হাওরবেষ্টিত জনপদ নেত্রকোনার খালিয়াজুরীতে প্রমত্তা ধনু নদী কেবল একটি জলধারা নয়, এ অঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকা ও প্রকৃতির প্রাণস্পন্দন। অথচ কিছু অসাধু চক্রের লোভের থাবায় ক্ষতবিক্ষত হচ্ছে নদীর বুক। অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের মাধ্যমে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ও তীরবর্তী জনপদকে ঝুঁকির মুখে ফেলার প্রবণতা রোধে এবার কঠোর অবস্থান নিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। ধনু নদীতে অভিযান চালিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের দায়ে এক ব্যক্তিকে হাতেনাতে আটক করে নগদ দেড় লাখ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
দণ্ডপ্রাপ্ত আনোয়ার হোসেন একই উপজেলার মেন্দিপুর ইউনিয়নের নূরালীপুর গ্রামের মৃত জয়নাল আবেদীনের ছেলে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, সোমবার (২ নভেম্বর) সকাল ৯টা থেকে ১১টা পর্যন্ত খালিয়াজুরী উপজেলার চাকুয়া ইউনিয়নের আসাদপুর ঘাট এলাকায় প্রবাহমান ধনু নদীতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অলিদুজ্জামানের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের সময় মো. আনোয়ার হোসেন নামের এক ব্যক্তিকে হাতেনাতে আটক করা হয়।
জানা যায়, কোনো প্রকার সরকারি ইজারা বা অনুমোদন ছাড়াই আসাদপুর ঘাট সংলগ্ন ধনু নদী থেকে অবাধে বালু উত্তোলন করা হচ্ছিল। আটককৃত ব্যক্তির প্রাথমিক ভাষ্যমতে, তারা গত এক সপ্তাহ যাবৎ এই এলাকায় বালু উত্তোলনের কাজ করছিল। তবে স্থানীয় সচেতন মহল ও প্রশাসনের ধারণা, বালুখেকো চক্রগুলো ধরা পড়লে শাস্তির মাত্রা কমাতে প্রায়শই প্রকৃত তথ্য গোপন করে এবং দীর্ঘদিন ধরেই সুযোগ বুঝে নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে এমন অপকর্ম চালিয়ে আসছিল।
আটকের পর ঘটনাস্থলেই ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে ‘বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন’-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় অভিযুক্ত মো. আনোয়ার হোসেনকে এক লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং তাৎক্ষণিকভাবে সেই অর্থ আদায় করা হয়।
অভিযান প্রসঙ্গে খালিয়াজুরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অলিদুজ্জামান জানান, সকালে টানা দুই ঘণ্টা অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তকে হাতেনাতে আটক করা হয় এবং বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইনে দেড় লাখ টাকা অর্থদণ্ড প্রদানসহ তা আদায় করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা সপ্তাহখানেক ধরে বালু উত্তোলনের কথা স্বীকার করলেও মূলত এ ধরনের অসাধু ব্যবসায়ীরা নিজেদের বাঁচাতে সঠিক তথ্য দিতে চায় না।
নদী ও পরিবেশ বাঁচাতে প্রশাসনের তড়িৎ পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছেন খালিয়াজুরীর সাধারণ মানুষ। হাওরাঞ্চলের মানুষের মতে, অপরিকল্পিত ও অবৈধভাবে নদীর তলদেশ থেকে বালু উত্তোলনের ফলে নদীর পাড় ভাঙন তীব্র হয়, যা বর্ষা মৌসুমে ফসলরক্ষা বাঁধ ও বসতভিটার জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়ায়। জনস্বার্থে এবং ধনু নদীর অস্তিত্ব রক্ষায় প্রশাসনের এমন নজরদারি ও কঠোর অভিযান আগামীতেও অব্যাহত থাকবে- এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয়দের।
পড়ুন : পূর্বধলায় ভ্রাম্যমাণ আদালতে মদ্যপ অবস্থায় যুবকের সাজা


