বিগত সময়ের সৃজনশীল পরিক্ষার কারণে সম্প্রতি এইচএসসি পরিক্ষার ফলাফল বিপর্যয়। রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে এক-দুই বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছে ৬০ হাজার। শিক্ষার্থীরা পূর্বের পাশ প্রথার প্রভাবের কারনেই ফেলের বড় বিপর্যয় নেমে এসছে বলে ধারনা করছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা।
বিগত সময়ে ছাত্র-ছাত্রীরা ফেল করলে এক বছর অপেক্ষা করতে হতো। দেশের ইতিহাসে এখন তা নতুন দৃষ্ট্রান্ত সৃষ্টি করেছে। এক বছরের পরিবর্তে এক মাসের মধ্যেই এক-দুই বিষয়ে অকৃতকার্য ছাত্র-ছাত্রীদের পূনরাই পরিক্ষার ব্যবস্থা করছেন বর্তমান সরকার।
২০২৬ সালে এইচএসসি পরিক্ষায় সারাদেশের ন্যায় রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড়ে ফেলের সংখ্যা প্রায় অর্ধেক। এই বোর্ডের অধীনস্থ উচ্চ মাধ্যমিক পরিক্ষায় এক বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৪০ হাজার ১শত ৮১জন। যার অকৃতকার্যের হার ২৯.২৫। দুই বিষয়ে অকৃতকার্য ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা ১৯ হাজার ৮শত ৬৮ জন। যার অকৃতকার্যের হার ১৪.৪৬শতাংশ। তবে গত ২০২৫ সালে এইচএসসি পরিক্ষায় এক বিষয়ে অকৃতকার্যের হার ছিল ২৪.৯৫ শতাংশ এবং দুই বিষয়ের অকৃতকার্যের হার ছিল ৯.৪৯ শতাংশ।
বর্তমান সরকার ও শিক্ষা মন্ত্রীর এই উদ্দ্যোগ প্রশংসনীয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। রাজশাহীর অধীনস্থ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং বিশেষজ্ঞদের মতে বিগত সময়ের সৃজনশীল পরিক্ষার কারনে শিক্ষার্থীরদের অপ্রত্যাশিত ফলাফল। অনেক শিক্ষার্থী তাদের পরিক্ষার ফলাফল সন্তোষজন না হলেই আত্মহত্য করছে। কেউবা ব্যাতিক্রম ঘটনা ঘটাচ্ছে।
সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান রাষ্ট্রবিজ্ঞান মোঃ তানভিরুল হক বিসিএস (সাধারন শিক্ষা) বলেন, এক বা দুই বিষয় ফেল মানে সে খারাপ ছাত্র নই। ছাত্র-ছাত্রীদের অনেক সময় পারিপার্শ্বিক কারনে পরিক্ষায় খাতায় তাদের কাঙ্খিত লিখাটি লিখে আসতে পারে না। তাদের জন্য সরকারের এই ব্যবস্থাকে তিনি সাধুবাদ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, অনেক শিক্ষার্থী রয়েছে যারা পরিক্ষার ফলাফল একটু খারাপ হলেই আত্মহত্যা বা বিভিন্ন অশুভ আচারণ করে। মানসিক চাপ নিতে পারেনা। দীর্ঘ এক বছর অপেক্ষার পালা শেষ একমাসেই হতে যাচ্ছে শিক্ষার্থীদের চুড়ান্ত সুযোগ।
রাজশাহী জেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ জায়েদুর রহমান এই পত্রিকার প্রতিনিধিকে জানায়, অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের পূনরাই পরিক্ষার সুযোগ সময়পযোগী। এক বছর অপেক্ষা না করে এক মাসের মধ্যে ছাত্র-ছাত্রীরা তাদের মেধা যাচাই করার সুযোগ পাচ্ছে। শিক্ষা মন্ত্রীর ঘোষণা দৃষ্টান্ত রাখবে বলে তিনি মনে করেন।
রাজশাহী মাধ্রমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, পরিক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ইফফাত জেরীন জানিয়েছেন, যাদের মেধা রয়েছে তারাই এই স্বল্প সময়ের মধ্যে তাদের ফলাফল ভালো হবে। এখানেও আবার ফেল করবে তাদের হয়তো সুযোগ থাকবে বলে মনে হয় না। শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের চিঠি আসার পর বুঝা যাবে শিক্ষা পদ্ধতীর নতুন মোড় কি নিচ্ছে। শিক্ষা মন্ত্রীর যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত ভালো ছাত্রদের শিক্ষার দোয়ার পূনরাই খুলে গেল।
শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউট, রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয় পরিচালক, অধ্যাপক আক্তার বানু আলপনা বলেন, বিগত সময়ের সৃজনশীল পরিক্ষার কারনেই এই ফলাফলের বিপর্যয় হচ্ছে। কভিড-১৯ কারনে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অন লাইন ক্লাস নিয়েছেন। বাস্তবতা আর কল্পনা এক নয়। এক সময় খাতায় লিখলেই পাশ করতো এবং ভালো নাম্বার পেত। বর্তমান সময়ের পরিক্ষার ফলাফলের জন্য শিক্ষার্থীরা দোষি নই। এর জন্য দায়ি নতুন নতুন পরিক্ষার পদ্ধতী। সম্প্রতী এক বছরের পরিবর্তে এক মাসের মধ্যেই ছাত্র-ছাত্রীরা তাদের মেধা যাচায়ের সুযোগ পাচ্ছে। এই পরিক্ষার ব্যবস্থা না করলে সারা দেশের বিশ^বিদ্যালয় গুলোতে প্রায় ৭ লক্ষ ছিট পরিপূর্ন হতো না। শিক্ষা মন্ত্রী সারাদেশের শিক্ষার্থীদের কথা চিন্তা করেই সিদ্ধান্ত দিয়েছেন, যা প্রকৃত অর্থেই প্রশংসার দাবিদার।
পড়ুন : আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানালেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো
সা/


