নিয়োগের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন, BoA বলেছে নিয়োগ দিতে, আমি দিয়েছি: ইইউবির ভিসি

নিয়োগের বৈধতা নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়েছেন ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের (ইইউবি) উপাচার্য। নিয়োগপ্রক্রিয়া নিয়ে শিক্ষার্থীদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছেন আমাকে Board of Administrators (BoA) বলেছে নিয়োগ দিতে, আমি দিয়েছি। সেটা বৈধ নাকি অবৈধ, আমি বলতে পারব না।

বিজ্ঞাপন

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক অচলাবস্থা নিরসন, নিয়োগে অনিয়মের তদন্ত, আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ এবং শিক্ষার্থীদের সুযোগ-সুবিধা বাস্তবায়নের দাবিতে শুক্রবার (৬ নভেম্বর) উপাচার্যের কাছে সাত দফা স্মারকলিপি দেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। দুপুর দুইটার দিকে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের গাবতলী ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন। পরে উপাচার্যের কাছে স্মারকলিপি জমা দেন তাঁরা। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার মো. আসাফউদ্দৌলা ও কানিজ ফাতেমা, প্রক্টর ইনচার্জ সাখাওয়াত হোসেন সেজানসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

স্মারকলিপি দেওয়ার সময় উপস্থিত সাংবাদিকদের সামনে নিয়োগপ্রক্রিয়া নিয়ে শিক্ষার্থীদের প্রশ্নের জবাবে উপাচার্য ওই বক্তব্য দেন। তাঁর এ বক্তব্যের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়োগপ্রক্রিয়ার বৈধতা এবং এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

সাত দফা দাবির মধ্যে রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর আরোপিত তিনটি রেড স্টার প্রত্যাহারের প্রকৃত কারণ ও সংশ্লিষ্ট জটিলতা প্রকাশ এবং তা প্রত্যাহারে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ। এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি কমাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব লিফট চালু ও নিয়মিত সচল রাখা এবং নিজস্ব বাসসেবা পুনরায় চালুর দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

শিক্ষকদের বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধ, নিয়মিত বেতন নিশ্চিত করা এবং শিক্ষকদের ধরে রাখতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। তাঁদের অভিযোগ, শিক্ষকদের বেতন-সংক্রান্ত জটিলতা ও শিক্ষকদের চলে যাওয়ার বিষয়টি শিক্ষার পরিবেশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিতের দাবিতে আয়-ব্যয়, টিউশন ফি থেকে প্রাপ্ত অর্থ, ব্যাংক হিসাব, অর্থ উত্তোলন ও ব্যয়ের পূর্ণাঙ্গ হিসাব প্রকাশের দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
নিয়োগসংক্রান্ত দাবিতে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর নিয়োগপ্রক্রিয়া, যোগ্যতা ও নিয়োগের বৈধতা নিরপেক্ষভাবে যাচাইয়ের কথা বলেছেন। বিধিবহির্ভূত নিয়োগের অভিযোগ তদন্ত করে প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট নিয়োগ বাতিল এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

স্মারকলিপিতে শিক্ষার্থীরা উল্লেখ করেন, বিশ্ববিদ্যালয় কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয় এটি শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় পরিচালিত একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। তাই প্রশাসনিক স্বচ্ছতা, জবাবদিহি, শিক্ষার্থীদের অর্থের সঠিক ব্যবহার এবং মানসম্মত শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দায়িত্ব।

শিক্ষার্থীরা স্মারকলিপি গ্রহণের দিন থেকে পরবর্তী তিন কর্মদিবসের মধ্যে সাত দফা দাবির বিষয়ে লিখিত জবাব ও বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে প্রচলিত আইন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধিবিধান অনুসরণ করে পরবর্তী কর্মসূচি গ্রহণের হুঁশিয়ারি দেন তাঁরা।
এ ছাড়া শিক্ষার্থীরা জানান, সেমিস্টার ব্রেক শেষে অবৈধভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রবেশ করলে তাঁদের অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হবে।

স্মারকলিপি প্রদান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। পরে বিকাল ৪টায় শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাস ত্যাগ করেন।

পড়ুন:গাজীপুরে জনস্বার্থমূলক সাংবাদিকতায় দক্ষতা উন্নয়ন কর্মশালা

ইমি/

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন