স্বামীর দেওয়া আগুনে দগ্ধ: অবশেষে মৃত্যুর কাছে হার মানলেন ইখতারা

মাদকাসক্ত স্বামীর দেওয়া আগুনে দগ্ধ হয়ে চার দিন মৃত্যুর সাথে লড়াই করে অবশেষে মারা গেছেন তিন সন্তানের জননী ইখতারা সরকার (৩০)। বুধবার সকালে রাজধানীতে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

নিহত ইখতারা আশুগঞ্জ উপজেলার চর চারতলা গ্রামের ঈদন সরকারের মেয়ে। তাঁর স্বামী জাহাঙ্গীর মিয়ার বাড়ি নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলায়। প্রায় ১৫ বছর আগে তাঁদের বিয়ে হয়। তাঁদের সংসারে দুই মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত স্বামী জাহাঙ্গীর মিয়া ঘটনার পর থেকেই পলাতক রয়েছেন।

পরিবারের সদস্যরা জানান, জাহাঙ্গীর প্রায় এক বছর ধরে মাদকাসক্ত হয়ে পড়েন। এ নিয়ে তাঁদের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়াঝাঁটি হতো। স্ত্রীকে মারধরও করতেন তিনি। একপর্যায়ে দেড় মাস আগে স্বামীর নির্যাতনের শিকার হয়ে দুই বছর বয়সী ছেলেকে নিয়ে বাবার বাড়িতে আশ্রয় নেন ইখতারা।

স্বজনদের ভাষ্য, ঘটনার আগের দিন শুক্রবার ছোট ছেলেকে নিতে শ্বশুরবাড়িতে আসেন জাহাঙ্গীর। এ সময় স্ত্রীর সঙ্গে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে তাঁকে পেট্রল ঢেলে পুড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেন। পরদিন ৩১ অক্টোবর ভোরে ইখতারার মা ফজরের নামাজ পড়তে ঘর থেকে বের হলে সেই সুযোগে ঘরে প্রবেশ করেন জাহাঙ্গীর। পরে বিছানায় ঘুমিয়ে থাকা ইখতারার শরীরে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তাঁর চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্যরা ছুটে এসে গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করেন।

এ ঘটনায় ইখতারার গলা, কণ্ঠনালীসহ শরীরের প্রায় ৫০ শতাংশ পুড়ে যায়। প্রথমে তাঁকে উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হলেও অবস্থার অবনতি হওয়ায় ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। সেখানে চার দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর বুধবার সকালে তাঁর মৃত্যু হয়।

আশুগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আনিসুর রহমান জানান, এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার সকালে ওই গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত স্বামী পলাতক রয়েছেন। তাঁকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের অভিযান চলছে।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : অসহায়ের চিকিৎসা সেবায় ‘বাতিঘর’, কালকিনিতে দিনব্যাপী ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন