মানিকগঞ্জে বিয়ের প্রলোভনে এক তরুণীকে শারীরিক সম্পর্কের পর চাপ প্রয়োগ করে গর্ভপাতের অভিযোগ উঠেছে পুলিশের এক উপপরিদর্শকের ছেলের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী তরুণী সোমবার বিকেলে মানিকগঞ্জ সদর থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযুক্ত এসআইপুত্রের নাম হাসিবুর রহমান সাকিব (২২)। তিনি মানিকগঞ্জ সদর থানায় কর্মরত উপপরিদর্শক মাসুদ মুন্সীর ছেলে। তিনি মানিকগঞ্জ শহরের খালপাড় এলাকার বাসিন্দা।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই বছর আগে হাসিবুর রহমান সাকিবের সঙ্গে ওই তরুণীর পরিচয় হয়। পরবর্তীতে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এর সূত্র ধরে হাসিবুর রহমান ওই তরুণীকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে এবং শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করে। পরবর্তীতে ওই তরুণী গর্ভধারণ করলে হাসিবুল তাকে গর্ভপাত করানোর জন্য চাপ প্রয়োগ করে এবং বিয়ের আশ্বাস দেন। তার আশ্বাসে ওই তরুণী গর্ভপাত করতে বাধ্য হন।
অভিযোগে আরো বলা হয়েছে, গর্ভপাত করানোর পর থেকে হাসিবুর রহমান সাকিব ওই তরুণীকে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানায়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দেয়ার পর হাসিবুর রহমান সাকিবের বাবা এসআই মাসুদ মুন্সী ওই তরুণীর বাড়িতে গিয়ে হুমকি প্রদান করেছেন এবং বিষয়টি মীমাংসার জন্য চাপ প্রয়োগ করছেন। এদিকে, অভিযোগ দায়েরের পর দুইদিন পেরিয়ে গেলেও কোন ধরনের আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি পুলিশ।
ভুক্তভোগী তরুণী দাবি করেন, তার কাছে ঘটনার যথেষ্ট তথ্য-প্রমাণ রয়েছে, হাসিবুরের এই প্রতারণামূলক কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে আইনী সহযোগিতা চান।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত হাসিবুর রহমান সাকিব বলেন, গতকাল বিষয়টি সমাধান করা হয়েছে। আজ ফ্যামিলিগতভাবে মীমাংসা করা হবে।
এসআই মাসুদ মুন্সী বলেন, এ বিষয়ে আমরা সন্ধ্যার পরে আজ পারিবারিকভাবে বসে সমাধান করব। আমার ছেলে যদি অপরাধী হয়ে থাকে তবে তাকে অপরাধের শাস্তি ভোগ করতে হবে।
মানিকগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনির হোসেন বলেন,
আমরা একটা অভিযোগ পেয়েছি,মেয়ে বলেছে আমি তাকে বিয়ে করতে চাই। সম্ভবত তাদের মধ্যে একটা আলোচনা হয়েছে, একটা সমাধানে যাবে। এইটুকু আভাস আমি পেয়েছি। জোর করে যদি গর্ভপাত করানো হয়, তবে সত্যতার একটা বিষয় আছে,একজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করলে সেটার সত্যতা আছে কি না আইনি প্রক্রিয়ায় গেলে তদন্তে সেটা বেরিয়ে আসবে।
পড়ুন- ইরান চুক্তির খসড়া দেখতে চায় ইসরায়েল, নাকচ করে দিলো যুক্তরাষ্ট্র


