চতুর্থ দিনের সকালে বাংলাদেশের দুই ওপেনার সুবিধা করতে পারেননি। তবে নাজমুল হোসেন শান্ত-মুমিনুল হকের জুটিতে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় টাইগাররা। বড় সংগ্রহের পথে হাঁটতে থাকা বাংলাদেশের সামনে বাধা হয়ে আসে বৃষ্টি। তাতে দিনের দ্বিতীয় সেশন পুরোটাই ভেসে গেছে। চা বিরতির পর খেলা শুরু হলেও আলোক স্বল্পতায় নির্ধারিত সময়ের আগেই দিনের খেলা শেষ করতে বাধ্য হন আম্পায়াররা। ফলে ম্যাচ গড়িয়েছে পঞ্চম দিনে।
চতুর্থ দিন শেষে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে ৩ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশের সংগ্রহ ১৫২ রান। ৭ উইকেট হাতে নিয়ে টাইগারদের লিড এখন ১৭৯ রানের। এর আগে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ করেছিল ৪১৩ রান, আর পাকিস্তান অলআউট হয়েছিল ৩৮৬ রানে।
দিনের শুরুতে ব্যাট করতে নামেন আগের দিনের দুই অপরাজিত ব্যাটার সাদমান ইসলাম ও মাহমুদুল হাসান জয়। দিনের দ্বিতীয় বলে চার হাঁকালেও দেখেশুনেই খেলছিলেন দুই ওপেনার। কিন্তু আব্বাস আফ্রিদির কাছে পরাস্ত হন জয়। ব্যক্তিগত ৪ রানে এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়েন তিনি। রিভিউ নিয়েও হয়নি কোনো ফায়দা।
আর ইনিংসের ১১তম ওভারে সাজঘরের পথ ধরেন আরেক ওপেনার সাদমান ইসলাম। এবার উইকেট পান হাসান আলি। তার করা বলে ব্যক্তিগত ১০ রানে স্লিপে ক্যাচ তুলে নেন বাংলাদেশি এই ওপেনার। ফলে ২৩ রানেই দুই ওপেনারকে হারায় বাংলাদেশ।
দুই ওপেনার সাজঘরে ফিরলে খানিকটা চাপেই পড়েছিল বাংলাদেশ। তবে তৃতীয় উইকেট জুটিতে স্বস্তি দিয়েছে দলনেতা নাজমুল হোসেন শান্ত ও মুমিনুল হকের জুটি। লাঞ্চ বিরতির আগে আর কোনো উইকেট হারায়নি স্বাগতিকরা। প্রথম সেশনে তারা তুলেছিল ২ উইকেটে ৮৬ রান।
বাংলাদেশ-পাকিস্তান যখন লাঞ্চে যায়, তখনো আকাশ খানিকটা মেঘলা। কিন্তু দুই দল যখন মাঠে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে, তখন আলোর স্বল্পতা ও বৃষ্টির কারণে ড্রেসিংরুমেই থাকতে হয়েছে। তারপর প্রায় ঘণ্টা দুয়েক বৃষ্টির কারণে দ্বিতীয় সেশনে খেলাই হয়নি।
বৃষ্টির পর দেখে-শুনে খেলে ফিফটি স্পর্শ করেন মুমিনুল হক। ১০৫ বল খেলে এই মাইলফলক ছুঁয়েছেন তিনি। তবে ফিফটির পর আর বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। ৫৬ রান করে এই ব্যাটার ফেরায় ভেঙেছে ১০৫ রানের তৃতীয় উইকেট জুটি।
মুমিনুল ফিফটির পর ফিরলেও দারুণ ব্যাটিং করেছেন শান্ত। প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরি করা এই ব্যাটার দ্বিতীয় ইনিংসে ফিফটি করে অপরাজিত আছেন। দিন শেষে শান্তর সঙ্গী হিসেবে অপরাজিত থেকেছেন মুশফিকুর রহিম।
পড়ুন : তৃতীয় বাংলাদেশি হিসেবে টেস্টে ৫ হাজার রানের ক্লাবে মুমিনুল


