দীর্ঘদিন ধরে আমদানি ঋণপত্র (এলসি) খুলতে না পারায় কাঁচামাল সংকটে উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে দেশের অন্যতম শিল্পগোষ্ঠী এস আলম গ্রুপের আটটি কারখানা। এর জেরে চার হাজারের বেশি শ্রমিককে ছাঁটাই করেছে কর্তৃপক্ষ। বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার (৩০ ও ৩১ জুলাই) শ্রমিকদের ছাঁটাইয়ের নোটিশ দেওয়া হয়। আগামী ১ আগস্ট থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হচ্ছে।
ছাঁটাই হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ, এস আলম স্টিল, এস আলম কোল্ড রোল্ড স্টিলস, ইনফিনিটি সিআর স্ট্রিপস ইন্ডাস্ট্রিজ, এস আলম কোল্ড রোল্ড স্টিলস (এনওএফ), চেমন ইস্পাত অ্যান্ড গ্যালকো স্টিল, এস আলম ব্যাগ লিমিটেড, এস আলম সিমেন্ট ও এস আলম ভেজিটেবল অয়েল।
প্রতিষ্ঠান-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কারখানাগুলো স্থায়ীভাবে বন্ধ করা হয়নি। তবে কাঁচামাল সংকটের কারণে উৎপাদন সম্পূর্ণ বন্ধ থাকায় শ্রম আইন অনুযায়ী শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ করে ছাঁটাই করা হচ্ছে। কারখানার নিরাপত্তা ও যন্ত্রপাতির রক্ষণাবেক্ষণের জন্য সীমিতসংখ্যক কর্মকর্তা-কর্মচারী দায়িত্ব পালন করবেন।
ছাঁটাইয়ের খবর পেয়ে অনেক শ্রমিক কান্নায় ভেঙে পড়েন। বিশেষ করে রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজে কর্মরত শ্রমিকদের মধ্যে শোক ও হতাশার চিত্র দেখা যায়। দীর্ঘদিনের কর্মস্থল হারিয়ে অনেকে পরিবার নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
একজন শ্রমিক বলেন, “বছরের পর বছর এই কারখানায় কাজ করেছি। এখন হঠাৎ চাকরি চলে যাওয়ায় সংসার কীভাবে চলবে বুঝতে পারছি না। সন্তানদের পড়াশোনা, বাসাভাড়া ও নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ মেটানো নিয়েই এখন সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা।”
এস আলম গ্রুপের এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে নতুন এলসি খোলা সম্ভব না হওয়ায় বিদেশ থেকে কাঁচামাল আমদানি বন্ধ রয়েছে। মজুত কাঁচামাল দিয়ে এতদিন উৎপাদন চালানো হলেও বর্তমানে সেই মজুতও শেষ হয়ে গেছে। ফলে উৎপাদন চালিয়ে যাওয়া আর সম্ভব হয়নি।
তিনি জানান, গত এক থেকে দেড় বছর ধরে উৎপাদন সীমিত থাকলেও অনেক শ্রমিককে কাজ ছাড়াই নিয়মিত বেতন দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বর্তমান আর্থিক বাস্তবতায় সেই ব্যয় বহন করা প্রতিষ্ঠানের পক্ষে আর সম্ভব হচ্ছে না।
শিল্প বিশ্লেষকদের মতে, এলসি সংকট, ডলার সংকট এবং আমদানি ব্যাহত হওয়ার প্রভাব এখন বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর স্পষ্টভাবে পড়ছে। উৎপাদন কমে যাওয়ার পাশাপাশি কর্মসংস্থানও হুমকির মুখে পড়েছে। একসঙ্গে চার হাজারের বেশি শ্রমিকের চাকরি হারানোর ঘটনায় চট্টগ্রাম অঞ্চলের অর্থনীতি ও হাজারো পরিবারের জীবন-জীবিকায় নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে শ্রমিক সংগঠনের কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। একইভাবে এস আলম গ্রুপের শীর্ষ কর্তৃপক্ষও সংবাদ প্রকাশ পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো লিখিত বক্তব্য দেয়নি।
পড়ুন : প্রতিমন্ত্রীর ভিডিও ভাইরাল ইস্যুতে পঞ্চগড়ে সনাতনীদের বিক্ষোভ ও সংবাদ সম্মেলন


