বাংলা সিনেমার মহানায়িকা সুচিত্রা সেনের নাতনি তিনি। মা মুনমুন সেনও চলচ্চিত্রজগতের পরিচিত মুখ। পরিবারের অভিনয়ের ঐতিহ্য ধরে রেখে নিজেও টালিউডে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন অভিনেত্রী রাইমা সেন। নিজের অভিনয়গুণ, সৌন্দর্য ও ব্যক্তিত্ব দিয়ে জায়গা করে নিয়েছেন দর্শকদের মনে। ক্যারিয়ারে উপহার দিয়েছেন বেশ কিছু প্রশংসিত সিনেমা। আজ এই অভিনেত্রীর জন্মদিন। বিশেষ বিষয় হলো, একই দিনে জন্মদিন পালন করছেন টালিউডের আরেক জনপ্রিয় অভিনেত্রী ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তও। জন্মদিনের এই বিশেষ দিনে বন্ধুকে নিয়ে নিজের অনুভূতি ও প্রত্যাশার কথা জানিয়েছেন ঋতুপর্ণা।
কলকাতার সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজারে প্রকাশিত এক লেখায় রাইমাকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করেছেন ঋতুপর্ণা। সেখানে উঠে এসেছে তাঁদের বন্ধুত্ব, একসঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা, পারিবারিক সম্পর্ক এবং ব্যক্তিগত জীবনের নানা গল্প।
ঋতুপর্ণার ভাষায়, একই দিনে জন্ম হওয়ায় তাঁদের মধ্যে কিছু মিল রয়েছে। দুজনেই মিশুক স্বভাবের এবং খুব সহজেই মানুষের সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে তুলতে পারেন। সময়ের সঙ্গে তাঁদের সম্পর্কও আরও গভীর হয়েছে। শুধু সহকর্মী নয়, একে অপরের কাছে পরিবারের সদস্যের মতো হয়ে উঠেছেন তাঁরা।
রাইমাকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে ঋতুপর্ণা লেখেন, ‘আমার আর রাইমার একই দিনে জন্মদিন। তাই আমরা খানিক একরকম। আমরা দু’জনেই খুব মিশুক। মানুষের সঙ্গে খুব তাড়াতাড়ি বন্ধুত্ব করি, মিলেমিশে যাই। আমরা আসলে পরিবারের মতোই হয়ে গিয়েছি। আমি আর রাইমা যখন ‘অনুরণন’ করলাম, তখন আমাদের মধ্যে বন্ধুত্ব অনেক গাঢ় হয়ে গিয়েছিল। আমরা দু’জনে ভীষণ মজাও করেছি।’
একসঙ্গে সিনেমায় কাজ করার মধ্য দিয়ে তাঁদের বন্ধুত্ব আরও দৃঢ় হয়। বিশেষ করে ‘অনুরণন’ সিনেমার শুটিংয়ের সময় একে অপরকে কাছ থেকে জানার সুযোগ পেয়েছিলেন তাঁরা। কাজের ফাঁকে আড্ডা, হাসি-ঠাট্টা আর নানা আনন্দঘন মুহূর্ত তাঁদের সম্পর্ককে আরও আপন করে তুলেছে।
ঋতুপর্ণা জানান, রাইমার সঙ্গে প্রায়ই তাঁর দেখা ও আড্ডা হয়। দুজনের ব্যস্ততার কারণে প্রতিদিন দেখা না হলেও তাঁদের সম্পর্কের আন্তরিকতা কমেনি। একে অপরের সুখ-দুঃখের সময় পাশে থাকার চেষ্টা করেন তাঁরা।
বন্ধুত্বের স্মৃতি বলতে গিয়ে ব্যক্তিগত জীবনের একটি আবেগঘন ঘটনার কথাও জানিয়েছেন ঋতুপর্ণা। তাঁর মা এবং রাইমার বাবা দুজনই চলতি নভেম্বর মাসে মারা গেছেন। মায়ের মৃত্যুর পর রাইমাই প্রথম তাঁর সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলেন। সঙ্গে ছিলেন রাইমার মা অভিনেত্রী মুনমুন সেন।
