গত মাসের ৯ তারিখে ডিএনসি’র ঢাকা বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয়ের বিশেষ অভিযানে যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকে ১৬,০০০ পিস ইয়াবাসহ দক্ষিণাঞ্চলের কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী মোঃ বাবুল হোসেন ওরফে বাবুকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। ওই ঘটনার পর গ্রেফতারকৃত আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ করে, গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ এবং ধারাবাহিক নজরদারির মাধ্যমে তার মাদক পাচার নেটওয়ার্কের অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত করা হয়। সেই গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতেই পরিচালিত আরেকটি বিশেষ অভিযানে যশোরগামী একটি সংঘবদ্ধ মাদক পাচারকারী চক্রের আরও চার সদস্যকে গ্রেফতার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)।
ডিএনসি জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, যশোরভিত্তিক একটি সংঘবদ্ধ মাদক পাচারকারী চক্র ঢাকা থেকে মোটরসাইকেলযোগে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা নিয়ে যশোরের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হবে। প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে ডিএনসি’র ঢাকা বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোঃ মোস্তাক আহমেদের নেতৃত্বে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানের অংশ হিসেবে ৬ জুলাই ২০২৬ তারিখ রাতে ঢাকার শ্যামপুর থানাধীন ধোলাইপাড় এলাকায় ঢাকা-যশোর মহাসড়কে দুটি মোটরসাইকেলের গতিরোধ করা হয়। পরবর্তীতে মোটরসাইকেল দুটিতে থাকা চারজনকে আটক করে বিধিমোতাবেক তল্লাশি চালিয়ে তাদের হেফাজত থেকে সর্বমোট ১৪,৫০০ (চৌদ্দ হাজার পাঁচশত) পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, মাদক বিক্রির ১,১০,০০০ (এক লক্ষ দশ হাজার) টাকা, ৪টি মোবাইল ফোন এবং মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত ২ টি মোটরসাইকেল উদ্ধার ও জব্দ করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন মোঃ প্রিন্স মাহমুদ (৩৭), মনিরা বেগম মিষ্টি (৩০), মোঃ জহিরুল হক তুহিন (৩২) এবং মোছাঃ জলি বেগম (২০)।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তারা দীর্ঘদিন ধরে পরস্পরের যোগসাজশে সংঘবদ্ধভাবে ইয়াবা ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিল। তারা ঢাকায় ইয়াবা সংগ্রহ করে মোটরসাইকেলযোগে যশোরে নিয়ে গিয়ে বিভিন্ন মাদক ব্যবসায়ীর নিকট সরবরাহ করত। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি এড়াতে তারা কৌশল পরিবর্তন করে মোটরসাইকেল ব্যবহার করে মাদক পরিবহন করছিল। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে পারিবারিক ও ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিগত সম্পর্ক থাকায় তারা দীর্ঘদিন ধরে একটি সুসংগঠিত নেটওয়ার্ক হিসেবে কাজ করে আসছিল।
এ ঘটনায় গ্রেফতারকৃত চারজনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় ডিএমপি’র শ্যামপুর থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এ চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য সদস্য, অর্থদাতা ও সহযোগীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে গোয়েন্দা তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
দেশে নিষিদ্ধ ইয়াবাসহ সকল ধরনের অবৈধ মাদকদ্রব্যের বিস্তার রোধে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ডিএনসি’র গোয়েন্দা নজরদারি ও বিশেষ অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানায় ডিএনসি।
পড়ুন:কেরানীগঞ্জে কমিউনিটি পুলিশের সন্ত্রাস ও মাদক বিরোধী সভা
ইমি/


