কিশোরগঞ্জের ভৈরব রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সাঈদের বিরুদ্ধে ট্রেন থেকে উদ্ধার করা গাঁজা গোপনে বিক্রি করে দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, বিভিন্ন অভিযানে জব্দ করা মাদকের পুরো পরিমাণ থানার নথিভুক্ত না করে এর একটি অংশ গোপনে সরিয়ে ফেলা হচ্ছে। তবে অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্ট ওসি।
স্থানীয় একাধিক সূত্র ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দাবি, গত ৯ জুন ২০২৬ তারিখ রাত আনুমানিক পৌনে ৪টার দিকে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী তুর্না নিশীথা ট্রেন থেকে প্রায় ৪ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, জসিম নামে এক ব্যক্তির সহায়তায় ওই মাদক নামানো হয় এবং সে সময় ভৈরব রেলওয়ে স্টেশনে দায়িত্বে ছিলেন কনস্টেবল সারোয়ারদী। অভিযানে সহযোগিতা করার সময় জসিম ট্রেনের ছাদ থেকে পড়ে আহত হন।
জসিমের দাবি, এ ঘটনায় তাকে মোট ৭ হাজার টাকা দেওয়ার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত ৫ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে। বাকি ২ হাজার টাকা পরে দেওয়া হবে বলে তাকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, গত ১৪ জুন ভোরে সিলেট থেকে ঢাকাগামী উপবন এক্সপ্রেস ট্রেন থেকে আরও প্রায় ৪ কেজি গাঁজা উদ্ধারের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, এএসআই আবু হানিফের নেতৃত্বে পরিচালিত ওই অভিযানে জসিমের সহায়তায় মাদকগুলো উদ্ধার করা হয়। তবে দুটি ঘটনাতেই উদ্ধার হওয়া মাদকের বিষয়ে কোনো মামলা, সাধারণ ডায়েরি (জিডি) কিংবা আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ভৈরব রেলওয়ে স্টেশন এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা ও স্টেশন-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি জানান, দীর্ঘদিন ধরেই স্টেশনকে কেন্দ্র করে একটি মাদক চোরাচালান চক্র সক্রিয় রয়েছে। বিভিন্ন সময় মাদক উদ্ধারের ঘটনা ঘটলেও প্রকৃত পরিমাণ, আলামত সংরক্ষণ এবং পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া নিয়ে নানা প্রশ্ন রয়েছে। তাদের অভিযোগ, উদ্ধার হওয়া মাদকের সব তথ্য সবসময় প্রকাশ্যে আসে না, ফলে জনমনে সন্দেহ ও উদ্বেগ সৃষ্টি হচ্ছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, মাদকবিরোধী অভিযানে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং উদ্ধার হওয়া মাদকের প্রকৃত হিসাব নিরূপণে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। তাদের দাবি, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হলে রেলওয়ে পুলিশের প্রতি জনসাধারণের আস্থা আরও বৃদ্ধি পাবে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ভৈরব রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাঈদ আহমেদ বলেন, “৯ জুন ও ১৪ জুন কোনো গাঁজা উদ্ধার হয়নি। এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না।”
এ বিষয়ে এএসআই আবু হানিফ ও কনস্টেবল সারোয়ারদীর বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
ঢাকা রেলওয়ে পুলিশ সুপার নিকুলিন চাকমা বলেন, “বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, অভিযোগের বিষয়ে রেলওয়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে নিরপেক্ষ তদন্ত হলে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটিত হবে এবং মাদক উদ্ধারের পর সেগুলোর যথাযথ ব্যবস্থাপনা নিয়ে জনমনে যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে, তারও অবসান ঘটবে।
পড়ুন:চুক্তির প্রভাবে বিশ্ববাজারে কমলো জ্বালানি তেলের দাম
দেখুন:সুন্দরবনের শেলা নদীতে কুমিরের আ/ক্র/ম/ণে নারীর মৃ/ত্যু
ইমি/


