পরিবারের একমাত্র আয়ের উৎস ভ্যানগাড়িটি চুরি হয়ে যাওয়ার প্রায় সাত মাস পর নতুন ভ্যানগাড়ি পেলেন আনোয়ার হোসেন। মুনির ফাউন্ডেশনের যাকাত প্রকল্পের আওতায় তাঁর হাতে নতুন ভ্যানগাড়িটি তুলে দেওয়া হয়।
জানা গেছে, আনোয়ার হোসেনের পরিবারের জীবিকার প্রধান মাধ্যম ছিল একটি ভ্যানগাড়ি। প্রায় সাত মাস আগে পুরোনো ভ্যানটি চুরি হয়ে যাওয়ার পর তিনি পরিবার নিয়ে চরম আর্থিক সংকটে পড়েন। এ অবস্থায় জীবিকা নির্বাহের জন্য একটি ভ্যানগাড়ির সহায়তা চেয়ে মুনির ফাউন্ডেশনের কাছে আবেদন করেন তিনি।
আবেদনের পর মুনির ফাউন্ডেশনের একটি টিম সরেজমিনে আনোয়ার হোসেনের পারিবারিক ও আর্থিক পরিস্থিতি যাচাই করে। পরে তাঁকে স্বাবলম্বী করে তোলার লক্ষ্যে একটি নতুন ভ্যানগাড়ি তৈরি করে তাঁর হাতে তুলে দেওয়া হয়।
মুনির ফাউন্ডেশন দীর্ঘদিন ধরে অসহায় ও দরিদ্র মানুষের পাশে থেকে মানবিক সহায়তা দিয়ে আসছে। প্রতিষ্ঠানটির অন্যতম স্বাবলম্বীকরণমূলক উদ্যোগ ‘যাকাত প্রকল্প’। এ প্রকল্পের মাধ্যমে প্রয়োজন অনুযায়ী অসহায় ও দরিদ্র মানুষের স্থায়ী জীবিকার ব্যবস্থা করে তাদের স্বাবলম্বী করে তোলার চেষ্টা করা হয়। আনোয়ার হোসেনকে ভ্যানগাড়ি প্রদান প্রকল্পটির ৩৫তম কাজ বলে জানিয়েছে মুনির ফাউন্ডেশন।
নতুন ভ্যানগাড়ি পেয়ে আনন্দ প্রকাশ করে সুবিধাভোগী আনোয়ার হোসেন বলেন, “আমি এই ভ্যান পেয়ে অনেক খুশি। এখন এর মাধ্যমে আমি আমার পরিবারের ভরণপোষণ করতে পারব এবং স্বাভাবিকভাবে জীবনযাপন করতে পারব।”
ভ্যানগাড়ি প্রদানকালে উপস্থিত ছিলেন মুনির ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য তানভীরুল ইসলাম। তিনি বলেন, “একটি ভ্যান একটি পরিবারের জীবিকার মাধ্যম। এর মাধ্যমে একজন মানুষ তাঁর পরিবারের ভরণপোষণ সুন্দরভাবে বহন করতে পারেন। আমরা মুনির ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে ২০১৯ সাল থেকে অসহায় মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। আলহামদুলিল্লাহ, ভবিষ্যতে আমরা আরও বিস্তৃতভাবে কাজ করতে চাই। যারা আমাদের সহযোগিতা করেছেন, তাঁদের সবাইকে ধন্যবাদ জানাই।”
এ সময় মুনির ফাউন্ডেশনের সদস্য সায়েম উল্লাহও উপস্থিত ছিলেন।
মুনির ফাউন্ডেশনের প্রধান কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে ক্যান্সার ও কিডনিসহ জটিল রোগে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা সহায়তা প্রদান। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, গত সাত বছরে ২৮২ জন রোগীকে চিকিৎসা সহায়তা হিসেবে মোট প্রায় ১ কোটি টাকা অনুদান দেওয়া হয়েছে।
পড়ুন : নিরাপদ খাদ্যের ব্যাপারে সরকার সচেতন: কৃষিমন্ত্রী
সা/


