বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হচ্ছে ‘আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস-২০২৬’। দিবসটি উপলক্ষে সমতল ও পাহাড়ে বসবাসরত আদিবাসী জনগোষ্ঠী তাদের ন্যায্য অধিকার আদায়, ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতি ও ভাষা সংরক্ষণের দাবিতে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছে।
দিবসটি উপলক্ষে বাংলাদেশ আদিবাসী পার্টি বিএপি’র দিনাজপুর জেলা শাখার উদ্যোগে দিনাজপুর প্রেস ক্লাবে দিনব্যাপী নানা আয়োজন করা হয়। কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন বিএপি দিনাজপুর জেলা শাখার সভাপতি আরতি হাঁসদা ও সহ-সভাপতি।
এবারের আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবসের মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে “আদিবাসী ধাত্রীদের সম্মান, অধিকার ও রাষ্ট্রীয় দায়বদ্ধতা”। এই প্রতিপাদ্যকে স্বাগত জানিয়ে বিএপি দুর্গম পাহাড়ি ও প্রত্যন্ত সমতল অঞ্চলে আদিবাসী মা ও শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় নিয়োজিত ঐতিহ্যবাহী ধাত্রীদের রাষ্ট্রীয় ও প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতির জোর দাবি জানিয়েছে।
দিবসটি উপলক্ষে দেয়া এক বিবৃতিতে বিএপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক বাসিল বাসন বলেন, “স্বাধীনতার দীর্ঘ সময় পার হলেও বাংলাদেশের আদিবাসী জনগোষ্ঠী এখনও তাদের মৌলিক ও সাংবিধানিক স্বীকৃতি থেকে বঞ্চিত। সমতল ও পাহাড়ের আদিবাসীদের ঐতিহ্যগত ও পৈতৃক ভূমি বেদখল হয়ে যাচ্ছে। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা এসডিজি নিশ্চিত করতে হলে আদিবাসীদের পেছনে ফেলে রাখা যাবে না।
সরকারের কাছে বিএপি কয়েকটি সুনির্দিষ্ট দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছে। দাবিগুলো হলো:
সাংবিধানিক স্বীকৃত বাংলাদেশের সংবিধানে আদিবাসী হিসেবে জাতিগত ও সাংস্কৃতিক আত্মপরিচয়ের পূর্ণ স্বীকৃতি দিতে হবে।
সমতলের আদিবাসীদের পৈতৃক জমি ও বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য একটি স্বতন্ত্র ও কার্যকর ‘ভূমি কমিশন’ গঠন করতে হবে।
তাদের ঐতিহ্যগত চিকিৎসাক্ষণ সুরক্ষায় রাষ্ট্রীয় নীতি প্রণয়ন করতে হবে।
আদিবাসীদের বিপন্ন ভাষা ও সংস্কৃতি টিকিয়ে রাখতে প্রাথমিক স্তরে মাতৃভাষায় শিক্ষার পূর্ণ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে।
দিনাজপুর প্রেস ক্লাবে আয়োজিত কর্মসূচির মধ্যে ছিল বর্ণাঢ্য র্যালি, ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, সংবর্ধনা অনুষ্ঠান এবং বিশেষ আলোচনা সভা।
পড়ুন:জুয়া খেলায় নিষেধ করায় কলেজ শিক্ষককে কুপিয়ে জখম, হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন
ইমি/