এ প্রসঙ্গে ঋতুপর্ণা বলেন, ‘ওর মনটাও ভীষণ ভাল, শিশুর মতো। আমার মা আর ওর বাবা, এই নভেম্বরেই চলে গিয়েছেন। আমার মায়ের মৃত্যুর পর প্রথমে রাইমাই এসেছিল আমার সঙ্গে দেখা করতে। সঙ্গে মুনমুন সেনও এসেছিলেন। আমাদের হয়তো রোজ দেখা হয় না, কিন্তু কোথাও একটা বন্ডিং আছে। আমরা প্রচুর পার্টিও করি।’
ঋতুপর্ণার এই কথায় স্পষ্ট, তাঁদের বন্ধুত্ব কেবল সিনেমার পর্দা কিংবা কাজের জায়গায় সীমাবদ্ধ নয়। ব্যক্তিগত জীবনের আনন্দ-বেদনার মুহূর্তেও একে অপরের পাশে থাকেন তাঁরা।
রাইমা সেনের বয়স এখন ৪৭ বছর। তবে এখনো বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হননি এই অভিনেত্রী। তাঁর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে ভক্তদের আগ্রহও কম নয়। জন্মদিনে বন্ধুর জন্য বিশেষ একটি প্রত্যাশার কথা জানিয়েছেন ঋতুপর্ণা। তিনি চান, রাইমার জীবনে দ্রুত এমন একজন মানুষ আসুক, যিনি তাঁকে ভালোবাসা ও আনন্দে ভরিয়ে রাখবেন।
বন্ধুর জন্য শুভকামনা জানিয়ে ঋতুপর্ণা লেখেন, ‘ও খুব প্রাণবন্ত। ওকে শুভেচ্ছা। এখন জীবনে যেন ও সবকিছু পায়। ও যখন যে কাজটা করে, সেটা খুব মন দিয়ে করে। শুধু আমার মনে হয় যে, ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত ওর একটু ভেবে নেওয়া উচিত। আমি চাই ওর জীবনে খুব তাড়াতাড়ি এক জন ‘প্রিন্স চার্মিং’ আসুক।’
বন্ধুর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে এমন মজার ও আন্তরিক মন্তব্যে তাঁদের সম্পর্কের উষ্ণতাই ফুটে উঠেছে। তবে রাইমার বিয়ে নিয়ে নিজের প্রত্যাশা জানালেও তাঁর সিদ্ধান্তকে সম্মান করেন ঋতুপর্ণা।
সুচিত্রা সেনের নাতনি এবং মুনমুন সেনের মেয়ে হিসেবে চলচ্চিত্রজগতে পরিচিতি পেলেও রাইমা নিজের অভিনয় দক্ষতায় আলাদা অবস্থান তৈরি করেছেন। বাংলা সিনেমার পাশাপাশি হিন্দি চলচ্চিত্রেও কাজ করেছেন তিনি। বিভিন্ন ধরনের চরিত্রে অভিনয় করে নিজের প্রতিভার পরিচয় দিয়েছেন।
অন্যদিকে ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তও দীর্ঘদিন ধরে বাংলা চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় অভিনেত্রী হিসেবে কাজ করছেন। দুই অভিনেত্রীর বন্ধুত্ব টালিউডের পরিচিত সম্পর্কগুলোর একটি।
জন্মদিনে তাই রাইমার জন্য ঋতুপর্ণার শুভেচ্ছা শুধু আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ থাকেনি। বন্ধুর ভালো থাকা, সাফল্য ও ব্যক্তিগত জীবনের আনন্দ—সবকিছু নিয়েই নিজের প্রত্যাশার কথা জানিয়েছেন তিনি। একই দিনে জন্ম নেওয়া দুই অভিনেত্রীর এই বিশেষ দিন বন্ধুত্বের এক সুন্দর গল্পও সামনে নিয়ে এসেছে।
পড়ুন:এক কাপড়ে পালিয়ে যাওয়া ব্যক্তির দেশে ফেরার আর কোনো সুযোগ নেই: কামরুল হাসান
ইমি/


