বিজ্ঞাপন

থিয়েটার কর্মী হয়ে যাত্রা শিল্পের শক্তির জায়গাটাকে চিনিয়ে দিতে চাই : ধ্রুব জ্যোতি দে

বাদ্য যন্ত্রে বোল, মঞ্চে অসংখ্য চরিত্রের রোল আর রূপালি পর্দায় নিজের অভিনয় নিয়ে ব্যস্ততম সময় নিজেকে নিমগ্ন রাখছেন অভিনয়শিল্পী ধ্রুব জ্যোতি দে। থিয়েটারের শক্ত ভিত আর ওটিটির কাশেম চরিত্রের সাফল্য পেরিয়ে এবার বড় পর্দায় আসছেন এই অভিনেতা। সাম্প্রতিক ব্যস্ততা নিয়ে নাগরিক টিভি অনলাইনের সাথে একান্তে কথা বলেছেন তিনি।

প্রশ্ন: অতি সম্প্রতি বিকাশের সাংস্কৃতিক পথযাত্রায় যুক্ত হয়েছেন আপনি। কাজের ধরন ও উপস্থাপন নিয়ে বলেন।

উত্তর: সিলেটের অনেক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের সাংস্কৃতিক উৎকর্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে নানান কর্ম পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে বিকাশ। অনেক সাংস্কৃতিক শিল্পীর অংশগ্রহণে আমরা চেষ্টা করবো আমাদের পারফরম্যান্স দিয়ে তাদের জ্ঞান অর্জন ও মানসিক বিনোদনে ভূমিকা রাখতে। সেভাবেই চলছে আমাদের প্রস্তুতি।

প্রশ্ন: সিলেটের তারাপুর চা বাগানের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য থেকে আজকের এই অভিনয় যাত্রা, কীভাবে শুরু করলেন?

উত্তর: ১৯৮২ সালে আমার জন্ম সিলেটেই। সিলেটের টিলাগড় গোপালটিলায় আমার বেড়ে ওটা। আমার ছোট ভাই সে একজন নৃত্যশিল্পী। জাতীয় পর্যায়ে সে তিনবার প্রথম স্থান অর্জন করেছে। আমার দাদু শহীদ ড. ক্ষিতিশ চন্দ্র দে উনি ছিলেন সিলেট তারাপুর চা বাগানের ডাক্তার। ১৯৭১ সালের ১৮ এপ্রিল সিলেট তারাপুর চা বাগানে নৃশংস হত্যাকাণ্ড চালায় পাক হানাদার বাহিনী। সেখানেই আমার দাদুকে মেরে ফেলা হয়। স্বাধীনতার ৫৫ বছর হয়ে গেল এখনো পর্যন্ত আমরা সরকারীভাবে কোন স্বীকৃতি পাই নাই। সরকারিভাবে মুক্তিযোদ্ধা কোটা বা শহীদ কোটায় কোন নাম অন্তর্ভুক্ত হয়নি। আমার দিদিমা এখনো বেঁচে আছেন (বয়স ১০২) সেই আশা নিয়ে। আজকে আমি ছোটবেলা থেকে এতোটুক পর্যন্ত আসতে পেরেছি প্রথমত আমার বাবা-মা এর উৎসাহ এবং প্রচেষ্টায়। আর চলার পথে সহযাত্রী হয়ে আছে আমার স্ত্রী ও সহ শিল্পী মৌসুমী চৌধুরী মৌ। সংকট ও সম্ভাবনায় সে আমার পরম আশ্রয়। আমরা দুই ভাই। ছোট ভাই সে প্রবাসে থাকে, সেখানে সে চেষ্টা করে সাংস্কৃতিক কাজে যুক্ত থাকতে এবং তারা আমার সুখ দুঃখের সাথী। আমার সামনে সব সময় ডাল তলোয়ার হয়ে এগিয়ে আসে আমার পরিবারের আরেকটি অংশ আমার আত্মার আত্মীয় স্নেহাশিস প্রাণের ভাই রুমন মিয়া, তন্ময় নাথ তনু ও জয়ন্ত সরকারসহ আরো অনেকে।

