বিজ্ঞাপন

পাকিস্তানে ‘বিজয়োল্লাস’, চলছে মিষ্টি বিতরণ

কাশ্মির সীমান্তে টানা উত্তেজনার পর ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধবিরতির ঘোষণায় সীমান্তবর্তী অঞ্চলে স্বস্তি ও উচ্ছ্বাসের আবহ তৈরি হয়েছে। শনিবার (১০ মে) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ’-এ যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেন। এরপরই বিষয়টি নিশ্চিত করে ভারত ও পাকিস্তান। যুদ্ধের আতঙ্কে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়া বহু মানুষ ইতোমধ্যে ঘরে ফিরতে শুরু করেছেন।

বিজ্ঞাপন

সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোতে ফের জেগে উঠেছে জনজীবন। মিষ্টির দোকানে উপচে পড়া ভিড়, একে অপরকে মিষ্টি খাইয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে মানুষ উদযাপন করছেন যুদ্ধ থেমে যাওয়ার খবর। কেউ হাত উঁচিয়ে উল্লাস করছেন, কেউ বা প্রিয়জনদের বুকে টেনে নিচ্ছেন দীর্ঘ অনিশ্চয়তা কাটিয়ে।

পাকিস্তানের লাহোর, ইসলামাবাদ, করাচি ও মুজাফফরাবাদ শহরে ‘পাকিস্তান জিন্দাবাদ’ স্লোগানে মুখর হয়ে উঠেছে জনতা। লাহোরের এক তরুণ মোহাম্মদ ফাতেহ বলেন, “আজ পাকিস্তানের জন্য এক গর্বের দিন। আমাদের শক্ত প্রতিরোধের ফলে ভারত যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে।” ইসলামাবাদের গৃহিণী যুবাইদা বিবি বলেন, “যুদ্ধ শুধু কান্না আর ক্ষয়ক্ষতি বয়ে আনে। এখন মনে হচ্ছে ঈদের আনন্দ ফিরে এসেছে।”

পাকিস্তানশাসিত কাশ্মীরের রাজধানী মুজাফফরাবাদেও স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন স্থানীয়রা। জুলফিকার আলী নামের এক বাসিন্দা বলেন, “শান্তি মানেই আমাদের জন্য বেঁচে থাকা। আমরা বহুদিন ধরে যুদ্ধ সহ্য করে এসেছি।”

পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার জানিয়েছেন, শনিবার বিকেল ৪টা ৩০ মিনিট থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে। জিও নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, এই উদ্যোগে প্রায় ৩০টি দেশ কূটনৈতিকভাবে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছে, বিশেষ করে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। তিনি শান্তিপ্রক্রিয়ায় যুক্ত দেশগুলোকে ধন্যবাদ জানান।

ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রি জানান, পাকিস্তানের সামরিক মহাপরিচালক (ডিজিএমও) সরাসরি ভারতীয় সমকক্ষকে ফোন করে যুদ্ধবিরতির বিষয়ে চূড়ান্ত আলোচনা করেন। উভয় দেশ স্থল, আকাশ ও সমুদ্রপথে সকল সামরিক কার্যক্রম বন্ধ রাখতে সম্মত হয়েছে।

এছাড়া, ১২ মে আবারও দুই দেশের সামরিক কর্মকর্তারা আলোচনায় বসবেন বলে জানানো হয়েছে।

পড়ুন: ভারত-পাকিস্তানের পাল্টাপাল্টি যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ

দেখুন: ভারত VS পাকিস্তান: কে এগিয়ে? |

ইম/

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন