বিজ্ঞাপন

মেহেরপুরে ভয়ংকর বিষধর কালাচ সাপের উপদ্রব

মেহেরপুরের বিভিন্ন গ্রামে ভয়ংকর বিষধর কালাচ সাপের উপদ্রব বেড়েছে। রাতের আঁধারে বসতবাড়িতে ঢুকে পড়ছে এই সাপ। ঘুমন্ত অবস্থায় সাপের ছোবলে মৃত্যুর ঘটনাও ঘটছে। এতে আতঙ্কে রয়েছেন জেলার বিভিন্ন গ্রামের মানুষ। সোমবার ভোরে আনন্দবাস গ্রামে কালাচ সাপের ছোবলে তানভির নামে পাঁচ বছরের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গত দুই মাসে বিভিন্ন এলাকায় কালাচ সাপের উপস্থিতি ও দংশনের ঘটনায় উদ্বেগ বেড়েছে।

আনন্দবাস গ্রামের কৃষক রাশেদুল ইসলামের শিশুপুত্র তানভির পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বারান্দায় খাটের ওপর ঘুমিয়ে ছিল। সোমবার ভোরে ঘুমন্ত অবস্থায় তাকে সাপে ছোবল দেয়। পরিবারের লোকজন সাপটি দেখতে পেয়ে মারার চেষ্টা করেন। এ সময় সাপটি আহত হয়ে পাশের কোনো স্থানে লুকিয়ে পড়ে। পরে অনেক খোঁজাখুঁজি করেও সাপটির সন্ধান পাওয়া যায়নি।

গুরুতর আহত তানভিরকে দ্রুত চুয়াডাঙ্গা হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। পরিবারের সদস্যরা সাপটির রং ও আকার দেখে এটিকে কালাচ সাপ বলে ধারণা করছেন। শিশুটির মৃত্যুর ঘটনায় আনন্দবাসসহ আশপাশের গ্রামগুলোতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

স্থানীয়রা জানান, গত দুই মাস ধরে বিভিন্ন গ্রামে প্রায়ই কালাচ সাপ দেখা যাচ্ছে। বাড়ির উঠান, বারান্দা, রান্নাঘরসহ বসতবাড়ির আশপাশে সাপের উপস্থিতি লক্ষ্য করছেন তারা। মাঠে কাজ করতে কিংবা রাতের বেলায় বাড়ির বাইরে বের হতেও অনেকে ভয় পাচ্ছেন। সম্প্রতি বিভিন্ন এলাকায় কালাচ সাপের বাচ্চা ও পূর্ণবয়স্ক সাপ মারার ঘটনাও ঘটেছে।

কমনক্রেইট বা কালাচ, স্থানীয়ভাবে শিয়াড়চাঁদা নামে পরিচিত এই সাপ অত্যন্ত বিষধর। সাধারণত রাতের বেলায় সক্রিয় থাকে। ইঁদুরসহ বিভিন্ন ছোট প্রাণীর সন্ধানে সাপটি মানুষের বসতবাড়িতে ঢুকে পড়তে পারে। ঘুমন্ত অবস্থায় মানুষ অসাবধানতাবশত সাপের ওপর চাপ দিলে বা আঘাত করলে ছোবল দেওয়ার আশঙ্কা থাকে।

স্থানীয় সচেতন মানুষ বলছেন, কালাচ সাপের উপদ্রব থেকে রক্ষা পেতে বাড়ির আশপাশের ঝোপঝাড় ও আবর্জনা পরিষ্কার রাখতে হবে। একই সঙ্গে সাপের কামড় সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করতে হবে। সাপের দংশনের ঘটনা ঘটলে ওঝা বা কবিরাজের কাছে না গিয়ে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা।

গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. একরামুল হক বলেন, রাতে ঘুমন্ত মানুষকে কালাচ সাপ ছোবল দিতে পারে। তাই রাতে ও দিনে চলাচলের সময় সতর্ক থাকতে হবে। বাড়ির আশপাশের ঝোপঝাড় পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি সাপের কামড় সন্দেহ হলে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে।

গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, গত আট মাসে সর্পদংশনের শিকার ৭৭ জন সেখানে চিকিৎসা নিয়েছেন। তাদের মধ্যে বেশ কয়েকজন কালাচ সাপের দংশনের শিকার ছিলেন। হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই মারা গেছেন অন্তত ছয়জন।

সাপের উপদ্রব ও দংশনে মৃত্যুর ঘটনা ঠেকাতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর কার্যকর পদক্ষেপ এবং জনসচেতনতা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : মুন্সীগঞ্জে তিন স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে অভিযান, ৭৫ হাজার টাকা জরিমানা

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন