ভোজ্যতেলের বাজারে ভেজাল ও ওজনে কারচুপির অভিযোগ নতুন নয়। এবার গাজীপুর মহানগরীর কাশিমপুরের ১ নং ওয়ার্ড পানিশাইল এলাকায় ‘শুদ্ধ ফর্টিফাইড সয়াবিন তেল’ বিক্রির নামে ক্রেতাদের ঠকানোর অভিযোগ উঠেছে ‘লালমনির হাট ভ্যারাইটিজ স্টোর’-এর মালিক কামাল হোসেনের বিরুদ্ধে। এক লিটারের বোতলসহ ওজন পাওয়া গেছে ৮৯৭ গ্রাম। খালি বোতলের ওজন বাদ দিলে প্রকৃত তেলের পরিমাণ দাঁড়ায় মাত্র ৮৬৭ থেকে ৮৭২ গ্রাম। এতে প্রতি লিটারে প্রায় ৪৮ থেকে ৫৩ গ্রাম তেলের ঘাটতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পানিশাইল এলাকায় ‘লালমনির হাট ভ্যারাইটিজ স্টোর’ নামে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছেন কামাল হোসেন। তিনি শুদ্ধ ফর্টিফাইড সয়াবিন তেলের ডিলারশিপ নিয়ে ব্যবসা করছেন বলে জানা গেছে। তাঁর প্রতিষ্ঠানে বিক্রি হওয়া এক লিটারের বোতলজাত তেল ওজন করে বোতলসহ ৮৯৭ গ্রাম পাওয়া গেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। খালি বোতলের ওজন ২৫ থেকে ৩০ গ্রাম হওয়ায় প্রকৃত তেলের ওজন দাঁড়ায় ৮৬৭ থেকে ৮৭২ গ্রাম।
সাধারণ হিসাবে এক লিটার সয়াবিন তেলের ওজন প্রায় ৯২০ গ্রাম। সে হিসাবে প্রতি লিটারে প্রায় ৪৮ থেকে ৫৩ গ্রাম তেলের ঘাটতির আশঙ্কা রয়েছে। অর্থাৎ নির্ধারিত এক লিটার তেলের পরিবর্তে ক্রেতারা পাচ্ছেন তুলনামূলক কম পরিমাণ তেল। তবে তেলের প্রকৃত ঘনত্ব ও তাপমাত্রা বিবেচনায় নিয়ে নির্ভুল পরিমাপ নিশ্চিত করতে পরীক্ষার প্রয়োজন।
শুধু শুদ্ধ ব্র্যান্ড নয়, ‘লালমনির হাট ভ্যারাইটিজ স্টোরে’ ‘আহার’, ‘স্মার্ট’ ও ‘লাবিব’ ব্র্যান্ডের ফর্টিফাইড সয়াবিন তেল বিক্রির অভিযোগও রয়েছে। পাশাপাশি সয়াবিন তেলের নামে ‘সুপার তেল’ বিক্রি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। ১ লিটার বোতলের মোড়কে মূল্য উল্লেখ রয়েছে ২৩০ টাকা। ফলে একই প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের তেল বিক্রি, পণ্যের প্রকৃত পরিচয় এবং মান নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
এদিকে এসব অভিযোগের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক ও আক্রমণাত্মক আচরণের অভিযোগ ওঠে প্রতিষ্ঠানটির মালিক কামাল হোসেনের বিরুদ্ধে। একপর্যায়ে সেখানে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। কয়েকজন ব্যক্তি জড়ো হয়ে সাংবাদিকদের ঘিরে ধরেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ সময় সাংবাদিকদের হাতে থাকা লোগো সংবলিত মাইক্রোফোন (বুম) ফেলে দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। এতে সংবাদ সংগ্রহের কাজে বাধা সৃষ্টি হয়।
ভোক্তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট এমন গুরুতর অভিযোগের পরও সংশ্লিষ্ট পণ্যের মান, পরিমাপ ও বিপণনব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্নের উত্তর পাওয়া জরুরি। এক লিটারের বোতলে কেন প্রকৃত তেলের পরিমাণ কম পাওয়া যাচ্ছে, সয়াবিন তেলের নামে অন্য ধরনের তেল বিক্রি হচ্ছে কি না, একই প্রতিষ্ঠানে চারটি ব্র্যান্ডের তেল বিক্রির বৈধতা রয়েছে কি না এবং এসব পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে কি না—এসব বিষয় তদন্তের দাবি রাখে।
সাধারণ ক্রেতাদের স্বার্থ রক্ষায় দ্রুত পণ্যের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে পরীক্ষা, ওজন ও পরিমাপ যাচাই এবং অভিযোগের সত্যতা অনুসন্ধান করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের সঙ্গে অসদাচরণ ও সংবাদ সংগ্রহে বাধা দেওয়ার অভিযোগও তদন্তের আওতায় আনার দাবি উঠেছে।
পড়ুন : দ্রুত সময়ের মধ্যে শ্রমিকদের নতুন ন্যূনতম মজুরি ঘোষণার আভাস স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
সা/


