বিচারাধীন জমিতে কাজ বন্ধের নির্দেশ, ওসির বিরুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারকে মীমাংসার চাপের অভিযোগ

নারায়ণগঞ্জের বন্দরে আদালতে মালিকানা সংক্রান্ত মামলা বিচারাধীন থাকা জমিতে কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ এবং জোরপূর্বক মীমাংসার জন্য চাপ প্রয়োগের অভিযোগ উঠেছে বন্দর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জামাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় শনিবার (৭ নভেম্বর) কল্যান্দি এলাকায় সংবাদ সম্মেলন করে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ভুক্তভোগী মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যরা।

বিজ্ঞাপন

সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা জানান, বন্দর উপজেলার মাধবপাশা মৌজার সিএস ও এসএ ৩২১ নম্বর দাগ এবং আরএস ৪০০ নম্বর দাগের ১৫ শতাংশ জমি নিয়ে হাজী আব্দুল আউয়াল গং ও শফিউদ্দিন গংদের মধ্যে দীর্ঘ প্রায় ১৫ বছর ধরে আদালতে মালিকানা সংক্রান্ত দেওয়ানি মামলা চলমান রয়েছে। জমিটির মালিকানা নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে।

ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, সম্প্রতি প্রতিপক্ষের পক্ষ নিয়ে বন্দর থানার ওসি মো. জামাল উদ্দিন ওই জমিতে গিয়ে কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন। এ সময় তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি চিঠি রয়েছে বলে দাবি করে বিষয়টি মীমাংসার জন্য চাপ প্রয়োগ করেন। শনিবার পর্যন্ত জমিতে সব ধরনের নির্মাণ ও সংস্কারকাজ বন্ধ রাখার কথাও জানান তিনি। তবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চিঠির কথা বলা হলেও ভুক্তভোগীদের হাতে এর কোনো অনুলিপি দেওয়া হয়নি। এমনকি চিঠিটি দেখতে চাইলেও তাদের দেখানো হয়নি বলে অভিযোগ করেন তারা।

সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীরা আরও জানান, জমি নিয়ে আদালতে মামলা চলমান থাকলেও সেখানে ১৪৫ ধারা কিংবা আদালতের কোনো নিষেধাজ্ঞা জারি নেই। এ অবস্থায় পুলিশের পক্ষ থেকে একতরফাভাবে কাজ বন্ধের নির্দেশ দেওয়া এবং মীমাংসার জন্য চাপ প্রয়োগের বিষয়টি আইনগতভাবে কতটা যৌক্তিক, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তারা। এ ঘটনায় তারা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বন্দর থানার ওসি মো. জামাল উদ্দিন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘এ বিষয়ে প্রতিপক্ষ বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন করেছে। অনেকেই তো অনেক কিছু বলে। বিষয়টি এসপি সাহেবের নির্দেশেই আমি সেখানে গিয়েছিলাম। তারা এসেছিল, আমি বলে দিয়েছি—আপনাদের বিষয় আপনারা দেখেন। এখানে আমাদের পুলিশ আর যাবে না।’

পড়ুন:কুয়েতের বাংলাদেশ দূতাবাসে ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ পালিত

ইমি/

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন