গাইবান্ধা সদর উপজেলায় দিনের দিশারী মহিলা মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা ও পল্লী চিকিৎসক হাছান আলীর বিরুদ্ধে মেয়েকে জড়িয়ে মিথ্যা অভিযোগ তুলে মাদরাসায় হামলাা চালিয়েছে এক সাবেক ছাত্রীর পরিবার। এ ঘটনায় স্থানীয়দের হাতে আটক ওই ছাত্রীর পরিবারকে থানায় নিয়ে গেছে পুলিশ।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের পোড়াবাড়ি মোড় নামক স্থানে দিনের দিশারী মহিলা মাদরাসায় এ ঘটনা ঘটে।
মাদরাসা সংশ্লিষ্ট ও স্থানীয় সূত্র জানা গেছে, আজ শক্রবার সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে বোয়ালী ইউনিয়নের পশ্চিম রাধাকৃষ্ণপুর গ্রামের মৃত সবুর মিয়ার ছেলে তিবু মিয়া তার স্ত্রী ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের নিয়ে ওই দিনের দিশারী মহিলা মাদরাসায় যায় এবং উদ্দোশ্য প্রণোদিত ভাবে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটনার চেষ্টা করে। এসময় তার মেয়েও তাদের সঙ্গে ছিলেন।
স্থানীয়রা তাদের এমন আক্রমণাত্মক আচরণ দেখে মাদরাসা প্রাঙ্গনে আটক করেন। পরে সেখানে স্থানীয় ইউপি সদস্য ও চেয়ারম্যান উপস্থিত হন। এরমধ্যেই মাদরাসা সংশ্লিষ্টরা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে। পরে জরুরি সেবা নম্বরের ফোন পেয়ে সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। এসময় তাৎক্ষিণভাবে ঘটনার কোনো সত্যতা না থাকায় ঘটনাস্থলে থেকে ছাত্রীর বাবা-মাসহ সবাইকে থানায় নিয়ে যায় সদর থানা পুলিশ।
মাদরাসা সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, গত ১ মাসের আগে স্থানীয় আসাদুল নামের এক চিকিৎসক ছাত্রীর বাবা তিবু মিয়ার সাথে যোগসাজসে হাছান আলীকে জড়িয়ে ওই ছাত্রীর শরীরে হাত দেওয়ার মিথ্যা একটি গুজব ছড়ায়। পরে সেটির সূত্র ধরে মোটা অংকের টাকা দাবি করে তিবু মিয়া। সেই টাকা দিতে রাজি না হলে কয়েকদিন আগে সদর থানায় এজাহার দেওয়া হয়। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।
প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক হাছান আলীর ছেলে পল্লী চিকিৎসক নজরুল ইসলাম বলেন, মিথ্যা ঘটনা তৈরি করে আট- দশজন সাংবাদিক নিয়ে তারা (তিবুর পরিবার) মাদরাসায় এসে মব সৃষ্টি করার চেষ্টা করে। এসময় তিনি অভিযোগ করেন, মিথ্যা ঘটনা তৈরি করে আমার বাবার কাছে ছাত্রীর বাবা তিবু মিয়া মোস্তা নামের এক ব্যক্তির মাধ্যমে মেয়ের বিয়ের জন্য ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছিলো। বাবা টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় কয়েকদিন আগে থানায় ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ করা হয়। আমরা আইনে শ্রদ্ধাশীল তদন্তে যা হবে সেটাই মেনে নিবো।
এসময় তিনি আরও অভিযোগ করেন, কয়েকদিন আগে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ করলেও আজ সাংবাদিকদের কাছে মিথ্যা তথ্য দিয়ে সরাসরি ধর্ষণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হচ্ছে।
মাদরাসার প্রতিষ্টাতা পরিচালক অভিযুক্ত হাছান আলী সব অভিযোগ মিথ্যা দাবি করে বলেন, মেয়েটাকে সন্তানের মতো দেখতাম। গরীব বলে প্রতিমাসে ৫০০ টাকা করে কম নেওয়া হয়েছে। তার প্রাপ্য যদি এরকম হয় শুধু সৃষ্টিকর্তার কাছে বিচার দেবো, তিনি দেখবেন।
এ ব্যাপারে ছাত্রীর বাবা তিবু মিয়া বলেন, আমি আমার মেয়ের বিষয়ে আমি বিচার চাই। আমার মেয়েকে বিয়ে দিতে হবে।
গাইবান্ধা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজমুল হুদা বলেন, স্থানীয়দের হাতে আটক ছাত্রীর পরিবারকে থানায় আনা হয়েছে। থানায় মামলা দায়ের হবে। তার পর ওই ছাত্রীর মেডিকেল করা হবে। মেডিকেলে করার আগেই মামলা ক্যানো প্রশ্ন করলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান।
গাইবান্ধা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ মুত্তাজুল ইসলাম বলেন, ৯৯৯ নম্বরের ফোন পেয়ে আমিও ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। যেহেতু মেয়ের পরিবারের অভিযোগ রয়েছে সেজন্য তাদেরকে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। তাদেরকে থানায় নেওয়ার অন্য কারণ নেই। এসময় ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পড়ুন : চেকপোস্টে পিকআপ তল্লাশি, মিলল ইয়াবা-পিস্তল