বিজ্ঞাপন


প্রশ্ন: ‘নবশিখা নাট্যদল’ গঠনের পেছনের গল্প ও আপনার মঞ্চের দিনগুলোর কথা জানতে চাই।

উত্তর: সিলেটের নাট্যাঙ্গণে ৩০ বছরের পথচলা। আমার নাটকের শুরু সিলেটের নান্দিক নাট্যদলের মাধ্যমে। পরবর্তীতে মনে হলো নিজের মতো কিছু করতে চাই। সেই চিন্তাকে ধারণ করে ২০০৫ সালের ৮ মে আমি ও মৌসুমী চৌধুরী মৌ-এর মিলিত প্রচেষ্টায় কিছু তরুণ-তরুণীকে নিয়ে নবশিখা নাট্যদলের যাত্রা শুরু করি। আজকে নবশিখা নাট্যদলের প্রাণ বলতে বুঝি রুমন মিয়া, তন্ময় নাথ তনু, আব্দুর রাজ্জাক খান, তন্ময় বণিক, প্রান্ত বণিক, ধ্রুবেশ দাস অর্ণব, তামজিদ আশরাফ মমিত, মাহাদী হাসান জোয়ান, রাহুল সেন গুপ্তসহ আরো অনেককে নিয়ে। সবাই মিলে আমরা একটা পরিবার। আজকে প্রত্যেকে নিজ নিজ স্থানে সম্ভাবনাময় শিল্পী। সেটাই নবশিখার জন্য অনেক বড় প্রাপ্তি।

প্রশ্ন: বিগত সময়ে আপনি অনেক নাট্যোৎসবের আয়োজন করেছেন। সেগুলো নিয়ে স্মৃতিচারণ করুন…

উত্তর: ২০১০ সালের কথা। আমার জানা মতে, সিলেটে অনেক নাট্যোৎসব হয়েছে কিন্তু জাতীয় নাট্যোৎসব হয়নি। আমরা নবশিখা নাট্যদল জাতীয় নাট্যোৎসব করবো সিদ্ধান্ত নিলাম। তখনই আমাদের দল এর আমার তিন ভাই তন্ময় নাথ তনু, রুমন মিয়া, আব্দুর রাজ্জাক খান তারা বললো দাদা আমরা কোন স্পন্সর পাই বা না পাই আমরা এই জাতীয় নাট্যোৎসব করবো। আমরা আপনার সাথে আছি দাদা। ওদের কথায় আমি সাহস পেলাম। পূর্ণ সাহস পেলাম আমার স্ত্রী ও সহশিল্পী মৌসুমী চৌধুরী মৌ-এর কাছ থেকে। জাতীয় নাট্যোৎসব করার জন্য নেমে গেলাম। এই নাট্যোৎসবকে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত যারা সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে উৎসাহ যুগিয়েছেন তাদের সবার প্রতি চির কৃতজ্ঞ।

প্রশ্ন: সম্প্রতি ‘যাত্রা পালা’ নামে নতুন মঞ্চ নাটক আনতে যাচ্ছেন। সে বিষয়ে বলুন।

উত্তর: হ্যাঁ সেটা ঠিক। যাত্রাপালা হারিয়ে যাচ্ছে। সেটার ইতিহাসও হারানোর পথে। তবে এইরকম একটা বিষয় কে নিয়ে যিনি নাটক রচনা করেছেন, সেই নাট্যকার অপূর্ব কুমার কুন্ডু’র গবেষণা-পরিশ্রম ও নাটকীয় সংলাপ আমাদের হৃদয়ে দোলা দিয়েছে। আমরা উদ্বুদ্ধ হয়েছি থিয়েটার কর্মী হয়ে যাত্রা শিল্পমাধ্যমের শক্তির জায়গাটাকে চিনিয়ে দিতে। নাটকটির নির্দেশনায় শুভাশীষ দত্ত তন্ময়। আশা করছি, সেপ্টেম্বর-অক্টোবর নাগাদ আমরা নাটকটি মঞ্চ আনতে সক্ষম হবো।

