সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার ৫নং পূর্ব আলীরগাঁও ইউনিয়নের দিঘিরপার গ্রামে ভাইয়ের দায়ের কোপে আপন ভাই কলিম উল্লাহ (৫০) নিহত হয়েছে। নিহত কলিম উল্লাহ দিঘিরপার গ্রামের তুতি মিয়ার পুত্র। শনিবার বেলা ২টার দিকে দিঘীরপার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার সাথে জড়িত সয়ফুল্লাহ নিহতের আপন ভাই। ঘটনার পর পরই ঘাতক সয়ফুল্লাহ পালিয়ে যায়।
জানা যায়, নিহতের জনৈকা মেয়েকে সোমবার ধর্ষণ করে ঘাতক সয়ফুল্লাহর ছেলে জুবের আহমদ(১৮)। এ ঘটনায় স্থানীয়ভাবে বিচার সালিশেও কোন প্রতিকার বা ধর্ষকের বিরুদ্ধে কোন শাস্তি না হওয়াতে ভিকটিম নিজ কন্যাকে নিয়ে নিহত কলিম উল্লাহ শনিবার সকালে গোয়াইনঘাট থানায় আসেন এবং একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। বিষয়টি আমলে নিয়ে ওসি তাৎক্ষণিক পুলিশের টিম পাঠান অপরাধীর বাড়িতে। সেখানে গেলে বাদী পক্ষ ভিকটিমের বাবা জানতে পারেন আসামী জুবের হাওরে ক্ষেতে কাজ করছে। এসময় পুলিশ সদস্যদের নিয়ে নিহত কলিম উল্লাহ হাওরের দিকে রওনা হয়ে পুলিশ সদস্যদের পথ দেখিয়ে নিয়ে যেতে রওনা হলে ধারালো অস্ত্রহাতে পিছন থেকে দৌড়ে গিয়ে নিহত কলিম উল্লাহকে এলোপাতাড়ি কুপাতে থাকে সয়ফুল্লাহ। এসময় তার উপর্যপুরি ধারালো অস্ত্রের কুপে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন নিহত কলিম উল্লাহ। মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে তাকে গোয়াইনঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক কলিম উল্লাহকে মৃত ঘোষণা করেন।
পুলিশ লাশের সূরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য নিহতের লাশ সিলেটের ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ঘাতক সয়ফুল্লাহর ছেলে আমির উদ্দিনকে গ্রেফতার করেছে।
এ বিষয়ে গোয়াইনঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ মো. ওমর ফারুক মোড়ল জানান, তাৎক্ষণিক থানা পুলিশ সয়ফুল্লা’র ছেলে আমির উদ্দিনকে আটক করতে সক্ষম হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত অপরাপর আসামিদের আটকে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের পুরো ঘটনা তদন্ত করা হচ্ছে। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

