হেমন্তের মাঝামাঝি ২৩ কার্তিকের ভোররাত। ঘড়ির কাঁটায় তখন রাত আনুমানিক ৪টা। সীমান্তের জনপদ যখন গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন, ঠিক তখনই দেশের সীমান্ত সুরক্ষায় এবং মাদকের আগ্রাসন রুখতে সজাগ দৃষ্টি রাখছিলেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্যরা। সেই নিশ্ছিদ্র প্রহরার অংশ হিসেবেই ময়মনসিংহ জেলার ধোবাউড়া সীমান্তে পরিচালিত অভিযানে ভেস্তে গেছে মাদক কারবারিদের তৎপরতা, জব্দ হয়েছে ৭০ বোতল ভারতীয় মদ।
রবিবার (৮ নভেম্বর ২০২৬) দুপুর পৌনে ২টার দিকে নেত্রকোনা ব্যাটালিয়নের (৩১ বিজিবি) অধিনায়ক ও পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল তৌহিদুল বারী (পিএসসি) প্রেরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সীমান্তে পরিচালিত মাদকবিরোধী অভিযানের বিস্তারিত তথ্য জানান।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, সীমান্ত এলাকা দিয়ে মাদকের চালান প্রবেশের গোপন সংবাদ আগে থেকেই ছিল বাহিনীর নিজস্ব গোয়েন্দা শাখার কাছে। সেই সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে রবিবার (৮ নভেম্বর) ভোর রাত আনুমানিক ৪টার দিকে নেত্রকোনা ব্যাটালিয়নের অধীনস্থ মুন্সিপাড়া বিওপির (বর্ডার অবজারবেশন পোস্ট) সাত সদস্যের একটি টহল দল অভিযানে নামে।
মুন্সিপাড়া বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার সীমান্ত পিলার ১১৪১/৪-এস থেকে আনুমানিক চারশো গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে মাদকবিরোধী অভিযানটি পরিচালনা করা হয়। স্থানটি ময়মনসিংহ জেলার ধোবাউড়া উপজেলার এক নম্বর দক্ষিণ মাইজপাড়া ইউনিয়নের অন্তর্গত ছোটমুন্সিপাড়া এলাকায় অবস্থিত। ভোররাতের অন্ধকারে বিজিবি টহল দলের উপস্থিতি টের পেয়ে চোরাকারবারিরা সটকে পড়লেও, ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে আসামিবিহীন ও মালিকবিহীন অবস্থায় ৭০ বোতল ভারতীয় মদ আটক করতে সক্ষম হন বিজিবি সদস্যরা।
অভিযান চলাকালে কাউকে আটক করা সম্ভব না হলেও বিজিবির সময়োচিত পদক্ষেপে মাদকের এই চালানটি দেশের অভ্যন্তরে ছড়িয়ে পড়া থেকে রক্ষা পেয়েছে।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে লেফটেন্যান্ট কর্নেল তৌহিদুল বারী আরও নিশ্চিত করেছেন, সীমান্ত থেকে আটককৃত ৭০ বোতল ভারতীয় মদ নেত্রকোনা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরে জমা করা হবে।
সীমান্তবর্তী অঞ্চলের সাধারণ মানুষের মতে, ভোররাতের নীরবতা ভেঙে বিজিবির এমন তৎপরতা ও নিয়মিত টহল কেবল আন্তঃসীমান্ত চোরাচালানই রোধ করছে না, বরং স্থানীয় সমাজ ও তরুণ প্রজন্মকে মাদকের ছোবল থেকে সুরক্ষিত রাখতেও বড় ভূমিকা রাখছে।
ইমি/


