কুষ্টিয়ায় বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক নেতা রেদোয়ান আফ্রিদীর (২৩) ওপর হামলার ঘটনায় মামলা হয়েছে। গতকাল বুধবার রাতে জাতীয় নাগরিক পার্টির(এনসিপি) কুষ্টিয়া জেলা শাখার সমর্থক দলীয় ভাই পরিচয়ে জান্নাতুল ফেরদাউস টনি বাদী হয়ে ৭ জনকে এজাহারভুক্ত আসামী করে কুষ্টিয়া মডেল থানায় মামলাটি দায়ের করেছেন। এছাড়াও অজ্ঞাত আসামী করা হয়েছে আরো ৫ থেকে ৬ জনকে। পুলিশ এজাহারভুক্ত আসামী ওহেদুল ইসলাম ওরফে এসকে সিয়ামকে গ্রেপ্তার করেছে।
বৃহস্পতিবার(২১ আগষ্ট) সকালে কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) মোশারফ হােসেন মামলা ও গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে নাম,পরিচয় ও ঠিকানা নিয়ে মামলার প্রধান আসামীকে নিয়ে তৈরি হয়েছে বিতর্ক। আহত আফ্রিদীর সমর্থকদের দাবি মামলার প্রধান আসামী করা হয়েছে সরকারী কলেজ শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক শিমুলকে। তবে এ ব্যাপারে কথা বলেননি বাদী। অন্যদিকে জেলা ছাত্রদল নেতারা বলছেন,প্রধান আসামী কলেজ ছাত্রদল নেতা কিনা সেটা আমরা নিশ্চিত নয়। কারণ হামলার ভাইরাল ভিডিও ফুটেজে কোথাও শিমুলকে দেখা যায়নি।
এর আগে গত মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ মাঠের পিছন গেটে এই হামলার ঘটনা ঘটে। আহত রেদোয়ান আফ্রিদী কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের(সন্মান) প্রথম বর্ষের ছাত্র। তিনি বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন সরকারি কলেজ শাখার সাবেক সদস্য সচিব। ঘটনার দিন থেকেই তার সমর্থকরা দাবি জানিয়ে আসছিল কলেজের আবাসিক হলের আধিপত্য নিয়ে প্রতিবাদ করায় সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক শিমুলের নেতৃত্বে ছাত্রদলের কর্মীরা আফ্রিদীকে মারপিট করেছে। এতে তিনি বুকে ও মাথায় আঘাত পান। পরে অবস্থার অবনতি হলে ঘটনার দিন রাতেই উন্নত চিকিৎসার জন্য আফ্রিদীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়।
রেদোয়ান মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলার সালদহ গ্রামের দেলোয়ার হোসেনের ছেলে।
জাতীয় নাগরিক পার্টির(এনসিপি) সমর্থক রাসেল পারভেজ বলেন,রেদোয়ান আফ্রিদীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তার শারীরিক অবস্থা আগের থেকে একটু ভালো।
এদিকে গতকাল বুধবার দুপুর থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে রেদোয়ান আফ্রিদীর উপর হামলার ১ মিনিট ৫২ সেকেন্ডের একটি সিসিটিভি ফুটেজ ভাইরাল হয়। সেখানে দেখা যায় কলেজের পেছন গেটের রাস্তার উপর আফ্রিদীকে ১০ থেকে ১২জন যুবক সংঘবদ্ধ হয়ে মারপিট শুরু করে। এর কিছুক্ষণ পড়েই আফ্রিদীকে দৌড়ে কলেজ মাঠের দিকে চলে যেতে দেখা যায়। এ সময় হামলাকারী যুবকরাও তার পেছনে দৌড়ে যায়।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে,কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের আবাসিক হলের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আসামীদের সাথে রেদোয়ান আফ্রিদীর বিরোধ ছিল। এরই জেরে আফ্রিদীর ক্ষতি করার জন্য আসামীরা দীর্ঘদিন ধরে পায়তারা করতে থাকে। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কলেজের পকেট গেটে তার পথরোধ করে আসামীরা। এরপর তাকে গালিগালাজ করতে থাকে। এক পর্যায়ে আসামীর লোহার রড দিয়ে আফ্রিদীর বুকে আঘাত করে। এজাহারে ১নং আসামীর নাম লেখা হয়েছে শিমুল বিশ্বাস। পিতা ও ঠিকানা অজ্ঞাত।
এদিকে গত ১৩ আগষ্ট অনুমোদন পাওয়া কুষ্টিয়া সরকারী কলেজ ছাত্রদলের কমিটিতে সাধারণ সম্পাদকের নাম রয়েছে শিমুল হোসেন।
প্রধান আসামী কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক কিনা- মামলার বাদী জান্নাতুল ফেরদাউস টনির কাছে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে পড়ে জানাতে চান।
তবে নাম প্রকাশ না করা শর্তে আহত আফ্রিদীর সমর্থকরা বলেন,তাৎক্ষনিক বাবার নাম ও ঠিকানা না পাওয়ায়
এজাহারে শুধু নাম লেখা হয়েছে। সেখানেও শিমুল হোসেনের জায়গায় শিমুল বিশ্বাস লেখা হয়েছে। তবে এই শিমুল সরকারি কলেজ ছাত্রদল নেতা।
এই হামলার বিষয়ে ছাত্রদলের জড়িত থাকার বিষয়টি অস্বীকার করে কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রদলের আহবায়ক মোজাক্কির
রাব্বি বলেন,মামলার ১নং আসামী কলেজ ছাত্রদলের নেতা শিমুল কিনা আমরা নিশ্চিত নয়। আবার যে ফুটেজ ভাইরাল হয়েছে সেখানে শিমুল ছিল না। তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল সন্ত্রাসী কার্যকলাপ ও মব সৃষ্টির প্রবণতাকে বিশ্বাস করে না। আমরা চাই প্রশাসন ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবে।
ওসি মোশারফ হােসেন জানান,সাতজনকে এজাহারভুক্ত আসামী করে মামলা হয়েছে। এজাহারভুক্ত এক আসামীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পড়ুন: কুষ্টিয়ায় মৎস্য সপ্তাহের উদ্বোধন
এস/


