদ, জাতীয় গণতন্ত্র পার্টির মহানগর সভাপতি মো. ইয়াসিন আরাফাত, নেজামী পার্টির কেন্দ্রীয় সদস্য মো. জাকির হোসেন খান, শহীদি কাফেলার মহানগর ইসলামি ছাত্রশিবির সভাপতি রাকিব হাসান, এনসিপির মহানগর সভাপতি মো. হামিম রাহাত, আমার বাংলাদেশ পার্টির মহানগর সাধারণ সম্পাদক মো. আবুবক্কার সিদ্দিক, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহানগর সভাপতি মুফতি মো. ইব্রাহিম খলিল, এনসিপির মহানগরী নেতা ড. মো. আব্দুল্লাহ চৌধুরী, লেবার পার্টির মহানগর সভাপতি অধ্যক্ষ এস এম সাইফুল্লাহ দোহা, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহানগর সভাপতি মুফতি শরিফ সাইফুর রহমান, বাংলাদেশ ডেভলপমেন্ট পার্টির মহানগর সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. হানিফ উদ্দিন, ছাত্রশক্তির খুলনা মহানগর সভাপতি জাহিদ হাসান সোহান প্রমুখ।
পড়ুন : সুবর্ণচরে যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সমাবেশ ও শোভাযাত্রা


