চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার খরনা এলাকায় অবস্থিত হযরত শাহজাহান আউলিয়া এতিমখানা ও হেফজখানার পরিচালনা কমিটি নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে দানবাক্সের তালা ভেঙে টাকা উত্তোলনের ঘটনা ঘটেছে।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) বিকেলে এ ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় উত্তেজনার সৃষ্টি হলেও পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও গ্রাম পুলিশের উপস্থিতিতে দানবাক্সের টাকা গুনে রশিদের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে এতিমখানার পরিচালনা কমিটি নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার বিকেলে নিয়মিত দানবাক্স খোলার সময় দেখা যায়, পূর্বের তালার পাশাপাশি নতুন করে তালা লাগানো হয়েছে। এতে দানবাক্স খোলা সম্ভব না হওয়ায় স্থানীয় লোকজন ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে তালা ভেঙে ভেতরের অর্থ বের করা হয়। পরে টাকাগুলো হিসাব করে রশিদের মাধ্যমে এতিমখানা ও হেফজখানার সুপারের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়।
জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটির ছয়টি দানবাক্স থেকে প্রতি শুক্রবার সংগৃহীত অর্থ দিয়ে ৪৫ জন এতিম শিক্ষার্থীর খাবার, আবাসন, শিক্ষা ও অন্যান্য দৈনন্দিন ব্যয় নির্বাহ করা হয়। এ কারণে দানবাক্সের অর্থ উত্তোলন বিলম্বিত হলে এতিমদের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।
এদিকে, বর্তমান পরিচালনা কমিটির সভাপতি গোলাম মওলা ও সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম চৌধুরী শামীমের নেতৃত্বাধীন কমিটির বিরুদ্ধে জালিয়াতি ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন একাংশ স্থানীয় বাসিন্দা। শেখ মো. সোলাইমানসহ ৬০ থেকে ৭০ জন এলাকাবাসীর স্বাক্ষরযুক্ত একটি লিখিত অভিযোগ গত জুন মাসে জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে। অভিযোগে দাবি করা হয়, গত প্রায় ১৫ বছর ধরে প্রতিষ্ঠানটির কোনো অডিট করা হয়নি।
এ বিষয়ে এতিমখানা ও হেফজখানার সুপার জাকের উল্লাহ বলেন, “৪৫ জন এতিম শিশুর দৈনন্দিন ব্যয়ের বড় অংশই দানবাক্সের টাকার ওপর নির্ভরশীল। কমিটি-সংক্রান্ত জটিলতার কারণে যাতে এতিমদের খাবার ও পড়ালেখা ব্যাহত না হয়, সেজন্য স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও গ্রাম পুলিশের উপস্থিতিতে তালা ভেঙে দানবাক্সের টাকা রশিদের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।”
কচুয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য ওয়াহিদুল আলম খোকন বলেন, “প্রতি বছর ৯ মার্চ এখানে বার্ষিক ওরস অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠানটির সার্বিক সংকট নিরসনে আগামী ২৯ তারিখের মধ্যে নতুন কমিটি গঠনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত রয়েছে। কিন্তু একটি পক্ষ দানবাক্সে নতুন করে তালা লাগিয়ে পরিস্থিতি জটিল করে তোলে। পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে তালা ভেঙে দানবাক্সের টাকা যথাযথ রশিদের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।”
এ ঘটনায় এলাকায় নানা আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। তবে এতিমখানার স্বাভাবিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে দ্রুত কমিটি-সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
পড়ুন : যশোরে ঐতিহাসিক মুড়লী ইমাম বাড়ি পুনঃনির্মাণ ও দখলমুক্ত করার দাবিতে মানববন্ধন


