এসডিজি ব্র্যান্ড চ্যাম্পিয়ন অ্যাওয়ার্ডসের চতুর্থ আসরেও (২০২৬) তিনটি ক্যাটাগরিতে পুরস্কৃত হয়েছে বাংলাদেশের টেক জায়ান্ট ও সুপারব্র্যান্ড ওয়ালটন।
টেকসই নেট জিরো ইনিশিয়েটিভ এবং এনার্জি ইফিশিয়েন্সি প্রোগ্রামের জন্য সাশ্রয়ী ও ক্লিন এনার্জি ক্যাটাগরিতে ‘এসডিজি ব্র্যান্ড চ্যাম্পিয়ন অ্যাওয়ার্ড-২০২৬’ অর্জন করেছে ওয়ালটন। পাশাপাশি উৎপাদন প্রক্রিয়ায় টেকসই সবুজ প্রযুক্তির ব্যবহার এবং জলবায়ু সুরক্ষায় অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে জলবায়ু ও পরিবেশ ক্যাটাগরিতেও প্রতিষ্ঠানটি এই পুরস্কার পেয়েছে।
এ ছাড়া বর্ষসেরা সবচেয়ে টেকসই ইলেকট্রনিক পণ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ক্যাটাগরিতেও পুরস্কৃত হয়েছে ওয়ালটন। এর আগে গত বছর একই অ্যাওয়ার্ডের তৃতীয় আসরেও তিনটি ক্যাটাগরিতে পুরস্কার পেয়েছিল প্রতিষ্ঠানটি।
শনিবার (১৮ জুলাই, ২০২৬) সন্ধ্যায় রাজধানীর রেডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেন হোটেলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ওয়ালটনকে তিনটি ক্যাটাগরিতে ‘এসডিজি ব্র্যান্ড চ্যাম্পিয়ন অ্যাওয়ার্ডস-২০২৬’ প্রদান করা হয়।
পুরস্কার গ্রহণ করেন ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসির অ্যাডিশনাল ম্যানেজিং ডিরেক্টর (এএমডি) মো. ইউসুফ আলী, সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর মো. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন, শাহজালাল হোসেন লিমন, তানভীর আঞ্জুম ও প্রতীক কুমার মদক, চিফ মার্কেটিং অফিসার জোহেব আহমেদ এবং ইএইচএস অ্যান্ড সাসটেইনেবিলিটি বিভাগের প্রধান মো. মোস্তাফিজুর রহমান রাজুসহ অন্যরা।
পুরস্কার পাওয়ার প্রতিক্রিয়ায় ওয়ালটন হাই-টেকের এএমডি মো. ইউসুফ আলী বলেন, তিনটি ক্যাটাগরিতে ‘এসডিজি ব্র্যান্ড চ্যাম্পিয়ন অ্যাওয়ার্ড-২০২৬’ অর্জন করায় ওয়ালটন পরিবার অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত। তিনি এ পুরস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের শিল্প খাতের টেকসই উন্নয়নে জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) এবং সরকারের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি নীতির আলোকে ওয়ালটন উৎপাদন প্রক্রিয়া ও কর্মক্ষেত্রে পরিবেশবান্ধব সবুজ উন্নয়ন নীতি অনুসরণ করছে।
ইউসুফ আলী জানান, জিরো কার্বন নিঃসরণ, সাশ্রয়ী জ্বালানি ব্যবহার, পানি ও বিদ্যুৎ সাশ্রয় এবং নবায়নযোগ্য ক্লিন ও গ্রিন এনার্জি প্রকল্প বাস্তবায়নে কাজ করছে ওয়ালটন। এর অংশ হিসেবে গাজীপুরের চন্দ্রায় ওয়ালটন হেডকোয়ার্টার্সে নিজস্ব অর্থায়নে মোট ৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন সোলার পাওয়ার প্ল্যান্ট প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
ইতোমধ্যে ওয়ালটন হেডকোয়ার্টার্সে ১৯ দশমিক ২০ মেগাওয়াট ক্ষমতার সোলার পাওয়ার প্ল্যান্ট স্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে রুফটপ সোলার প্ল্যান্ট, গ্রাউন্ড মাউন্টেড সোলার প্ল্যান্ট এবং দেশের সর্ববৃহৎ ফ্লোটিং বা ভাসমান সোলার প্ল্যান্ট। এসব প্ল্যান্ট থেকে বছরে প্রায় ২২ হাজার ৪৫০ মেগাওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে, যা ওয়ালটনের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার ১৭ শতাংশ পূরণ করছে।
তিনি আরও জানান, শিল্প প্রক্রিয়ায় পানি সাশ্রয় ও পুনর্ব্যবহারে ইটিপির মাধ্যমে প্রক্রিয়াজাত করা পানির প্রায় ৭৫ শতাংশ নিরাপদভাবে পুনঃব্যবহার করা হচ্ছে। পাশাপাশি ই-বর্জ্য সংগ্রহ ও প্রক্রিয়াজাতকরণ, প্লাস্টিক পুনর্ব্যবহার ও আপসাইক্লিংয়ের মাধ্যমে পরিবেশ সুরক্ষায় কাজ করছে ওয়ালটন।
সাসটেইনেবল ব্র্যান্ড ইনিশিয়েটিভ ও বাংলাদেশ ব্র্যান্ড ফোরামের সহযোগিতায় এবং বাংলাদেশ ইনোভেশন কনক্লেভের উদ্যোগে এ পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। টেকসই উন্নয়নে অবদান রাখা প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্বীকৃতি দেওয়াই এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য।
এ বছর ১৯টি ক্যাটাগরিতে মোট ৪৫৭টি মনোনয়ন জমা পড়ে। কঠোর মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসিসহ ৫৯টি টেকসই উদ্যোগকে ‘এসডিজি ব্র্যান্ড চ্যাম্পিয়ন অ্যাওয়ার্ডস-২০২৬’ প্রদান করা হয়েছে।


