চট্টগ্রামের পটিয়ার আবদুস সোবহান রাহাত আলী উচ্চ বিদ্যালয়ে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল আশানুরূপ না হওয়ায় জরুরি নোটিশ জারি করেছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে শিক্ষার মানোন্নয়ন ও বিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে বেশ কিছু কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার বিদ্যালয়ের জারি করা জরুরি নোটিশে বলা হয়েছে, বিধিবহির্ভূত অনুরোধ ও তদবিরের কারণে ফেল করা সত্ত্বেও কয়েকজন শিক্ষার্থীকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া এবং বার্ষিক পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণ হওয়ার পর পরবর্তী শ্রেণিতে প্রমোশন দেওয়ার কারণে বিদ্যালয়ের এসএসসি-২০২৬ সালের ফলাফল আশানুরূপ হয়নি।
এ অবস্থায় ম্যানেজিং কমিটি, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও শিক্ষক পরিষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নতুন কিছু নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির কোনো শিক্ষার্থী শ্রেণিশিক্ষকের অনুমতি ছাড়া অনুপস্থিত থাকলে তাকে বার্ষিক বা নির্বাচনী পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হবে না।
এছাড়া কোনো শিক্ষার্থী নির্বাচনী পরীক্ষায় অকৃতকার্য হলে তাকে এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণের সুযোগ দেওয়া হবে না। একইভাবে অন্যান্য শ্রেণির কোনো শিক্ষার্থী বার্ষিক পরীক্ষায় অকৃতকার্য হলে তাকে পরবর্তী শ্রেণিতে প্রমোশন দেওয়া হবে না।
নোটিশে আরও সতর্ক করে বলা হয়েছে, কোনো শিক্ষার্থী বা অভিভাবক নিজে কিংবা অন্য কারও মাধ্যমে তদবির বা সুপারিশ করলে তার বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে এখন থেকে প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে পূর্ণাঙ্গ স্কুল ইউনিফর্ম পরিধান করে বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা মেনে চলতে কোনো শিক্ষার্থীর সমস্যা হলে তাকে স্বেচ্ছায় টিসি নিয়ে বিদ্যালয় ত্যাগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে আবদুস সোবহান রাহাত আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এটিএম তোহা জানান, কাঙ্ক্ষিত সফলতা আসেনি। যার কারণে শিক্ষার্থীদের ফলাফল আরও ভালো করার লক্ষ্যে এবং বিদ্যালয়ের সার্বিক শৃঙ্খলা ও শিক্ষার মানোন্নয়নে জরুরি নোটিশ জারি করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ভবিষ্যতে ভালো ফলাফল অর্জনের জন্য শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবক সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। নিয়ম-শৃঙ্খলার বিষয়ে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি, পড়াশোনায় মনোযোগ এবং পরীক্ষার ফলাফল উন্নয়নে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এমন সিদ্ধান্তে আগামী শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি, নিয়ম-শৃঙ্খলা ও একাডেমিক ফলাফলে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে আশা করছেন।
পড়ুন: রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর সহিংসতা অব্যাহত হয়েছে: আইআইএমএম
আর/


