সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কের কেন্দ্রে ইসরায়েলি বিমান হামলার ঘটনায় বিশ্বজুড়ে নিন্দার ঝড় বইছে। তুরস্ক, ইরান, সংযুক্ত আরব আমিরাতের পাশাপাশি জাতিসংঘ, উপসাগরীয় সহযোগিতা সংস্থা (জিসিসি) ইউরোপীয় ইউনিয়ন উদ্বেগ প্রকাশের পাশাপাশি অবিলম্বে হামলা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে।
ইসরাইল-সিরিয়ার বর্তমান দ্বন্দ্বকে ‘ভুল বোঝাবুঝি’ বলে আখ্যা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। পাশাপাশি শিগগিরই সংঘাত থামবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। এদিকে দ্রুজ সম্প্রদায়ের প্রতি সংহতি জানাতে ইসরায়েল থেকে সীমান্ত পেরিয়ে সিরিয়ায় ঢুকছেন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়টির শত শত মানুষ।
ফিলিস্তিন ও লেবাননের পর এবার সিরিয়ায় বড় আকারের বিমান হামলা শুরু করেছে ইসরাইল। সিরিয়ার সোয়েইদা প্রদেশে দ্রুজ জনগোষ্ঠীর ওপর সিরীয় বাহিনী হামলা চালাচ্ছে এমন অভিযোগে গত সোমবার (১৪ জুলাই) হামলা শুরু করে ইসরায়েলি বাহিনী। বুধবার পর্যন্ত দেশটির অন্তত ১৬০টি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায় তারা।
বুধবার (১৬ জুলাই) তৃতীয়দিনের মতো ইসরায়েলি বিমান হামলায় কেঁপে ওঠে সিরিয়ার রাজধানী দামেস্ক। হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয় দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের কাছেও এদিন আক্রমণ চালানো হয়েছে। সিরিয়া সরকার জানিয়েছে, এসব হামলায় তিনজন নিহত এবং ৩৪ জন আহত হয়েছেন।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, তারা দামেস্কে সরকার নিয়ন্ত্রিত সামরিক সদর দফতরের প্রবেশপথে হামলা চালিয়েছে। দ্রুজ সংখ্যালঘুদের রক্ষা এবং উত্তর সীমান্তের নিরাপত্তা হুমকি প্রতিরোধেই তারা এই হামলা চালাচ্ছে এবং যেকোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত রয়েছে।
দামেস্কে ইসরায়েলি হামলায় নিন্দার ঝড় উঠেছে। ইসরায়েলি হামলার প্রতিবাদ জানিয়ে সিরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ‘আমরা দামেস্ক ও সুয়েইদায় সরকারি প্রতিষ্ঠান ও বেসামরিক স্থাপনাগুলোর ওপর ইসরায়েলের আগ্রাসনের কঠোর নিন্দা জানাই।’ সিরিয়ার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল শারা অভিযোগ করেছেন, ইসরায়েল বড় আকারের উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।
তুরস্ক বলেছে, ১৪ বছরের যুদ্ধের পর সিরিয়ার পুনর্গঠনের প্রচেষ্টা ইসরাইল নস্যাৎ করতে চাইছে। আঙ্কারা এক বিবৃতিতে বলেছে, সব পক্ষের উচিত সিরিয়ার সরকারের শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাকে সহায়তা করা।
হামলার নিন্দা জানিয়েছে জাতিসংঘও। সংস্থাটির মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ইসরায়েলি হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে সংঘাত বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, চলমান সংঘাত সিরিয়ার রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকে বিপন্ন করছে।
এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, এমন হামলা হবে তা আগেই জানা ছিল। তিনি আরও বলেছেন, ইরান সিরিয়ার ‘সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা’ সমর্থন করে। এক এক্স পোস্টে প্রশ্ন রেখে বলেন, এরপর কোন রাজধানী? উগ্র ইসরায়েলি শাসনব্যবস্থা কোনো সীমানা মানে না। এই অঞ্চলসহ পুরো বিশ্বকে তাদের অদম্য আগ্রাসন বন্ধ করতে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, তারা ইসরায়েলের হামলার নিন্দা জানাচ্ছে এবং সেই সঙ্গে তারা সিরিয়ার সার্বভৌমত্বের যেকোনো লঙ্ঘনকে সম্পূর্ণরূপে প্রত্যাখ্যান করছে। হামলার নিন্দা জানিয়েছে বাহরাইন, কুয়েত, ওমান, কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সমন্বয়ে গঠিত উপসাগরীয় সহযোগিতা সংস্থা জিসিসিও।
উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। ইউরোপীয় কাউন্সিলের সভাপতি আন্তোনিও কস্তা বলেছেন, তিনি দামেস্কে ইসরাইলি হামলার বিষয়ে ‘খুবই উদ্বিগ্ন’।
পড়ুন: হামলার সময় ইরানের মধ্যেই সক্রিয় ছিল ইসরাইলি কমান্ডোরা!
এস/


