চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তরের (ডিএফপি) সাবেক মহাপরিচালক ফ্যাসিস্ট দোসর মোহাম্মদ লিয়াকত আলী খানের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে ও দুর্নীতি দমন কমিশন- দুদকে আবেদনপত্র জমা দেওয়া হয়েছে।
রবিবার জমা দেওয়া আবেদনপত্রে বলা হয়েছে, চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তরের (ডিএফপি) সাবেক মহাপরিচালক লিয়াকত আলী খান (স্থায়ী ঠিকানা: পিতাঃ হামিদুল্লাহ খান মাতা। মরহুম নিলুফা বেগম গ্রামঃ ও ডাকঃ মগধরা থানাঃ সন্দ্বীপ জেলাঃ চট্টগ্রাম। ঢাকার ঠিকানা; হাউজ-৭৪, রোড-১৭, ব্লক-ই বনানী, ঢাকা-১২১৩) একজন দুর্নীতিবাজ লোক। তিনি ২০১৫-২০১৬ সালে চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক থাকাকালিন সময়ে রাষ্ট্রের বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। তিনি পত্রিকার ছাড়পত্র ও মিডিয়া ভুক্তির আওতায় আনতে নগদ অর্থ গ্রহণ করতেন। ওয়েজ বোর্ড বাস্তবায়ন না করেও শুধু তাকে টাকা দিলে তিনি পত্রিকার বিজ্ঞাপন রেট বাড়িয়ে দিতেন। তিনি চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক থাকা অবস্থায় আওয়ামী লীগ সরকারের এজেন্ট হিসেবে কাজ করেছেন। আওয়ামী লীগের দলীয় প্রকাশনা তিনি সরকারের কোষাগারের টাকা দিয়ে করতেন। এই অর্থ দিয়ে তিনি রাজধানীর উত্তরায় ও বনানীতে করেছেন বিলাসবহুল বাড়ি। স্ত্রী-ছেলে-মেয়েকে গড়ে দিয়েছেন আমেরিকায় স্থায়ী নিবাস। ২০১৬ সালে তৎকালিন প্রধানমন্ত্রীর কার্যক্রম কাভারেজের জন্য এক সেট (একটি ডিজিটাল ক্যামেরা আর সেই ক্যামেরার কিছু যন্ত্রপাতি) ক্যামেরা আনতে জার্মানি যান চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তরের সেই সময়ের মহাপরিচালক মোহাম্মদ লিয়াকত আলী খান। যা নিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বিবিসিতে তৎকালিন সময়ে নিউজ হয়েছে।
অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, মোহাম্মদ লিয়াকত আলী খান আওয়ামী লীগ সরকারের নিয়োগপ্রাপ্ত সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আওয়ালের আপন খালাতো ভাই ও তার সম্পদের রক্ষক। কাজী হাবিবুল আওয়ালের অবৈধ উপর্জিত সব অর্থ মোহাম্মদ লিয়াকত আলী খানের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে হাবিবুল আওয়ালকে দিয়ে তদবির করে বিপুল পরিমাণ টাকা কামিয়েছে। কাজী হাবিবুল আওয়াল বর্তমানে জেলে রয়েছে। তাকে জেল থেকে বের করতে সব রকম লবিং করছে এই চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক লিয়াকত আলী খান।
লিয়াকত আলী খান দেশকে এখন অস্থিতিশীল করতে কাজ করছে। নিয়মিত আওয়ামী লীগের লোকজন নিয়ে রাজধানীতে মিটিং করছেন। সরকার বিরোধী আন্দোলন জোরদার করতে অর্থ ব্যয় করছেন। দেশের স্বার্থে তাকে আইনের আনা খুবই প্রয়োজন। তাই তার বিগত দিনের দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত সম্পদের অনুসন্ধান ও বর্তমান সময়ের গতিবিধি নজরে এনে তার বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়।
পড়ুন : শাহজালালে থাইল্যান্ড থেকে পাচারকৃত ১১ কেজি ৮০০ গ্রাম গাঁজাসহ ভারতীয় নাগরিক গ্রেফতার


