বিজ্ঞাপন

নেত্রকোনা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস ২০২৫’ উদযাপিত

আজ ৫ আগস্ট, সেই দিন- যে দিনে এক সময় ঘনিয়ে আসা অন্ধকারের বিরুদ্ধে আলোর দাবি নিয়ে রাজপথে নেমে এসেছিল ছাত্র-জনতা। এক বছর আগে, এই দিনে, শৃঙ্খলের চাপে অবরুদ্ধ রাষ্ট্রচেতনার গলায় উচ্চারিত হয়েছিল মুক্তির আহবান। কথার ওপর চাপিয়ে দেওয়া নিয়ন্ত্রণ, প্রশ্নের ওপর বসিয়ে দেওয়া শাসন- সবকিছুর বিরুদ্ধে সেই দিনটি ছিল গর্জন।

বিজ্ঞাপন

ইতিহাসের ওই বাঁক থেকে উদ্ভূত হয় এক প্রতীকী নাম- ‘৩৬ জুলাই’। যা শুধু একটি দিন নয়, বরং এক জনতান্ত্রিক চেতনার নাম। সেই গভীর চেতনাকে স্মরণ করে, নেত্রকোনা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৫’ যথাযথ মর্যাদায় উদযাপিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) সনকাল ৮টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী ক্যাম্পাস প্রাঙ্গণে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় আনুষ্ঠানিকতা। জাতীয় সংগীত পরিবেশনের সঙ্গে সঙ্গে উত্তোলিত হয় গৌরবময় পতাকা। জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন মাননীয় ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. খন্দকার মোহাম্মদ আশরাফুল মুনিম ও ট্রেজারার অধ্যাপক ড. আনিছা পারভীন। উপস্থিত ছিলেন রেজিস্ট্রার ড. মোহাম্মদ হারুন-অর-রশিদ, বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীবৃন্দ।

সকাল ৮:১০ ঘটিকায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে স্থাপিত প্রতীকি স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা জানানো হয় জুলাই শহীদদের প্রতি। সর্বপ্রথম বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভাইস-চ্যান্সেলর, ট্রেজারার ও রেজিস্ট্রার পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন। পরবর্তী পর্যায়ে অস্থায়ী ছাত্র ও ছাত্রী হল, বাংলা, ইংরেজি, অর্থনীতি ও কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ এবং শিক্ষার্থীবৃন্দ ও কম্পিউটার ক্লাব পৃথকভাবে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

সকাল ৮:৩০ ঘটিকায় শুরু হয় বিজয় র‌্যালি। অস্থায়ী ক্যাম্পাসের মাঠ থেকে পা বাড়ি প্রধান ফটকের কাছে গমন করে। ফিরে আসে আবার সেই প্রাঙ্গণে, স্মৃতির কোলজুড়ে বিজয়ের সুর বাজিয়ে। র‌্যালির উত্তাপে ভরা হৃদয়গুলো খানিকক্ষণ পর মিলিত হয় ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান’ বিষয়ক প্রামাণ্যচিত্রের সামনে। সেখানে ইতিহাসের পাতা উল্টে উঠে আন্দোলনের নানা প্রেক্ষাপট, অনুপ্রেরণাময় ভাষণ এবং স্মরণীয় স্মৃতিচিহ্নগুলো। ভাইস-চ্যান্সেলর, ট্রেজারার, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হৃদয়ের গভীর থেকে ফোটে অনুভূতির স্রোত, যা অতীতকে জীবন্ত করে তুলে, নতুন প্রজন্মের হৃদয়ে বয়ে নিয়ে যায় ইতিহাসের বাণী। বাইরে তখন ঝরে পড়ছে প্রকৃতির প্রবল বর্ষণ, যা থামাতে পারেনি ঐ সংগ্রামী হৃদয়গুলোর উদ্দীপনা। প্রকৃতির বৃষ্টি আর স্মৃতির অশ্রু যেন একাকার হয়ে মিলেমিশে এক অপরূপ মিলন ঘটায়- চোখের জল থেকে লেখা ইতিহাসের গানের সুর, বুকের গভীরে জ্বলতে থাকা মুক্তির দীপ।

নির্বিঘ্ন আবেগ ও শিল্পানুভূতির সম্মিলনে সকাল ১১:০০ ঘটিকায় শুরু হয় কবিতা আবৃত্তি অনুষ্ঠান। কবিতার পঙ্ক্তিরা যেন ইতিহাসের স্তব্ধতা ভেদ করে নতুন চেতনার সুর ছড়িয়ে দেয় চারদিকে। প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. খন্দকার মোহাম্মদ আশরাফুল মুনিম এবং ট্রেজারার অধ্যাপক ড. আনিছা পারভীন। যেন সাহিত্যের জয়ধ্বনি তাদের হাত ধরে পৌঁছে যায় আগামী দিনের হৃদয়ে।

দুপুর ১২:৩০ ঘটিকায় অনুষ্ঠিত সমাপনী পর্বে বক্তব্য রাখেন ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. খন্দকার মোহাম্মদ আশরাফুল মুনিম, ট্রেজারার অধ্যাপক ড. আনিছা পারভীন এবং রেজিস্ট্রার ড. মোহাম্মদ হারুন-অর-রশিদ। তাঁরা তাঁদের বক্তব্যে গণঅভ্যুত্থানের তাৎপর্য, ইতিহাস থেকে শিক্ষা গ্রহণ এবং প্রজন্মের দায়িত্ববোধ বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন অর্থনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও আয়োজনের আহবায়ক সিরাজুল ইসলাম। তাঁর হৃদয়গ্রাহী বক্তব্যে প্রতিফলিত হয় সম্মিলিত শ্রম, অংশগ্রহণ এবং চেতনার প্রতি কৃতজ্ঞতা।

‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ কেবল একটি ক্যালেন্ডার তারিখ নয়। এটি ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে থাকা জনতার আত্মার একটি জাগরণ, একটি প্রতিরোধস্মারক। যেখানে ইতিহাস কথা বলে নিঃশব্দে, আর ভবিষ্যৎ শোনে নীরব সম্মানে। নেত্রকোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই নিবেদন যেন স্মৃতির শীতল ছায়ায় জেগে ওঠা আগুন- যেখানে অতীতের ছাই থেকে চেতনার এক নতুন সূর্য ওঠে, প্রজন্মের মুখে প্রতিবাদের অনারব ভাষা হয়ে।

পড়ুন: ৩৬ জুলাই উপলক্ষ্যে পঞ্চগড়ে বিএনপির মোটর সাইকেল শোভাযাত্রা

দেখুন: সুষ্ঠু ভোট আমাকে শেখাতে হবে না: শেখ হাসিনা

ইম/

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন