সুন্দরবনের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। কোস্টগার্ড পরিচালিত “অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন” এবং “অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড”-এর তৎপরতায় সুন্দরবনে টিকতে না পেরে এবার আত্মসমর্পণ করলো সুন্দরবনের কুখ্যাত ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনীর প্রধানসহ ২৭ জন সক্রিয় সদস্য।
গত ১৩ জুলাই বিকেল ৫টায় বাগেরহাটের মোংলার চরপুটিয়া খাল সংলগ্ন এলাকায় বাহিনী প্রধান জাহাঙ্গীর আলমসহ ২৭ জন বনদস্যু কোস্ট গার্ডের কাছে আত্মসমর্পণে সম্মতি জানালে আজ সকালে সকল বনদস্যুকে কোস্টগার্ডের মোংলা বেইজে আন হয় । এ সময় তারা জমা দেন ৩টি বিএসটি এইট শুটার, একটি ফোর শুটার, ৫টি দেশীয় একনলা বন্দুক, ১৫টি পাইপগান, ৩৪০ রাউন্ড তাজা কার্তুজ এবং ৫৫ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ।
আত্মসমর্পণকারী বনদস্যু ও তাদের পরিবারের সদস্যরা জানায় রাজনৈতিক হয়রানি ও মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে একরকম বাধ্য হয়ে তারা দস্যু তার পথ বেছে নিয়েছে। সরকার সুযোগ দিলে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চায় তারা।
কোস্ট গার্ড জানায়, আত্মসমর্পণকারীরা দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবনে ডাকাতি, জেলে ও বাওয়ালিদের অপহরণ এবং মুক্তিপণ আদায়ের সঙ্গে জড়িত ছিল। তাদের বেশিরভাগই খুলনার দাকোপ, কয়রা, বটিয়াঘাটা এবং বাগেরহাটের রামপাল, ফকিরহাট, কচুয়া, মোড়েলগঞ্জ ও শরণখোলা এলাকার বাসিন্দা। একজনের বাড়ি পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায়।
বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা
“সুন্দরবনের সব সক্রিয় বনদস্যুকে আত্মসমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার আহ্বান জানাচ্ছি। আত্মসমর্পণকারীদের সরকারের নীতিমালা অনুযায়ী পুনর্বাসনের সুযোগ দেওয়া হবে। তবে যারা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাবে, তাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিতে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
কোস্ট গার্ড বলছে, সুন্দরবনকে পুরোপুরি দস্যুমুক্ত করতে নিয়মিত অভিযান ও গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত থাকবে। সরকারের নির্দেশনা, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত উদ্যোগ এবং স্থানীয় জনগণের সহযোগিতায় সুন্দরবনকে স্থায়ীভাবে নিরাপদ করা সম্ভব হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেছে বাহিনীটি।
পড়ুন:গোপালগঞ্জে নানা আয়োজনে ইমাদ পরিবহনের একযুগপূর্তি উদযাপন
ইমি/


