বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশের বিশাল বাজারে নজর জাপানি ব্যবসায়ীদের

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান অভ্যন্তরীণ বাজারে জাপানি ব্যবসায়ীদের আগ্রহ বাড়ছে বলে জানিয়েছেন জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশনের (জেটরো) বাংলাদেশস্থ চিফ রিপ্রেজেন্টেটিভ কাজুইকি কাতাওকা।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের বিশাল বাজারকে কেন্দ্র করে জাপানের বড় বড় ব্যবসায়ী ও প্রতিষ্ঠান বিনিয়োগের সুযোগ খুঁজছে। বর্তমানে জাপানের সাড়ে তিন শতাধিক ব্যবসায়ী ও প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে বিনিয়োগ করছে। বাংলাদেশে উৎপাদিত পণ্য অন্য দেশেও রপ্তানি হচ্ছে। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পেও জাপানের বিনিয়োগ ও কারিগরি সহযোগিতা রয়েছে।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে চট্টগ্রাম ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের সেমিনার হলে চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন জেটরোর চিফ রিপ্রেজেন্টেটিভ কাজুইকি কাতাওকা।

তিনি বলেন, শুধু রাজধানী ঢাকাতেই প্রায় তিন কোটি মানুষের বসবাস। মাথাপিছু আয় প্রায় ৫ হাজার মার্কিন ডলার। বাংলাদেশের এই বিশাল অভ্যন্তরীণ বাজার পৃথিবীর অনেক উন্নত ছোট দেশের অর্থনীতির চেয়েও বড়। ফলে বাংলাদেশের বাজারকে লক্ষ্য করে জাপানি ব্যবসায়ীদের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে।

জেটরো প্রধান আরও বলেন, বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (EPA) বাস্তবায়িত হলে দুই দেশের বিনিয়োগ ও আমদানি-রপ্তানিতে নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে। জাপানি কোম্পানিগুলো নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে জাপানি বিশেষায়িত অর্থনৈতিক অঞ্চলের পাশাপাশি চট্টগ্রামেও বিনিয়োগে আগ্রহী। বিশেষ করে জ্বালানি খাতে বিনিয়োগের সম্ভাবনা রয়েছে। বিনিয়োগ সম্প্রসারণে সরকারের পাশাপাশি বাংলাদেশের বেসরকারি খাতের সঙ্গেও কাজ করতে জাপান আগ্রহী বলেও জানান তিনি।

চট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার আলী আহমেদের সভাপতিত্বে সভায় চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক সঞ্চালনা করেন।

ইঞ্জিনিয়ার আলী আহমেদ বলেন, জাপান বাংলাদেশের অন্যতম উন্নয়ন সহযোগী। মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর, ঢাকা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল, মেট্রোরেলসহ বিভিন্ন মেগা প্রকল্পে জাপানের আর্থিক ও কারিগরি সহযোগিতা রয়েছে। বাংলাদেশের খাদ্যপণ্য, ডিটারজেন্ট ও পারসোনাল কসমেটিকস খাতেও জাপানি বিনিয়োগ রয়েছে।

তিনি চট্টগ্রামের বিশেষায়িত অর্থনৈতিক অঞ্চলে সেমিকন্ডাক্টরসহ সম্ভাবনাময় বিভিন্ন খাতে জাপানি কোম্পানিগুলোকে বিনিয়োগের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে দেশের তরুণ প্রজন্মের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে স্টার্টআপ এবং দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নে জাপানের সহযোগিতা কামনা করেন।

চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক বলেন, বাংলাদেশ অফুরন্ত সম্ভাবনার দেশ। চট্টগ্রামের কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে এ অঞ্চল ভবিষ্যতে দেশের বিনিয়োগ ও লজিস্টিকস হাবে পরিণত হবে। এই সম্ভাবনাকে টেকসইভাবে কাজে লাগিয়ে জাপানের মতো একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সরকার ও বেসরকারি খাতকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

তিনি বাংলাদেশের অন্যান্য মেগা প্রকল্পের পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও এলএনজি খাতেও জাপানি বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানান।

মতবিনিময় সভায় চেম্বারের সাবেক সহ-সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ তানভীর, চেম্বার পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার মো. গোলাম সরওয়ার, বিজিএমইএর সহ-সভাপতি মো. রফিক চৌধুরী, চট্টগ্রাম কাস্টমস এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. শওকত আলী, লুব-রেফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ ইউসুফ এবং জাপান বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সেক্রেটারি জেনারেল মারিয়া হাওলাদার বক্তব্য দেন।

এ সময় চেম্বারের সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. আমজাদ হোসেন চৌধুরী, পরিচালক আবু হায়দার চৌধুরী (আমজাদ), মো. আফসার হাসান চৌধুরী (জসিম), মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম, শহীদুল আলম ও মো. সেলিম নুর, বাংলাদেশ হাউস বিল্ডিং ফাইন্যান্স কর্পোরেশনের সাবেক চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মো. সেলিম উদ্দিন এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাণিজ্য অনুষদের ডিন ড. সালেহ জহুরসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় বক্তারা বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাক আমদানি বাড়ানোর পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানি, সোলার ব্যাটারি, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, এসএমই খাত এবং মানবসম্পদ উন্নয়নে জাপানি বিনিয়োগ ও সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জানান।

পড়ুন : বগুড়ায় কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেসের বগি লাইনচ্যুত

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন