লোকসানের চাপে দিশেহারা প্রান্তিক খামারি, স্বপ্নের খামার এখন ঋণের বোঝা

স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে গড়ে তুলেছিলেন ডিম উৎপাদনের খামার। কেউ বেকারত্ব ঘোচাতে, কেউ পরিবারের অভাব দূর করতে নিজের জমানো পুঁজি বিনিয়োগ করেছেন। আবার কেউ ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে শুরু করেছিলেন ব্যবসা। স্বপ্ন ছিল, নিজের পরিশ্রমে বদলে দেবেন পরিবারের ভাগ্য। কিন্তু উৎপাদন খরচের তুলনায় ডিমের দাম কম হওয়ায় সেই স্বপ্ন এখন দুঃস্বপ্নে পরিণত হচ্ছে। প্রতিদিন লোকসান গুনতে গুনতে ঋণের বোঝায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন প্রান্তিক খামারিরা।

বিজ্ঞাপন

খামারিদের হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে প্রতিটি ডিম উৎপাদনে খরচ হচ্ছে ৯ টাকারও বেশি। অথচ পাইকারি বাজারে সেই ডিম বিক্রি করতে হচ্ছে প্রায় সাড়ে ৮ টাকায়। ফলে প্রতিটি ডিম বিক্রিতেই লোকসান হচ্ছে। প্রতিদিন হাজার হাজার ডিম উৎপাদন করেও লাভের মুখ দেখতে পারছেন না তাঁরা।

খামারিদের অভিযোগ, উৎপাদন ব্যয়ের বড় অংশই চলে যাচ্ছে মুরগির খাবার কিনতে। সম্প্রতি দুই দফায় প্রতি বস্তা খাদ্যের দাম বেড়েছে ২২০ থেকে ২৩০ টাকা। পাশাপাশি বেড়েছে শ্রমিকের বেতন, ওষুধ ও বিদ্যুৎ বিলসহ অন্যান্য খরচ। সব মিলিয়ে খামার পরিচালনা করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন প্রান্তিক উদ্যোক্তারা।

লোকসান সামাল দিতে কেউ নিজের জমানো টাকা ভাঙছেন, কেউ আবার ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে পারছেন না। অনেকেই লোকসান জেনেও খামার চালিয়ে যাচ্ছেন। কারণ, খামার বন্ধ করে দিলেও বন্ধ হবে না ঋণের বোঝা, থামবে না পরিবারের ভরণপোষণের দায়িত্ব।

অন্যদিকে উৎপাদক পর্যায়ে কম দামে ডিম বিক্রি হলেও খুচরা বাজারে বেশি দামে কিনতে হচ্ছে সাধারণ ভোক্তাদের। উৎপাদক ও খুচরা বাজারের দামের এই ব্যবধানের সুবিধা কারা পাচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন খামারিরা।

ইতোমধ্যে লোকসানের কারণে অনেক প্রান্তিক খামার বন্ধ হয়ে গেছে। খামারিদের আশঙ্কা, পরিস্থিতির উন্নতি না হলে ছোট ও মাঝারি খামারগুলোর বড় একটি অংশ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হবে না। এতে কর্মসংস্থান হারানোর পাশাপাশি দেশের ডিম উৎপাদনেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

এ অবস্থায় মুরগির খাদ্যের দাম কমানো, উৎপাদন খরচের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ডিমের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা এবং সহজ শর্তে ঋণ ও সরকারি সহায়তার দাবি জানিয়েছেন খামারিরা।

যে খামার গড়ে একদিন স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন, আজ সেই খামারই তাঁদের দুশ্চিন্তার কারণ। দিনরাত পরিশ্রম করে হাজার হাজার ডিম উৎপাদন করেও যাঁদের সংসারে ফিরছে না স্বস্তি, তাঁদের চোখে এখন অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ। তাঁরা দয়া চান না, চান পরিশ্রমের ন্যায্য মূল্য। তাঁদের প্রশ্ন—লোকসানের এই বোঝা নিয়ে আর কত দিন টিকে থাকবেন প্রান্তিক খামারিরা?

পড়ুন : চুয়াডাঙ্গা সীমান্তে গুলি, আহত বাংলাদেশিকে ধরে নিয়ে গেল বিএসএফ

সা/

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন