‘জলবায়ু অভিঘাত পেরিয়ে গ্রামীণ নারী ক্ষমতায়ন ও সমৃদ্ধির পথে’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে গাইবান্ধার ফুলছড়িতে নানা আয়োজনে উদযাপিত হয়েছে আন্তর্জাতিক গ্রামীণ নারী দিবস-২০২৬ পালিত হয়েছে।
বন্যা, নদীভাঙন ও জলবায়ু পরিবর্তনের নানা প্রতিকূলতা সাহসিকতার সঙ্গে মোকাবিলা করে পরিবার, কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতিতে অসামান্য অবদান রেখে চলেছেন চরাঞ্চলের নারীরা। তবে এই নিরলস অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁদের শ্রমের সঠিক মূল্যায়ন, সমমজুরি, সম্পত্তিতে সমান অধিকার এবং কৃষিতে ন্যায্য অংশীদারত্ব নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছেন বক্তারা।
বুধবার (৪ নভেম্বর) উপজেলার ফুলছড়ি ইউনিয়নের চর ফুলছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে এই আহ্বান জানানো হয়। কমিউনিটিভিত্তিক জলবায়ু সহনশীলতা ও নারীর ক্ষমতায়ন কর্মসূচি (সিআরইএ) প্রকল্পের আওতায় দিবসটি উপলক্ষে র্যালি, কুইজ প্রতিযোগিতা ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
সিআরইএ প্রকল্পের সমন্বয়কারী লাভলী খাতুনের সঞ্চালনায় এবং ফুলছড়ি ইউনিয়ন নারী দলের সদস্য হামিদা বেগমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মনোয়ার হোসেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ও আলোচক হিসেবে আরও বক্তব্য দেন,চর ফুলছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহমান,পশ্চিম পারুল বেগম রোকেয়া নারী দলের সভানেত্রী হামিদা বেগম,পশ্চিম টেংরাকান্দী মেঘনা নারী দলের সভানেত্রী মর্জিনা বেগম।
আলোচনায় বক্তারা বলেন, গ্রামীণ নারীরা প্রতিদিন গৃহস্থালি সামলানোর পাশাপাশি কৃষিকাজ, গবাদিপশু পালন ও খাদ্য সংরক্ষণের মতো গুরুদায়িত্ব পালন করলেও তাঁদের শ্রমের যথাযথ অর্থনৈতিক মূল্যায়ন হয় না। বিশেষ করে চরাঞ্চলের নারীরা বন্যা ও নদীভাঙনের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের সঙ্গে লড়াই করে পরিবার ও জীবিকা টিকিয়ে রাখতে অবিরাম পরিশ্রম করে যাচ্ছেন।
জলবায়ু সহনশীল কৃষি এবং একটি টেকসই গ্রামীণ অর্থনীতি গড়ে তুলতে নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন বক্তারা। একই সঙ্গে কৃষিতে নারীর অবদানকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়া, সমমজুরি নিশ্চিত করা, সম্পত্তিতে অধিকার, কৃষি উপকরণে সহজ প্রবেশাধিকার এবং নারী কৃষকদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য দেওয়ার দাবি জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে বক্তারা জাতীয় কৃষিনীতি-২০১৩ অনুযায়ী কৃষি উৎপাদন ও বিপণনে নারীর অংশগ্রহণ আরও বাড়ানোর তাগিদ দেন। পাশাপাশি, নারী কৃষকদের জন্য বিশেষ সরকারি বরাদ্দ নিশ্চিত করা এবং ঘরের কাজে পুরুষদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর মাধ্যমে সমতাভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানানো হয়।
এসকেএস ফাউন্ডেশনের বাস্তবায়নে এবং মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছে সুইডেন সরকার। বর্ণাঢ্য এই আয়োজনে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, চরাঞ্চলের নারী-পুরুষ, কিশোর-কিশোরী ও বিভিন্ন গণমাধ্যমের কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। পরিশেষে, আনন্দঘন পরিবেশে কুইজ প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানটির সমাপ্তি ঘটে।
পড়ুন : টাঙ্গাইলে যাত্রীবাহি বাসের লাগেজ থেকে ৩০ কেজি গাঁজাসহ ৪ ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার


