নোয়াখালীতে কিশোরীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ, সালিশে যুবককে বেত্রাঘাত

নোয়াখালী সদর উপজেলার এওজবালিয়া ইউনিয়নে ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে এক যুবকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ না দিয়ে স্থানীয়ভাবে সালিশ বৈঠক করে অভিযুক্ত যুবককে বেত্রাঘাতের সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়। তবে কয়েকটি বেত্রাঘাতের পরই তা বন্ধ করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেছে কিশোরীর পরিবার। ঘটনার পর থেকে পরিবারটি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বলে জানা গেছে।

অভিযুক্ত যুবকের নাম পিয়াস উদ্দিন রাকিব। তিনি স্থানীয় হোরনের বাড়ির বাসিন্দা। ভুক্তভোগী কিশোরী ও অভিযুক্ত যুবকের বাড়ি পাশাপাশি।

পরিবারের অভিযোগ, গতকাল সকালে কিশোরী বিদ্যালয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। এ সময় সকাল সাড়ে ১১টার দিকে স্কুলের পোশাক পরতে গেলে আগে থেকে ঘরের ভেতরে লুকিয়ে থাকা পিয়াস পেছন দিক থেকে তাকে জাপটে ধরে খাটের ওপর ফেলে দিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করে। একপর্যায়ে ধস্তাধস্তি করে নিজেকে ছাড়িয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে যায় কিশোরী। পরে তার নানিকে বিষয়টি জানায়। নানি বাড়িতে এসে অভিযুক্ত যুবককে ধরার চেষ্টা করলে তিনি পালিয়ে যান।

কিশোরীর নানি জানান, ঘটনার সময় তিনি বাড়ির পাশের রাস্তায় ছাগল বাঁধতে গিয়েছিলেন। এ সময় নাতনির চিৎকার শুনে দ্রুত বাড়িতে ফিরে আসেন। পরে নাতনির কাছ থেকে ঘটনার বিস্তারিত শোনেন।

পরিবারের অভিযোগ, বিষয়টি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জানানো হলে বিকেলে সালিশ বৈঠক বসে। সেখানে অভিযুক্ত যুবককে ৫০টি বেত্রাঘাতের সিদ্ধান্ত হয়। জহির নামের এক ব্যক্তিকে বেত্রাঘাত করার দায়িত্ব দেওয়া হয়। তবে কয়েকটি বেত্রাঘাতের পর সালিশে উপস্থিত ব্যক্তিরা তা বন্ধ করে দেন।

পরে অভিযুক্ত যুবককে কিশোরীর কাছে ক্ষমা চাইতে বলা হয়। এ সময় কিশোরী তাকে একটি চড় দেয়। এর জেরে ওই যুবক কিশোরীকে দুটি লাথি মারেন বলে পরিবারের অভিযোগ। এ নিয়ে সালিশে উপস্থিত ব্যক্তিদের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু হলে বৈঠক শেষ হয়ে যায়।

সরেজমিনে ওই বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের কাউকে পাওয়া যায়নি। সেখানে কিশোরীর এক বাক্‌প্রতিবন্ধী মামাকে দেখা যায়। পরে তাঁর নানি এসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।

কিশোরীর মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তার মা জানান, মেয়েকে নিয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কাছে গেছেন। কখন বাড়িতে ফিরবেন, তা নিশ্চিত করে বলতে পারেননি তিনি। পরে একাধিকবার ফোন করা হলেও তাঁর সঙ্গে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা জানান, ঘটনাটি পুলিশকে না জানিয়ে স্থানীয়ভাবে মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হয়। সালিশে অভিযুক্ত যুবককে বেত্রাঘাতের ঘটনাও ঘটেছে।

কিশোরীর নানি জানান, তাঁর নাতনির সঙ্গে স্থানীয় এক যুবকের বিয়ের কথাবার্তা চলছে। উচ্চমাধ্যমিক পাস করার পর আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ে দেওয়ার কথা রয়েছে। সালিশ বৈঠকে কিশোরীর জেঠা ও হবু স্বামী উপস্থিত ছিলেন বলেও জানান তিনি।

এ বিষয়ে সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম বলেন, এ ধরনের কোনো ঘটনার কথা তিনি শোনেননি। এ ঘটনায় কেউ থানায় লিখিত অভিযোগ বা মামলা করেননি।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : কালিয়াকৈরে বাড়ি ও ফ্ল্যাট মালিকদের সতর্ক করে গণবিজ্ঞপ্তি জারি

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন