গত ১১ মে বিশ্বকাপের ৫৫ সদস্যের প্রাথমিক দল ঘোষণা করেছিল আর্জেন্টিনা। তবে বিশ্বের বেশিরভাগ শীর্ষ দল ইতিমধ্যেই তাদের চূড়ান্ত ২৬ সদস্যের স্কোয়াড জানিয়ে দিলেও, বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করতে আগামী ১ জুনের ডেডলাইন বা শেষ সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করছে।
চূড়ান্ত দল নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য কোচ লিওনেল স্কালোনির হাতে আর মাত্র ছয় দিন সময় আছে। তবে এই দল ঘোষণা পেছানোর পেছনে রয়েছে তার এক অনন্য ও ব্যতিক্রমী দল নির্বাচন প্রক্রিয়া, যেখানে তিনি একই সঙ্গে ছয়টি ভিন্ন ভিন্ন স্কোয়াড তালিকা নিয়ে কাজ করছেন। আর্জেন্টিনার সহকারী কোচ রবার্তো আয়ালা সম্প্রতি জানিয়েছেন, স্কালোনির এই ভিন্নধর্মী দল নির্বাচন প্রক্রিয়ায় তাঁর পুরো কোচিং স্টাফ বা ব্যাকরুম স্টাফ সরাসরি জড়িত রয়েছেন।
বর্তমানে আলোচনার টেবিলে—কিংবা বলা ভালো, একটি অনলাইন গ্রুপ চ্যাটে—এমন ছয়টি তালিকা জমা পড়েছে। ২০২২ বিশ্বকাপজয়ী কোচিং প্যানেলের অন্যতম দুই সদস্য স্কালোনি ও আয়ালা দুটি তালিকা তৈরি করেছেন। বাকি তালিকাগুলো তৈরি করেছেন সাবেক জাতীয় দলের তারকা ও বর্তমান সহকারী কোচ ওয়াল্টার সামুয়েল ও পাবলো আইমার, ম্যাচ অ্যানালিস্ট মাতিয়াস মান্না এবং ফিটনেস কোচ লুইস মার্তিন।
ইউটিউব পডকাস্ট চ্যানেল ‘ক্ল্যাংক’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আয়ালা বলেন, ‘কোচিং স্টাফের প্রত্যেক সদস্য নিজের মতো করে একটি তালিকা তৈরি করেন। আমাদের আলোচনার সময় স্কালোনি জানতে চান, আমরা সবাই নিজেদের তালিকা প্রস্তুত করেছি কি না। এরপর আমরা সেগুলো আমাদের গ্রুপ চ্যাটে পাঠিয়ে দিই এবং সবশেষে ‘লিও’ (স্কালোনি) চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন।’
তবে ভ্যালেন্সিয়ার সাবেক এই ডিফেন্ডার এটাও জানিয়েছেন, তাদের তৈরি করা তালিকাগুলোর মধ্যে পার্থক্যের পরিমাণ খুবই সামান্য। আয়ালা বলেন, ‘আমাদের সবার তালিকার মধ্যে পার্থক্য একদমই কম থাকে। হয়তো বড়জোর একটা নাম এদিক-সেদিক বা কম-বেশি হয়।’
স্কালোনির দল নির্বাচন প্রক্রিয়া ও মধুর মাথাব্যথা
৫৫ জনের এই দীর্ঘ তালিকা স্কালোনি কীভাবে ছোট করে আনেন, সেটিরও ব্যাখ্যা দিয়েছেন আয়ালা, ‘তিনি (স্কালোনি) আলোচনার পথ উন্মুক্ত করে দেন যাতে আমরা প্রতিটি বিষয় নিয়ে খুঁটিনাটি কথা বলতে পারি এবং সেখানে নানামুখী প্রসঙ্গ উঠে আসে। এগুলোই মূলত আমাদের প্রাথমিক আলোচনা।’
বিভিন্ন প্রতিবেদনের সূত্রমতে, ৫৫ জনের প্রাথমিক তালিকাটি প্রথমে কাটছাঁট করে ৩৫ জনে নামিয়ে আনা হয়েছিল। কিন্তু ফুটবলারদের চোট আর ছোটখাটো শারীরিক সমস্যা কোচিং ক্যাম্পের মাথাব্যথা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। সোমবার আলবিসেলেস্তেরা বড়সড় এক ধাক্কাই খেতে বসেছিল, তিনবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের মহাতারকা লিওনেল মেসি বাঁ পায়ের হ্যামস্ট্রিংয়ের পেশীর ক্লান্তির কারণে ইন্টার মায়ামির হয়ে খেলা সর্বশেষ ম্যাচটিতে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন। অবশ্য প্রাথমিক পরীক্ষায় জানা গেছে, কোনো চোটে পড়েননি লিওনেল মেসি। আর্জেন্টিনার হয়ে কোনো ম্যাচ খেলা নিয়ে সংশয় নেই তাঁর।
মেসি রেকর্ড ষষ্ঠবারের মতো বিশ্বকাপে অংশ নিয়ে স্কালোনির দলের নেতৃত্ব দেবেন—এটা অনেকটাই নিশ্চিত হলেও, আরও কিছু বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হচ্ছে। আয়ালা ব্যাখ্যা করেন, ‘তালিকার প্রায় ৮০ ভাগ ইতিমধ্যেই চূড়ান্ত। বাকিদের আমাদের আরও একটু মূল্যায়ন করতে হবে, তা ছন্দের কারণেই হোক কিংবা শারীরিক অবস্থার জন্য। আমাদের এটাও মাথায় রাখতে হবে যে শেষ মুহূর্তে কারও কোনো সমস্যা হতে পারে বা কোনো খেলোয়াড়কে নিয়ে সংশয় থেকে যেতে পারে।’
আয়ালা আরও যোগ করেন, ‘তখন আমরা আসলে কী করব? আমরা কি একজন ডিফেন্ডার বাড়াব নাকি মিডফিল্ডার? আমাদের দেখতে হবে খেলোয়াড়দের যেকোনো পজিশনে খেলার ক্ষমতা এবং তারা দলকে কী দিতে পারছে। যেমন—কোনো ম্যাচে যদি আমাদের তিন বা পাঁচজন ডিফেন্ডার নিয়ে খেলতে হয়, তবে কোন খেলোয়াড়রা আমাদের সবচেয়ে বেশি সুবিধা দিতে পারবে, সেটাই দেখার বিষয়।’
বিশ্বকাপ শুরু হতে এখনও বাকি আছে ১৭ দিন। আর আলবিসেলেস্তাদের প্রথম ম্যাচের বাকি আছে ২২ দিন। তাই মেসির মাঠে ফেরার পুনর্বাসন প্রক্রিয়া সাজানোর জন্য কিছুটা সময় পাবে আর্জেন্টিনার টিম ম্যানেজমেন্ট।
আগামী ১৭ জুন বাংলাদেশ সময় সকাল ৭টায় আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের বিশ্বকাপ যাত্রা। এর আগে ৭ জুন হন্ডুরাস ও ১০ জুন আইসল্যান্ডের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ খেলার কথা রয়েছে তাদের।
পড়ুন:বিশ্বকাপের রাউন্ড ৩২ থেকেই বাদ পড়বে ব্রাজিল!
দেখুন:পাটুরিয়া ঘাটে পারাপারের টিকেট না পেয়ে হতাশ ট্রাক চালকরা |
ইমি/


