পিরোজপুর সদর উপজেলার কদমতলা ইউনিয়নের উত্তর পোরগোলায় একটি বসতঘরে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় দেশীয় অস্ত্রের মুখে পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা, মোবাইল ফোন, মোটরসাইকেলসহ বিপুল পরিমাণ মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে ডাকাতরা।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) রাত আনুমানিক ৩টা ১৫ মিনিট থেকে ভোর ৪টা ৪৫ মিনিটের মধ্যে কদমতলা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর পোরগোলা গ্রামের খালিদ হাওলাদারের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, ৬ থেকে ৭ জনের একটি ডাকাত দল চাপাটি ও রামদাসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বাড়িতে প্রবেশ করে। ডাকাতরা রান্নাঘরের পূর্ব পাশের বেড়া/দেয়ালে সিঁদ কেটে ঘরে ঢোকে। এরপর খালিদ হাওলাদারের মা মোছা. শামীমা বেগমের (৫৫) কক্ষে প্রবেশ করে রামদা প্রদর্শন করে কোনো ধরনের শব্দ না করার জন্য হুমকি দেয়। পরে পাশের কক্ষে থাকা তাঁর বড় ছেলে আরিফুল ইসলামের (২৮) কক্ষের দরজা খুলে দিতে বলে।
একপর্যায়ে ডাকাতরা ঘরে থাকা চারজনের হাত বেঁধে কাঁথা দিয়ে ঢেকে দেয়। এরপর পরিবারের সদস্যদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ঘরে থাকা মূল্যবান মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।
ভুক্তভোগীদের দাবি, ডাকাতরা আনুমানিক ২৫ ভরি স্বর্ণালংকার, এক কেজি রৌপ্য, ৭টি মোবাইল ফোন, ৭০ হাজার টাকা, ৫টি হাতঘড়ি এবং দুটি মোটরসাইকেল নিয়ে গেছে। লুট হওয়া মোটরসাইকেল দুটির মধ্যে একটি নীল রঙের FZS V-2, যার নম্বর খুলনা মেট্রো-ল-১৩-৩১৩০ এবং অপরটি সবুজ রঙের FZS V-4, যার নম্বর পিরোজপুর-ল-১১-৪০৫৪।
এছাড়া ডাকাতরা পূবালী ব্যাংক ও ইসলামী ব্যাংকের দুটি চেক, দুটি এটিএম কার্ড এবং আনুমানিক ৭ থেকে ৮ লিটার মধুও নিয়ে যায় বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত ডাকাতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং লুট হওয়া মালামাল উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন।
এ ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তদন্ত শুরু করেছে বলে জানা গেছে।
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