প্রশ্ন: ওটিটিতে আপনি কাজ করছেন। সে বিষয়ে বলুন।

উত্তর: ওটিটিতে কাজের জন্য প্রথমে আমি ধন্যবাদ জানাই আমাদের নবশিখা নাট্যদলের স্নেহাশিস মাহাদী হাসান জোয়ানকে। সে বর্তমানে এসিষ্ট্যান্ট ডিরেক্টর হিসেব রইদ সিনেমায় কাজ করেছে। সে একদিন এসে বলল যে ভাই ওয়াহিদ আনাম ভাইয়ের একটা ওয়েব ফিল্ম সিলেটে শুটিং হবে আপনি কি কাজ করবেন। আমি একটু চিন্তা করেই হ্যাঁ বলে ফেললাম। সেখান থেকে কাজ শুরু।


প্রশ্ন: আপনি সম্প্রতি চলচ্চিত্রে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন। তার প্রস্তুতি কেমন?

উত্তর: প্রস্তুতিতো সবসময়ই। যখন যে চরিত্র আসে তার মনন এবং জীবনটাকে চিনতে হয়, চেনাতে হয়। সেটাকে ধারণ করে বাস্তবে বহিঃপ্রকাশ করতে হয়। আমার দেহের সাথে কায়ার সম্পর্কের মতো অভিনীত চরিত্রের সাথে আমার মানস সম্পর্ক সারাটা সময়।

প্রশ্ন: আপনিতো মূকাভিনয় শিল্পীও। সে বিষয়ে বলেন।

উত্তর: হ্যাঁ। চট্টগ্রামের রিজোয়ান রাজন ভাইয়ের প্রশিক্ষণে সিলেট বিভাগে আমরাই প্রথম মূকাভিনয় চর্চা শুরু করি। দুটো কর্মশালা আমরা করি। তৎকালীন মুকাভিনয় ফেডারেশনের চেয়ারম্যান জাহিদ রিপন ভাইয়ের উৎসাহে আমরা উদ্বুদ্ধ হই। নিয়মিত সে চর্চা বহমানের লক্ষ্যে আমরা কাজ করে চলেছি। মঞ্চ ওটিটি চলচ্চিত্রসহ সকল অভিনয় মাধ্যমে আমি সুযোগ পেলে মুকাভিনয়ের ব্যবহার করি। গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশন, গ্রাম থিয়েটারের সমান্তরাল আমরা মুকাভিনয় ফেডারেশনের গর্বিত সদস্য।

প্রশ্ন: সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কাজের স্বীকৃতি হিসেবে সিলেট বিভাগে ‘ধ্রুবতারা ইয়ুথ ডেভেলপমেন্ট অ্যাওয়ার্ড’ পেলেন, অনুভূতি কেমন?

উত্তর: প্রথমত যার কথা না বললেই না সে আমাদের অমিয় প্রাপন চক্রবর্তী অর্ক দাদা। যার কঠোর পরিশ্রম ও মেধায় আজকের এই ধ্রুবতারা ইয়ুথ ডেভেলপমেন্ট সামাজিক সংগঠন। আমার জানা মতে ধ্রুবতারা ইয়ুথ ডেভেলপমেন্ট অন্যান্য সামাজিক সংগঠন এর চেয়ে একটু আলাদা তাদের সাংগঠনিক দক্ষতায় এবং প্রয়োগ বিন্যাসে। অনুভূতি একটাই, উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্যে দিয়ে কাজ পাগল মানুষ আমি, আরো কাজ করে যেতে চাই।

পড়ুন : নিরাপদ সড়কের দাবিতে সবাই যেন সোচ্চার থাকেন : ইলিয়াস কাঞ্চন

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন