বিজ্ঞাপন

নিউইয়র্ক টাইমসের বিশ্লেষণ: ট্রাম্প কেন বাধ্য হয়ে চুক্তিতে গেলেন

ইরান সংকটকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একসময় যে অবস্থানে ছিলেন, সাম্প্রতিক সমঝোতা সেই অবস্থান থেকে অনেকটাই ভিন্ন এক বাস্তবতা তুলে ধরেছে। যুদ্ধ পরিস্থিতি ও কূটনৈতিক চাপের মধ্যে তার কঠোর অবস্থান থেকে চুক্তির পথে আসার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে নিউইয়র্ক টাইমস।

বিজ্ঞাপন

তবে গত বুধবার যুদ্ধ শেষ করার উদ্দেশ্যে প্রকাশিত সমঝোতা স্মারকের ভাষা সেই অবস্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না। এতে ইরানের আত্মসমর্পণের কোনো ইঙ্গিত নেই; বরং যুদ্ধ পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে এসে দেশটি কিছু কৌশলগত সুবিধা অর্জনের সুযোগ পেয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

এর মধ্যে অন্যতম হলো ইরানের শত শত কোটি ডলারের তেল বিক্রির সুযোগ ফিরে পাওয়া, যা অর্থনৈতিক সংকটে থাকা তেহরানের ওপর চাপ কমাতে পারে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, যুদ্ধ শুরুর সময় ট্রাম্পের লক্ষ্য ছিল ইরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি সম্পূর্ণ ধ্বংস এবং সরকারের পতন ঘটানো। কিন্তু বাস্তবে সেই লক্ষ্যগুলোর কোনোটিই অর্জিত হয়নি।

ট্রাম্প এক সাক্ষাৎকারে দাবি করেন, এই চুক্তি আগামী ১৫ থেকে ২০ বছরের জন্য ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে নিয়ন্ত্রণে রাখবে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, ক্ষমতা ও দর–কষাকষির ওপর জোর দেওয়া একজন প্রেসিডেন্টের জন্য এটি একটি জটিল সিদ্ধান্ত।

সমঝোতা স্মারকের ভাষায় ভবিষ্যতে ইরানের হরমুজ প্রণালির ওপর স্থায়ী সার্বভৌম নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আলোচনা হতে পারে বলেও ইঙ্গিত রয়েছে। পাশাপাশি দীর্ঘদিন জব্দ থাকা ইরানি সম্পদ ফেরত দেওয়ার সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে।

ট্রাম্প যদিও বলেছেন, এসব অর্থ কেবল ‘ভালো আচরণের’ বিনিময়ে দেওয়া হবে, তবে সমালোচকদের মতে এটি আগের প্রশাসনের নেওয়া সিদ্ধান্তের সঙ্গেও মিল রয়েছে। নিজ দলেও চুক্তি নিয়ে মতভেদ দেখা দিয়েছে। রিপাবলিকান পার্টির কট্টরপন্থী অংশ এবং ইসরায়েলি সরকার এই চুক্তির বিরোধিতা করছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

যুদ্ধের ফলে যুক্তরাষ্ট্র শত শত কোটি ডলার ব্যয় করেছে এবং এতে উভয় পক্ষের হাজারো প্রাণহানি ঘটেছে বলে দাবি করা হয়েছে।

বিশ্লেষণে বলা হয়, ট্রাম্প দ্রুত যুদ্ধ শেষ করতে চেয়েছেন মূলত অর্থনৈতিক ঝুঁকি এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা থেকে। তিনি আশঙ্কা করেছিলেন, দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ অর্থনৈতিক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।

ইরান যুদ্ধের সময় হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা এবং তেল অবকাঠামোতে হামলার মাধ্যমে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে প্রভাব ফেলেছিল বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

সাবেক মার্কিন আলোচকদের মতে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। ট্রাম্প প্রশাসন এখন ধীর ও দীর্ঘমেয়াদি আলোচনার পথ খুলে দিয়েছে বলেও বিশ্লেষণে বলা হয়েছে। ট্রাম্প নিজেও স্বীকার করেছেন, আলোচনা ৬০ দিনের বেশি সময় চলতে পারে।

প্রতিবেদনের শেষাংশে বলা হয়, এই চুক্তি ইরানের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারবে কি না, তা এখনো অনিশ্চিত। ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী এটি ব্যর্থ হলে তিনি আবার সামরিক পদক্ষেপে ফিরে যাওয়ার কথা বলেছেন।

পড়ুন: প্রথম দল হিসেবে বিশ্বকাপের দ্বিতীয় রাউন্ডে মেক্সিকো

আর/

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন