দেশের সার্বিক উন্নয়ন ও অগ্রগতি অর্জনে দক্ষ জনশক্তির কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন এমপি।
তিনি বলেছেন, কোমলমতি শিক্ষার্থীদের শুধু সনদসর্বস্ব বা প্রচলিত একাডেমিক শিক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বাস্তবমুখী ও কর্মমুখী শিক্ষার দিকে মনোযোগী হতে হবে। সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি ও কর্মমুখী শিক্ষায় গুরুত্ব দেওয়ার ওপরও জোর দেন তিনি।
মঙ্গলবার চট্টগ্রামের হাটহাজারীর মীর নোয়াবুল হক মেমোরিয়াল হাই স্কুলে নবনির্মিত ‘মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দীন একাডেমিক ভবন’-এর শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান উদ্বোধক হিসেবে বক্তব্য দিতে গিয়ে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন এমপি।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা, সাবেক মন্ত্রী, মেয়র ও রাষ্ট্রদূত মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দীন। অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধক হিসেবে নবনির্মিত একাডেমিক ভবনের ফলক উন্মোচন করেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন এমপি।
বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল বলেন, বর্তমান সময়ের চাহিদা ও বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় শিক্ষার্থীদের কারিগরি শিক্ষায় পারদর্শী করে তোলা অত্যন্ত জরুরি। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার দেশজুড়ে সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষা প্রসারে বৈপ্লবিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
তিনি আরও বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থাকে যেভাবে ধ্বংস করেছে, বর্তমান সরকার তা সংস্কার করে একটি আধুনিক ও টেকসই শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। উন্নত ও শিক্ষিত জাতি গঠনের পাশাপাশি দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল বলেন, ভবিষ্যৎ কর্মজীবনে সফল হতে হলে নিজেদের এখন থেকেই যোগ্য ও মানসম্মত নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
বক্তব্য শেষে বিদ্যালয় থেকে এসএসসি সমমান পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকারী শিক্ষার্থীকে উচ্চশিক্ষায় উৎসাহিত করতে আগামী এক বছরের সম্পূর্ণ শিক্ষা খরচ ব্যক্তিগত পক্ষ থেকে পুরস্কার হিসেবে প্রদানের ঘোষণা দেন প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা, সাবেক মন্ত্রী, চট্টগ্রামের মেয়র ও রাষ্ট্রদূত মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দীন হাটহাজারীর সঙ্গে নিজের স্মৃতির কথা তুলে ধরে আবেগঘন বক্তব্য দেন।
তিনি বলেন, হাটহাজারীর মাটির সঙ্গে তার রক্তের ও আত্মার সম্পর্ক রয়েছে। তিনি এই হাটহাজারী হাই স্কুলেই পড়াশোনা করেছেন। মাইলের পর মাইল হেঁটে কষ্ট করে স্কুলে যাওয়া-আসা করলেও পড়াশোনার প্রতি তাদের ছিল অগাধ শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও মনোযোগ।
অভিভাবক ও এলাকাবাসীর উদ্দেশ্যে সাবেক মন্ত্রী মীর নাছির বলেন, সন্তানদের সৎ ও নীতিবান হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। তারা যেন কোনো প্রকার অন্যায় বা অপকর্মের সঙ্গে জড়িয়ে না পড়ে, সেদিকে অভিভাবকদের সতর্ক থাকতে হবে। সততার সঙ্গে জীবনযাপন করলেই তারা জীবনে উন্নতি করতে পারবে এবং দেশের কল্যাণে নিজেদের আত্মনিয়োগ করতে পারবে।
তিনি বলেন, সততা ও সুশিক্ষায় শিক্ষিত তরুণ প্রজন্মই সমাজের প্রকৃত আলো।
সাবেক মন্ত্রী মীর নাছির দৃঢ়তার সঙ্গে আরও বলেন, সমাজে অন্যায় কাজের কোনো স্থান নেই। কোথাও কোনো অন্যায় বা দুর্নীতি দেখতে পেলে সরাসরি তার কিংবা প্রতিমন্ত্রী মীর হেলালের কাছে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি। এ ধরনের অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিক কঠোর আইনি প্রতিকারের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানান তিনি।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মুহাম্মদ সেলিম উদ্দীন রেজার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের দাতা সদস্য ব্যারিস্টার ইসরাত নাজনীন নাছির, হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মুমিন এবং শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর, চট্টগ্রামের নির্বাহী প্রকৌশলী তানভীর ইসলাম। পরে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে শিক্ষক,শিক্ষার্থী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের অংশগ্রহণে নবনির্মিত একাডেমিক ভবনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষ হয়।
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

