তুচ্ছ ঘটনায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার ছয়ফুল্লাকান্দি উত্তরপাড়া এলাকায় এরফানুর নেছা (৬০) নামের এক বৃদ্ধাকে হত্যা করেছে তার নাতি ও নাতবৌ। আজ মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) ব্রাহ্মণবাড়িয়া জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ৫ম আদালতের বিচারক ওমর ফারুকের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে স্বামী-স্ত্রী।
গ্রেপ্তারকৃত অভিযুকরা হলেন, নিহতের নাতি মো. রাফি আহাম্মেদ (২৫) এবং তার স্ত্রী মুনিয়া আফরিন ওরফে শাহানাজ বেগম (১৫)।
বাঞ্ছারামপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইয়াসিন জানান, গত শনিবার (২৫ জুলাই) সকাল ৭টা থেকে সাড়ে ১০টার মধ্যে ছয়ফুল্লাকান্দি বাজারসংলগ্ন রশিদ মিয়ার বাড়ির দ্বিতীয় তলার একটি কক্ষে এরফানুর নেছাকে রক্তাক্ত অবস্থায় মৃত পাওয়া যায়। তিনি ওই বাড়ির মালিক রশিদ মিয়ার স্ত্রী।ঘটনার পর পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল, স্ট্রোক করে পড়ে গিয়ে ফ্রিজের সঙ্গে আঘাত লেগে তার মৃত্যু হয়েছে। তবে ঘটনাস্থলের আলামত ও পরিস্থিতি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। এই ঘটনায় প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় সোমবার (২৭ জুলাই) বাঞ্ছারামপুর মডেল থানায় নিহতের ছেলে বুলবুল আহমেদ বাবু বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা রুজু করেন। মামলার পর পরই তদন্তকারী কর্মকর্তা তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে ছয়ফুল্লাকান্দি উত্তরপাড়া থেকে নিহতের অপর ছেলে জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে রাফি আহম্মেদ ও তার স্ত্রী তার স্ত্রী মুনিয়া আফরিনকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের কাছ থেকে নিহতের প্রায় ১ ভরি ১৫ আনা ৩ রতি ওজনের দুটি স্বর্ণের বালা এবং ৫ আনা ৯ পয়েন্ট ওজনের এক জোড়া স্বর্ণের কানের দুল উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতারকৃত দুজনকে মঙ্গলবার বিকেলে আদালতে প্রেরণ করা হলে তারা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।
তিনি জানান, তারা ম্যাজিস্ট্রেটকে দেওয়া জবানবন্দিতে জানায়, হত্যাকাণ্ডের দিন ভোরে কথা কাটাকাটির হয় এরফানুর নেছা ও নাতবৌ মুনিয়া আফরিনের মধ্যে। এসময় মুনিয়া দাদী শাশুড়ীকে গলায় ধাক্কা দিয়ে ফ্রিজের উপর ফেলে দেয়। এতে এরফানুর নেছার চোখে আঘাত লাগে। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার ভয়ে মুনিয়া আফরিন তার স্বামী রাফি আহাম্মেদকে সকালে বিষয়টি জানায়। পরে এই ঘটনার জেরে নাতি ও নাতি বউ পুনরায় এফরানুর নেছার উপর হামলা করে। এসময় বৃদ্ধা এফরানুর নেছার মাথায় প্রচন্ড আঘাত করা হলে তিনি নিহত হয়। ঘটনাটি আড়াল করতে হত্যাকারী নাতি ও তার বউ বৃদ্ধার শরীরে থাকা স্বর্ণালঙ্কার খুলে নিয়ে যায়, যেন ঘাটনাটি সবাই চুরির ভাবতে পারে।
তিনি আরও জানান, বাড়িটি তিনতলা ভবনে। ঘটনাটি দ্বিতীয় তলায় সংগঠিত হয়। এসময় সেখানে কেউ ছিল না, সবাই তৃতীয় তলায় ছিল।
পড়ুন:রাজধানীতে বসছে আরও ১ হাজার ‘প্লাগ অ্যান্ড প্লে’ ট্রাফিক ক্যামেরা
ইমি/


