জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার বালিজুড়ী ইউনিয়নের নামা তারতা পাড়া গ্রামের খন্দকার বাড়ি ব্রিজ থেকে আকন্দ বাড়ি মসজিদ পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার কাঁচা সড়ক দ্রুত পাকাকরণের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এলাকাবাসীর উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তারা দীর্ঘদিনের জনদুর্ভোগের অবসানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
মানববন্ধনে বক্তারা জানান, বর্ষা মৌসুমে সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কটি কর্দমাক্ত হয়ে পড়ে এবং চলাচলের সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে যায়। এতে প্রতিদিন শিক্ষার্থী, কৃষক, রোগী, বয়স্ক ব্যক্তি ও সাধারণ পথচারীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। তাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি পাকাকরণের আশ্বাস মিললেও বাস্তবে কোনো কার্যকর উদ্যোগ চোখে পড়েনি।
সরেজমিনে দেখা যায়, খন্দকার বাড়ি ব্রিজ থেকে আকন্দ বাড়ি মসজিদ পর্যন্ত পুরো সড়কটিই কাঁচা। বর্ষায় বিভিন্ন স্থানে কাদা ও পানিতে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়। ফলে রিকশা, ভ্যান, মোটরসাইকেল এমনকি সাইকেল চলাচলও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। অনেক সময় এলাকাবাসীকে হাঁটুসমান কাদা মাড়িয়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসাগামী শিক্ষার্থীদের নিয়মিত যাতায়াত ব্যাহত হচ্ছে। বর্ষাকালে অনেক অভিভাবক সন্তানদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠাতে উদ্বিগ্ন থাকেন। একই সঙ্গে জরুরি রোগী ও অন্তঃসত্ত্বা নারীদের হাসপাতালে নেওয়ার ক্ষেত্রেও চরম দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়। এলাকাবাসীর ভাষ্য, অনেক সময় অ্যাম্বুলেন্স গ্রামে প্রবেশ করতে না পারায় রোগীকে বিকল্প উপায়ে মূল সড়ক পর্যন্ত নিয়ে যেতে হয়।
কৃষিপ্রধান এ এলাকার কৃষকরাও যোগাযোগ সংকটের কারণে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন। ধান, পাট ও বিভিন্ন শাকসবজি উৎপাদন করলেও দুর্বল সড়কব্যবস্থার কারণে সহজে বাজারজাত করা যায় না। এতে পরিবহন ব্যয় বেড়ে যায় এবং অনেক ক্ষেত্রে উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য থেকেও বঞ্চিত হতে হয়।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া এক প্রবীণ বাসিন্দা বলেন, বছরের পর বছর ধরে আমরা এই রাস্তা পাকাকরণের দাবি জানিয়ে আসছি। বর্ষা এলেই চলাচল দুর্বিষহ হয়ে ওঠে। দ্রুত সড়কটি পাকা করা হলে হাজারো মানুষের কষ্ট লাঘব হবে।
আকন্দ বাড়ি মসজিদের ইমাম বলেন, বৃষ্টির দিনে মুসল্লিদের মসজিদে আসতে খুব কষ্ট হয়। বিশেষ করে বয়স্ক মানুষ ও শিশুদের দুর্ভোগ সবচেয়ে বেশি।
মানববন্ধন থেকে এলাকাবাসী সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধি, উপজেলা প্রশাসন ও এলজিইডি কর্তৃপক্ষের প্রতি দ্রুত সড়কটি পাকাকরণের উদ্যোগ নেওয়ার জোর দাবি জানান। তাদের মতে, এই সড়কটি উন্নয়ন করা হলে শিক্ষা, চিকিৎসা, কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে এবং দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটবে।
পড়ুন : বিয়ের দাওয়াতে যাওয়ার পথে কাভার্ডভ্যানের ধাক্কায় শিশুসহ নিহত ২


