কুড়িগ্রাম-২ আসনের সংসদ সদস্য ও এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক ড. আতিকুর রহমান মুজাহিদ কুড়িগ্রাম প্রেসক্লাবের সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেছেন। মঙ্গলবার বিকেল ৪টায় কুড়িগ্রাম প্রেসক্লাবের হলরুমে অনুষ্ঠিত এ সভায় জেলার উন্নয়ন, সম্ভাবনা, সুশাসন, প্রশাসনিক জবাবদিহিতা এবং গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
কুড়িগ্রাম প্রেসক্লাবের সভাপতি শফি খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন সহ-সভাপতি অধ্যাপক লিয়াকত আলী, সাধারণ সম্পাদক মাহফুজার রহমান খন্দকার, অ্যাডভোকেট আহসান হাবীব নীলু, সাংবাদিক ইউনুস আলী, শ্যামল ভৌমিক, ও বাদশা সৈকত প্রমুখ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন প্রেস ক্লাবের সদস্য ওয়াহিদুজ্জামান তুহিন।
মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. আতিকুর রহমান মুজাহিদ বলেন, কুড়িগ্রাম একটি সম্ভাবনাময় জেলা হলেও নানা অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি ও দীর্ঘদিনের অবহেলার কারণে জেলার কাঙ্খিত উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারা সমাজের দর্পণ। জেলার সমস্যা, দুর্ভোগ, অনিয়ম, দুর্নীতি ও সম্ভাবনাগুলো বস্তুনিষ্ঠ প্রতিবেদনের মাধ্যমে জাতির সামনে তুলে ধরবেন। আপনাদের লেখনী ও অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা প্রশাসনের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তিনি আরও বলেন, গণমাধ্যম শুধু সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যম নয়, এটি সমাজ পরিবর্তনের অন্যতম শক্তিশালী হাতিয়ার। কুড়িগ্রামের নদীভাঙন, বেকারত্ব, কৃষি, যোগাযোগ ব্যবস্থা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের সীমাবদ্ধতা নিয়ে ধারাবাহিকভাবে সংবাদ প্রকাশ হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ সহজ হবে। আপনাদের সংবাদের সূত্র ধরে আমরা সংসদে কথা বলতে পারব।
ড. মুজাহিদ বলেন, জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী প্রশাসনের কাজ করার কথা থাকলেও বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষ কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের সমন্বয়ের মাধ্যমে জনগণের সেবা নিশ্চিত করতে হবে।
এর আগে দুপুর ১২টায় কুড়িগ্রাম আলিয়া কামিল মাদ্রাসার শিক্ষক মিলনায়তনে এক কর্মসূচি শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে ড. আতিকুর রহমান মুজাহিদ প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, এখনকার ভূমি কর্মকর্তা বলেন আর ইউএনও বলেন, তারা কোনো একটি গোষ্ঠীকে সুবিধা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত। তারা সবাই মিলে একটি সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছে। নিজেদের স্বার্থ ও ভাগ-বাটোয়ারা ঠিক রাখতে তারা জনপ্রতিনিধিদের কাজেও সহযোগিতা করছে না।
তিনি আরও বলেন, সদর, রাজারহাট ও ফুলবাড়িসহ বিভিন্ন উপজেলার কিছু কর্মকর্তা জনগণবিরোধী আচরণ করছেন বলে আমার কাছে মনে হয়েছে। জনগণের কাঙ্ক্ষিত সেবা নিশ্চিত করার পরিবর্তে অনেকেই নিজেদের ক্ষমতা প্রদর্শনে বেশি আগ্রহী। জনগণের সেবক হিসেবে দায়িত্ব পালনের মানসিকতা প্রশাসনের মধ্যে আরও জোরদার হওয়া প্রয়োজন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন এনসিপির জেলা সদস্য সচিব মাসুম মিয়া, যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদুজ্জামান তাওহীদ, সাংগঠনিক সম্পাদক মোজাম্মেল হক, শ্রমিক শক্তির জেলা আহ্বায়ক মজনু মিয়া, ছাত্রশক্তির জেলা আহ্বায়ক জাহিদ হাসানসহ বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ।


